- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- ষষ্ঠ শ্রেণি
- সমাজ বিবর্তনের ইতিহাস
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
সমাজ জীবনে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব
মানুষের জীবন প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত। জীবনধারণের জন্য মানুষ যেমন পরিবেশের উপর প্রভাব বিস্তার করে, আবার অনেকক্ষেত্রে পরিবেশই তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য মানব সমাজের প্রকৃতি, আচার-আচরণ ও সংস্কৃতির উপর পরিবেশের প্রভাব স্পষ্ট।
নদী মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে দেয়। পৃথিবীর প্রধান সভ্যতাগুলো ছিল নদীভিত্তিক। যেমন- সিন্ধু নদের তীরে সিন্ধু সভ্যতা, নীল নদের তীরে মিশরীয় সভ্যতা, টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর তীরে মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতা গঙ্গা অববাহিকায় বিকাশ লাভ করেছে।
আবার কোনো অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর সেই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর পেশা নির্ভর করে। যেমন- খনি অঞ্চলে খনি-শ্রমিক ও শিল্প এলাকায় শিল্প-শ্রমিক বাস করে। নদীমাতৃক দেশ বলে বাংলাদেশের বেশিরভাগ অঞ্চলের যানবাহন হচ্ছে নৌকা, লঞ্চ ও স্টিমার। আবার কোনো কোনো এলাকার যানবাহন রেলগাড়ি, বাস, রিকশা ও গরুর গাড়ি ইত্যাদি।
কুটিরশিল্প বিকাশেও ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব রয়েছে। নদীবহুল এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ঢাকার ডেমরায় তাঁতিরা বাস করে এবং এখানেই বিখ্যাত ঢাকাই শাড়ি বোনা হয়। রাজশাহীতে রেশমি শাড়ি তৈরির জন্য বস্ত্রশিল্প গড়ে উঠেছে। কারণ এ অঞ্চলে তুঁতগাছ জন্মে এবং তুঁতগাছে রেশম কীট বাসা বাঁধে।
ফরিদপুরের খেজুরগুড়, মুক্তাগাছার মন্ডা, টাঙ্গাইলের শাড়ি, সুন্দরবনের মধু, সিলেটের শীতল পাটি প্রভৃতি ঐ সব এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত। সোনারগাঁও এর বিখ্যাত মসলিন শিল্পও এ অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবেশ ও কাঁচামালের সহজলভ্যতার জন্যই বিকাশ লাভ করেছিল।
পোশাক-পরিচ্ছদ ও ঘরবাড়ির বৈশিষ্ট্যও ভৌগোলিক পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত। শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষ গরম পশমি কাপড় পরে আর গ্রীষ্মপ্রধান এলাকার মানুষ পরে হালকা সুতি কাপড়। যেসব অঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিকম্প হয় সেখানকার মানুষ ঘরবাড়ি তৈরি করতে কাঠ বেশি ব্যবহার করে। যেসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত সেখানে সহজেই শিল্পায়ন ঘটে এবং নগর গড়ে ওঠে। নৌ-যোগাযোগ ভালো বলে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অনেক আগে থেকেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
সমাজ বিবর্তনের ইতিহাস - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

