• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • ষষ্ঠ শ্রেণি
  • সমাজ বিবর্তনের ইতিহাস
সমাজ বিবর্তনের ইতিহাস

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

সমাজ বিকাশের বিভিন্ন স্তর: শিকার ও সংগ্রহ, উদ্যানকৃষি ও পশুপালন সমাজ

সমাজ পরিবর্তনশীল। আজকের দিনে আমরা বাংলাদেশের যে সমাজকে দেখছি, আগের দিনের সমাজ কিন্তু এরকম ছিল না। আজকের সমাজ দীর্ঘকালের বিকাশধারার ফল। কালে কালে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে পুরানো সমাজ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানের আধুনিক সমাজ গঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে সমাজ আরও পরিবর্তন হবে। কালের সুদীর্ঘ যাত্রাপথে সমাজের পরিবর্তনকে ছয়টি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হচ্ছে: (১) শিকার ও সংগ্রহভিত্তিক সমাজ (২) উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজ (৩) পশুপালন সমাজ (৪) কৃষিভিত্তিক সমাজ (৫) শিল্পভিত্তিক সমাজ (৬) শিল্পবিপ্লব পরবর্তী সমাজ।

শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজ

শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজ হচ্ছে মানব সমাজের আদিমতম রূপ। তখন স্থায়ী কোনো ঘরবাড়ি ছিল না। মানুষ গুহায় ও বনজঙ্গলে বাস করত। প্রাকৃতিক সম্পদ ছিল প্রচুর। কিন্তু এ সম্পদকে ব্যবহার করে মানুষ খাদ্য উৎপাদন করতে শেখেনি। বনজঙ্গল থেকে তারা খাবার খুঁজে নিত আর শিকার করত। খাবারের খোঁজে তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াত।

ফলমূল সংগ্রহ, পশুপাখি ও মৎস্য শিকার ছিল আদিম সমাজের প্রধান কাজ। যখন শিকার মিলত তখন তারা খেতো, শিকার না মিললে উপোস থাকতে হতো। মেয়েরা ফলমূল সংগ্রহ করত আর পুরুষেরা শিকার করত। সেসময় পাথরই ছিল একমাত্র হাতিয়ার। এ কারণে এ সমাজকে প্রাগৈতিহাসিক বা প্রস্তরযুগের সমাজও বলা হয়। এ সমাজের উল্লেখযোগ্য হাতিয়ারগুলো হচ্ছে- খাঁজকাটা বল্লম, মাছ ধরার হারপুন এবং হাড়ের সুঁই ইত্যাদি। শীত ও রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষ গাছের ছাল ও লতাপাতা এবং পশুর চামড়া ব্যবহার করত। এ সমাজের মানুষ কোনো শক্তিশালী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেনি। মানুষকে তখন খাবারের সন্ধানে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটে বেড়াতে হতো।

উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজ

এ সমাজে খাদ্য সংগ্রহকারী মানুষ খাদ্য উৎপাদনকারীতে পরিণত হয়। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, মেয়েরাই কৃষিকাজের উদ্ভাবন করেছে। আদিম সমাজে পুরুষেরা যেত শিকারের সন্ধানে, ফলমূল আহরণের ভার ছিল মেয়েদের উপর। ফলমূল সংগ্রহ করতে গিয়ে কখনো তারা নিয়ে আসত বুনো গম ও বার্লি, মেটে আলু, কচুর মূল ও কন্দ। আস্তানার আশপাশে গম ও বার্লির যেসব দানা পড়ত তা থেকে গজিয়ে উঠত চারা গাছ। চারা গাছে পরে দেখা দিত শিষ ও দানা। এ ধরনের ঘটনা থেকে বীজ ছিটিয়ে খাওয়ার উপযোগী শস্য পাওয়ার ধারণা সৃষ্টি হয়। কৃষিকাজের এ পর্যায়কে বলা হয় উদ্যান চাষ। এক্ষেত্রে প্রথমে মেয়েরা তাদের বসবাসের আশপাশে পতিত জমিতে একটি লম্বা লাঠি বা পশুর শিং দিয়ে মাটি চিরে গর্তে বীজ ফেলে ফসল ও ফলমূল উৎপাদন করত। ফসল পাকলে পশুর চোয়ালের হাড় দিয়ে ফসল কাটত। তবে প্রয়োজনের বেশি ফসল তারা উৎপাদন করেনি। এক জায়গায় বারবার এমন ফসল ফলানো যেত না বলে তাদের জীবন ছিল যাযাবর প্রকৃতির।

পশুপালন সমাজ

সমাজ বিকাশের ধারায় পশুপালন শুরু হলে সমাজ আরও এগিয়ে যায়। এ সমাজের মানুষ খাদ্য সংগ্রহের পাশাপাশি পশুপালন করে জীবিকা নির্বাহ করত। শিকারি মানুষ প্রথমে কুকুরকে পোষ মানিয়ে গৃহপালিত পশুতে পরিণত করে। কুকুর ছিল বিশ্বস্ত প্রহরী ও শিকারের সঙ্গী। অনেক সময় বুনো ষাঁড়, ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া, গাধা প্রভৃতি পশু মানুষের হাতে ধরা পড়ত। সেগুলোকে তারা ধরে এনে বেঁধে রাখত। এগুলো ছিল তাদের জীবন্ত খাদ্যভাণ্ডার। শিকার না মিললে এগুলোকে বধ করে আহার করত। মানুষ ক্রমে বুঝতে পারে গরু, ছাগল ভেড়াকে না মেরে এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখলে বেশি লাভজনক হবে। যেমন- প্রতিদিন দুধ ও বছর বছর বাচ্চা পাওয়া যাবে, চামড়া ও পশমকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে। এভাবে সমাজে গৃহপালিত পশুর সংখ্যা বেড়ে তা মানুষের সম্পদে পরিণত হয়।

এ সমাজে মুদ্রার প্রচলন হয়নি। তবে দ্রব্য বিনিময় প্রথার উদ্ভব ঘটে। একজনের পণ্যের সঙ্গে অন্যজনের পশু কিংবা অন্য কিছু বদল করা হতো। তবে আদিম সমাজের মতো এ সমাজের মানুষও যাযাবর জীবনযাপন করত।

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ