• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • ষষ্ঠ শ্রেণি
  • কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি
কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

ফসল উৎপাদনের স্থানীয় কৃষি যন্ত্রপাতি ও ব্যবহার

ফসল উৎপাদনের জন্য স্থানীয় কৃষি যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে লাঙল, জোয়াল, মই ও কোদাল প্রধান। নিচে এগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলো:

লাঙল লাঙল দেশি লাঙল হিসাবেই অধিক পরিচিত। একটি কাঠকে বাঁকা করে কাঠের আগায় লোহার একটি ফলক বা ফাল লাগানো হয়। এই ফলকের সাহায্যেই লাঙল মাটি চিরে জমি চষে। লাঙলের উপরের অংশকে বলা হয় হাতল। এই হাতল চেপে ধরেই কৃষকেরা জমিতে লাঙল চালনা করেন।

লাঙলের মধ্যস্থানে একটি ছিদ্র করা হয়। এই ছিদ্রপথে প্রায় ৮ ফুট লম্বা একটি কাঠ যুক্ত করা হয়, যার আগায় ৪-৫টি দাঁত বা খাঁজ কাটা থাকে। এটাকে ঈশ বলা হয়। ঈশের খাঁজে রশি বেঁধে জোয়ালের সাথে লাঙল লাগানো হয়। ঈশ যাতে লাঙলের সাথে ভালোভাবে আবদ্ধ থাকে সেজন্য ছোট কাঠের একটি খিল ব্যবহার করা হয়।

লাঙল ব্যবহারের সুবিধা

১। লাঙল সহজলভ্য।
২। লাঙল তৈরি করা ও পরিচালনা সহজ;
৩। লাঙল ওজনে হালকা বলে বহন করা সহজ।

জোয়াল: জোয়াল হালের গরুর কাঁধে স্থাপন করে লাঙলের সাথে যুক্ত করা হয়। জোয়ালের দুই প্রান্তে দুটি ছিদ্র করা হয়। ছিদ্রপথে ছিদ্রের মাপ অনুযায়ী দুটি শক্ত কাঠি লাগানো হয়। জোয়াল গরুর কাঁধে রেখে কাঠি দুটির সাথে রশি বেঁধে লাঙলের সাথে জোড়া হয়।

জোয়ালের সুবিধা

১। বাঁশ বা কাঠ দিয়ে জোয়াল তৈরি করা যায়:
২। জোয়াল তৈরি করা সহজ:
৩। ওজনে হালকা।

মই: মই প্রধানত বাঁশ বা কাঠ দ্বারা তৈরি করা হয়। মোটা একটি বাঁশকে লম্বালম্বি ফালি করে দুই ভাগ করা হয়। অনেক মইয়ে তিনটি ফালি ব্যবহার করা হয়। এক জোড়া গরু হলে লম্বা হবে ৫ ফুট এবং দুই জোড়া গরু হলে লম্বা হবে সাড়ে সাত ফুট। মইয়ের কাজ হলো:

১। মাটির ঢেলা ভাঙা;
২। মাটি সমতল করা;
৩। আগাছা দমন ও আলাদা করা;
৪। বীজের অঙ্কুরোদগম সহজ করা।

কোদাল: কোদাল কৃষিকাজের একটি অতিপরিচিত যন্ত্র। জমির কোনা বা আইল ঘেঁষা ভূমি যেখানে লাঙলের ফলা স্পর্শ করে না তা কোদাল দিয়ে চাষ করা হয়। এছাড়া ছোট ছোট প্লটে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে সবজি চাষ করা হয়। কোদাল দ্বারা গর্ত করে ফলের চারা লাগানো হয়। কোদাল লোহার পাত দ্বারা তৈরি। লোহার পাত মুখের দিকে ২০ সেমি প্রস্থ হয় এবং ২৮ সেমি লম্বা হয়। প্রায় তিন ফুট লম্বা কাঠের হাতল লাগানো হয়।

কোদালের সুবিধা:
১। স্থানীয়ভাবে কামারশালায় তৈরি করা যায়;
২। মাটি আলগা করা, ঢেলা ভাঙ্গা ও আগাছা দমনেও কোদাল ব্যবহার করা যায়।

আঁচড়া বা বিদা: আঁচড়া বা বিদা কাঠ ও বাঁশ বা লোহার খিল দিয়ে তৈরি করা হয়। আঁচড়ার ১.৫ মি. লম্বা একটি দণ্ড থাকে। এই দণ্ডে ১০ সেমি পরপর ছিদ্র থাকে। ছিদ্রপথে বাঁশের বা লোহার খিল লাগানো হয়। এতে হাতল ও ঈশ লাগানো হয়।

আঁচড়ার প্রধান কাজ হলো:
১। ফসল পাতলা করা;
২। আগাছা দমন করা;
৩। মাটি আলগা করা।

নিড়ানি: ফসলের জমি হতে আগাছা পরিষ্কার ও মাটি আলগা করার কাজে নিড়ানি ব্যবহার করা হয়। এর আগার দিক অর্ধ-চন্দ্র আকৃতির লোহার পাত দিয়ে তৈরি করা হয়। আর গোড়ার দিকে সরু হয় এবং কাঠের বাঁট লাগানো হয়।

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ