- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- ষষ্ঠ শ্রেণি
- কৃষি উপকরণ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
পানি সেচের প্রয়োজনীয়তা
বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু এ বৃষ্টিপাত সবসময় কাজে লাগে না। তাই বৃষ্টির উপর নির্ভর করে ফসল চাষাবাদ করলে সবসময় ভালো ফলন পাওয়া যায় না। আমাদের দেশে বর্ষাকালে বেশি বৃষ্টি হলেও শীত মৌসুমে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। এ ছাড়া দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বর্ষাকালেও বৃষ্টিপাত কম হয়। ফলে পানির অভাবে ফসলের ফলন কম হয়। এ অবস্থায় ফসলের ফলন বাড়ানোর জন্য পানি সেচ দিতে হয়। প্রতিটি ফসলের বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়ে পানির চাহিদায় ভিন্নতা রয়েছে। আর এই চাহিদা অনুযায়ী ফসলে পানি সেচ দিতে হয়।
সেচের পানির উপকারিতা:
(১) উদ্ভিদ শিকড়ের সাহায্যে পানি পরিশোষণ করে।
(২) উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি পরিশোষণের সাথে পুষ্টি উপাদান আহরণ করে।
(৩) সেচের মাধ্যমে মাটির তাপমাত্রা ঠিক রাখা যায়।
(৪) অণুজীবের কার্যকারিতা ও পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি পায়।
অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন: জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হয়। জমি থেকে এই অতিরিক্ত পানি সরিয়ে ফেলাকেই পানি নিষ্কাশন বলে। জমিতে অতিরিক্ত পানি জমলে গাছের শিকড় অঞ্চলে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়, ফলে অনেক গাছ মারা যায়
আমরা উপরের চিত্রগুলো লক্ষ করি। কী দেখতে পাচ্ছি? পুকুরে পানি, নদীতে পানি ও খালে পানি। আমরা কি জানি, এ পানিতে কোন জীব বাস করে? আর এ জীব আমরা খেয়ে আমিষের চাহিদা পূরণ করে থাকি। উত্তরে আমরা বলব মাছ। তাহলে মাছ পানিতে চাষ করলে তার এ আবাস সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা দরকার। আমরা জানি, আমাদের বসবাসের জন্য যেমন বাড়ি ও বাড়ির পরিবেশ থাকা দরকার, তেমনি মাছের জন্য তার বসবাসের জায়গা পানির পরিবেশ সুন্দর থাকা দরকার। কাজেই এসো আমরা মাছ চাষে পানির গুণাগুণ ও তার প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করি।
পানির ভৌত গুণাগুণ ও মাছ চাষে তার প্রভাব: পানির ভৌত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে পুকুরের উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা করা যায়। মাছ চাষের পানির ভৌত গুণাগুণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১. পানির বর্ণ
পানির বর্ণ হালকা সবুজ হলে তা পুকুরের অধিক উৎপাদনশীলতা নির্দেশ করে। বিভিন্ন ধরনের জৈব ও অজৈব দ্রব্যের উপস্থিতির কারণে পানির বর্ণ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। রং দেখে পানির উৎপাদন শক্তি আন্দাজ করা যায়। পানির রং সবুজ বা বাদামি হলে বোঝা যাবে পানিতে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য আছে। পুকুরে নিয়মিত সার প্রয়োগ করলে উক্ত রং বজায় থাকবে।
২. পানির স্বচ্ছতা
পানির স্বচ্ছতা ২৫ সেন্টিমিটার বা তার কম হলে পুকুরের উৎপাদন ক্ষমতা বেশি হয়। পানিতে কনুই পর্যন্ত হাত ডুবানোর পর যদি হাতের তালু দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে মাছের জন্য বেশি খাদ্য নেই। তখন পুকুরে সার দিতে হয়।
৩. পানির গভীরতা: পানির গভীরতা মাছ চাষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানির গভীরতা কমপক্ষে ১.৫ মিটার থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ২ মিটার গভীরতা মাছ চাষের জন্য উত্তম। পানির গভীরতা খুব বেশি হলে সূর্যের আলো পানির গভীরে পৌঁছাতে পারে না। আবার পানির গভীরতা খুব কম হলে সূর্যের তাপে পানি গরম হয়ে ওঠে।
8. পানির তাপমাত্রা: পানির তাপমাত্রার উপরও মাছের বৃদ্ধি নির্ভর করে। শীতকালে মাছের বৃদ্ধি কম হয় এবং গরমকালে বেশি বাড়ে। যেমন: রুই জাতীয় মাছ চাষের জন্য ২৫০-৩০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা উত্তম।
৫. সূর্যালোক
সূর্যালোকের উপর খাদ্য উৎপাদন নির্ভর করে। তাই পুকুর পাড়ের বড় গাছপালা কেটে পানিতে সূর্যালোক প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে। পুকুরে ভাসমান কুচুরিপানা, শেওলা ও আগাছা ইত্যাদিও পানিতে সূর্যালোক প্রবেশে বাধার সৃষ্টি করে।
পানির রাসায়নিক গুণাগুণ ও মাছ চাষে তার প্রভাব মাছ চাষের পানির রাসায়নিক গুণাবলির মধ্যে কয়েকটি আলোচনা করা হলো:
১. দ্রবীভূত অক্সিজেন: জলজ উদ্ভিদ যে অক্সিজেন ছাড়ে তা পানিতে দ্রবীভূত হয়। বাতাস থেকেও কিছু অক্সিজেন সরাসরি পানিতে মিশে। পুকুরে অবস্থিত মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী এ অক্সিজেন দ্বারা শ্বাসকার্য চালায়। অক্সিজেনের অভাবে মাছ দলবদ্ধভাবে পানির উপর ভেসে বেড়ায়। একে মাছের খাবি খাওয়া বলে।
পানিতে অক্সিজেন হ্রাসের কারণ: (১) পানিতে গাছের পাতা ও ডালপালা পচা (২) কাঁচা গোবর বেশি পরিমাণে ব্যবহার (৩) আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকা (৪) পানি খুব ঘোলা হওয়া।
অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণের উপায়: পানির উপরিভাগে ঢেউ সৃষ্টি করে তাৎক্ষণিকভাবে পানিতে অক্সিজেনের অভাব পূরণ করা যায়। সাঁতার কেটে বা বাঁশ দিয়ে পানির উপর পিটিয়ে এ ঢেউ সৃষ্টি করা যায়।
২. দ্রবীভূত কার্বন ডাইঅক্সাইড কোনো কারণে পানিতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। পুকুরের তলায় অত্যধিক জৈব পদার্থ ও কাদা থাকলে পুকুরে এ গ্যাসের আধিক্য ঘটে।
৩. পানির পি-এইচ: পানি অম্লধর্মী না ক্ষারধর্মী, তা পি-এইচ মিটার দ্বারা পরিমাপ করা যায়। পি-এইচ ৭-এর কম হলে পানি অম্লীয়, ৭-এর বেশি হলে পানি ক্ষারীয় এবং ৭ হলে পানি নিরপেক্ষ। সামান্য ক্ষারধর্মী পানি মাছ চাষের জন্য ভালো। তবে পানির পি-এইচ ৬.৫-৮.৫ হলে পানি প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনে সহায়ক হয়।
৪. ফসফরাস: ফসফরাস পানিতে মাছের খাদ্যের পরিমাণ বাড়ায়।
৫. নাইট্রোজেন: নাইট্রোজেন জলজ অণুজীবের জন্য খুবই উপকারী। আর এ অণুজীবই মাছের প্রধান খাদ্য।
৬. পটাশিয়াম: মাছের খাদ্যচাহিদা পূরণের জন্য পানিতে পটাশ দিতে হয়। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম, মাছ চাষে পানির অনেক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
পানির গুণাগুণ এর উপর জলাশয়ে মাছের উৎপাদন নির্ভর করছে।
কৃষি উপকরণ - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

