- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- ষষ্ঠ শ্রেণি
- কৃষি ও জলবায়ু
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
কৃষিকাজে আবহাওয়া ও জলবায়ুর গুরুত্ব
কৃষিকাজ আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর নির্ভরশীল। কৃষি উৎপাদন আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহ দ্বারা প্রভাবিত হয়। এ পাঠে আমরা ফসল চাষ, মাছ চাষ ও গৃহপালিত পশু-পাখি পালনে আবহাওয়া ও জলবায়ুর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করব।
১। ফসল চাষ: বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশে সারা বছর নানা ধরনের ফসল জন্মে। বিভিন্ন ফসলের জন্য বিভিন্ন ধরনের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা বিদ্যমান থাকায় এ দেশ শস্য-শ্যামলা দেশে পরিণত হয়েছে। মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে এ দেশে প্রচুর ধান, পাট, শাকসবজি, ফলমূল জন্মে। অন্যদিকে শীতকালীন জলবায়ুর প্রভাবে নানা প্রকার ডাল, তৈলবীজ, শাকসবজি, মসলা ইত্যাদি রবি শস্য জন্মে। সুতরাং কৃষি উৎপাদনে জলবায়ুর প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে দৈনন্দিন কৃষিকাজ আবহাওয়ার উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়। জমি তৈরি, বীজ বপন, সার প্রয়োগ, পানিসেচ, ফসল কর্তন, রোগ ও পোকামাকড়ের বিস্তার ইত্যাদি আবহাওয়ার উপাদান দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। যেমন-বৃষ্টি হলে জমি চাষ করা যায় না, আবার রোপা আমন রোপণের জমি তৈরির জন্য বৃষ্টির প্রয়োজন।
২। মাছ চাষ: বাংলাদেশে মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ফলে নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ইত্যাদি পানিতে ভরে যায়। এসব জলাশয়ে প্রচুর মাছ উৎপাদিত হয়। মাছের উৎপাদন ও বংশবিস্তারে মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব খুবই বেশি।
৩। গৃহপালিত পশু-পাখি: বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু গরু, ছাগল, মহিষ, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি গৃহপালিত পশু-পাখি পালনের উপযোগী। পশু-পাখির খাদ্যের জন্য এদেশে বিভিন্ন ধরনের ঘাস, লতা, গুল্ম প্রচুর পরিমাণে জন্মে।
বর্তমানে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো অস্বাভাবিক আচরণ করছে। ফলে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে। এখন আমরা জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে জানব।
জলবায়ু পরিবর্তন: জলবায়ু পরিবর্তন বুঝতে হলে প্রথমে আমাদের গ্রিনহাউস প্রভাব বুঝতে হবে। শীতপ্রধান দেশে দামি সবজি, ফল গ্রিনহাউস বা কাচঘরে জন্মায়। কাঁচঘরের তাপমাত্রা বাইরের থেকে গরম থাকে, যা ঐ সব ফসলের জন্য অনুকূল। কাচঘরে যে আলো প্রবেশ করে তা বাইরে বের হতে পারে না বরং দুর্বল হয়ে তাপ উৎপাদন করে। ফলে কাচঘর গরম থাকে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলও গ্রিনহাউসের মতো অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠছে। মানুষের নানাবিধ কর্মকাণ্ডের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। এ গ্যাসগুলো তাপ শোষণ করে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ করে তুলছে। একে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে এবং এর জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে গ্রিন হাউস গ্যাস বলে। উনিশ শতকের শেষভাগ হতে গ্রিনহাউস প্রভাবের কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রের পানির উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে আবহাওয়া ও জলবায়ুর অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ করা যাচ্ছে। এটাই জলবায়ু পরিবর্তন।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ: শিল্পবিপ্লবের ফলে মানুষের ভোগ-বিলাসী জীবনযাপনের কারণে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, যানবাহন, গৃহকার্যে জৈব জ্বালানি পোড়াতে হয়। ফলে বাতাসে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। অন্যদিকে বিশ্বে প্রতিবছর জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের খাদ্য, আবাসন ইত্যাদির জন্য বিপুল পরিমাণ বনভূমি উজাড় হচ্ছে। ফলে গাছ কর্তৃক কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণের ভারসাম্য বজায় থাকছে না।
জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চল ও পর্বতের বরফ গলা, মরুকরণপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। ফলে অতিবৃষ্টি, খরা, লবণাক্ততা, বন্যা, বন্যার তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি, অতি গরম, অতি ঠাণ্ডা ইত্যাদি দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে।
কৃষি ও জলবায়ু - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

