• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • ষষ্ঠ শ্রেণি
  • কৃষি ও জলবায়ু
কৃষি ও জলবায়ু

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে উচ্চতা ও দূরত্ব, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এ দেশের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ বা সমভাবাপন্ন। পরিমিত বৃষ্টিপাত, মধ্যম শীতকাল ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। শীতকালে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত বায়ুতে তেমন জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে তেমন বৃষ্টিপাত হয় না। অন্য দিকে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত মৌসুমি বায়ুতে যথেষ্ট জলীয়বাষ্প থাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। তাছাড়া মার্চ-এপ্রিল মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ ঝড় ও ঘূর্ণিঝড় হতে দেখা যায়। এটি কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত। এ ঝড়ের সাথে প্রায়ই শিলাবৃষ্টি হয়ে থাকে। এছাড়া গ্রীষ্মকালে সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। যার ফলে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড় উপকূল এলাকায় আঘাত হানে। বাংলাদেশের জলবায়ুর কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো:

তাপমাত্রা: বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১° সেলসিয়াস। এ দেশে শীতকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১১° সেলসিয়াস হয়ে থাকে। জানুয়ারি শীতলতম মাস এবং গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ সেলসিয়াস হয়ে থাকে। শীতকালে দেশের দক্ষিণভাগে উপকূলের কাছাকাছি তাপমাত্রা বেশি থাকে এবং উত্তর দিকে তাপমাত্রা কম থাকে। শীতের স্থায়িত্ব ও তীব্রতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে ৫টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যথা- T., T., T,, T, ও T,। তবে T. অঞ্চলে শীতের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা সবচেয়ে কম, এক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে তা বেড়ে T, অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি হয়।

বৃষ্টিপাত: বাংলাদেশে অঞ্চলভেদে বৃষ্টিপাতের যথেষ্ট তারতম্য হয়ে থাকে। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১১০০ মিলিমিটার থেকে ৪৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ বৃষ্টিপাতের প্রায় ৯০ শতাংশ এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে হয়ে থাকে। শীতকালে অতি সামান্য বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দেশের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে। দেশের সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে এবং সর্বোচ্চ সিলেটের লালাখালে।

আর্দ্রতা: ঋতুভেদে এদেশে আর্দ্রতার বেশ পার্থক্য দেখা যায়। শীতকালে বায়ুতে জলীয়বাষ্প কম থাকে। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে বায়ু বেশ আর্দ্র থাকে। বায়ুতে এ আর্দ্রতা বৃষ্টিপাতের সাথে সম্পর্কযুক্ত। শীতকালে বাতাসের গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৭৩% থেকে ৮৪% হয়ে থাকে। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে যা ৮৩% থেকে ৮৯% পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ প্রায়ই অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়।

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ