- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'ক' দেশের সাধারণ নির্বাচনে 'X' দল নির্বাচিত হলেও ক্ষমতা হস্তান্তরে চক্রান্ত শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে দেশটির ছাত্র-জনতা, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবীসহ সকলেই আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনকে সঠিকভাবে পরিচালনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সুবিধার্থে একটি ছায়া সরকার গঠন করা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের কোন বিষয়টিকে প্রতিফলিত করেছে? তার কাঠামো ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত মুজিবনগর সরকারকে প্রতিফলিত করে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের লক্ষ্যে এ সরকার গঠন করা হয়। ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় 'মুজিবনগর সরকার' গঠিত হয়। ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এর সদস্য ছিলেন। ১০ই এপ্রিলই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা আদেশ ঘোষিত হয়। মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মেহেরপুরের সংশ্লিষ্ট এলাকাটির নাম দেওয়া হয় মুজিবনগর।
মুজিবনগর সরকারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এ সরকার তথা অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক। এ সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি)। এছাড়া তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী, এম মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী, এ.এইচ.এম কামারুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী এবং খন্দকার মোশতাক আহমেদকে পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী করা হয়। উদ্দীপকে 'ক' দেশের যে ছায়া 'সরকারের কথা বলা হয়েছে তা মুজিবনগর সরকারকেই নির্দেশ করেছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন এম, মনসুর আলী।
'অপারেশন সার্চলাইট' বলতে কী বোঝায়?
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিদের ওপর যে বর্বর গণহত্যা চালায় সে অভিযানের সাঙ্কেতিক নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'।
শীর্ষ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ১৯৭১ সালের ১৭ই মার্চ মেজর জেনারেল টিক্কা খান ও সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তা রাও ফরমান আলী বাঙালির ওপর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা প্রস্তুত করেন। ২৫শে মার্চ মধ্যরাতের কিছু আগে পাকিস্তানি সেনারা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ রাতে ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে পরিচালিত নৃশংস গণহত্যায় কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এ কারণে এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে '২৫শে মার্চের কালরাত' হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
"মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে উল্লিখিত বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল"-মতামত দাও।
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে মুজিবনগর সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। এ সরকার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী ইপিআর (বর্তমানে বিজিবি) বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সদস্য এবং দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার দেশকে ১১টি সেক্টর ও কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ করে। এ ছাড়া তিন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিনটি বিশেষ ফোর্স বা বাহিনী গঠন করা হয়। মুজিবনগর সরকারের আহ্বানেই প্রতিবেশি দেশ ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কূটনৈতিক সমর্থন দেয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করে।
এছাড়া মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কূটনীতিকদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে (যেমন- দিল্লি, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, স্টকহোম) পাঠায়। এর মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয়। সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্ব ও সাধারণ জনগণের সমর্থন' আদায়ের জন্য কাজ করেন। মুজিবনগর সরকারের এ ধরনের রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে ওঠে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

