- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য সহপাঠীদের সংগঠিত করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যুদ্ধে তাদের অনেকেই শহীদ হলেও দেশটি শত্রুমুক্ত হয়।
মাহমুদ যে সমাজের প্রতিনিধিত্ব করছে, মুক্তিযুদ্ধে সে সমাজের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের মাহমুদ যে সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেছে তা হলো ছাত্রসমাজ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ধীরে ধীরে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি বড় অংশ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। অনেক ছাত্র প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে এসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করে।
মুক্তিবাহিনীতে একক গোষ্ঠী হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। এই বাহিনীর অনিয়মিত শাখার এক বিরাট অংশও ছিল ছাত্র। মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়েই গঠন করা হয় মুজিব বাহিনী। তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ও কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীরাও সংগঠিত হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। উদ্দীপকে মাহমুদ ও তার সহপাঠীদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকারই অনুরূপ। তাই বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ ছাড়া স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হতো।

