• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

এক ঐতিহাসিক দিনে জামান সাহেব তার পরিবারের সদস্যদের সাথে টিভি দেখছিলেন। টিভির পর্দায় একজন নেতার বলিষ্ঠ কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছিল, "প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো....।" জামান সাহেব বললেন, "এই ভাষণটি ছিল আমাদের স্বাধীনতার দিক নির্দেশক।"

জামান সাহেবের বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

"এই ভাষণটি ছিল আমাদের স্বাধীনতার দিকনির্দেশক"- উদ্দীপকে জামান সাহেবের এ বক্তব্য ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের তাৎপর্যকে তুলে ধরে।

পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব ঐতিহাসিক ভাষণের নজির আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ তার মধ্যে অন্যতম। রাঙালির সংকটময়
পরিস্থিতিতে তিনি এ ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেন এবং সাধারণ জনগণকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দুঃশাসন, শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাস এবং নির্বাচনে জয়ের পরও ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রতারণার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এ ভাষণে অনিয়ম ও বথানার বেড়াজাল ছিন্ন করতে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা ও নির্দেশনা দেয়া হয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত জামান সাহেব টিভিতে যে মহান নেতার ভাষণ দেখেন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক এ ভাষণের মাধ্যমেই বাঙালি জাতি সম্মিলিতভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছিল। মূলত এ ভাষণেই বঙ্গবন্ধু প্রতিরোধ সংগ্রাম, যুদ্ধের কলা-কৌশল ও শত্রু মোকাবিলার উপায় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেন। এ ঘোষণা ও কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে সকল স্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নয় মাস যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন করে।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। উদ্দীপকের জামান সাহেবের বক্তব্যে এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()