• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

১৯৭০ সালে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। যুদ্ধ পরিচালনা ও বিশ্ব জনমত গড়ে তোলাই ছিল এ সরকারের উদ্দেশ্য। মুক্তিযুদ্ধে আপামর জনগোষ্ঠী ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিকটতম প্রতিবেশি দেশটির অবদান এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

মুক্তিযুদ্ধকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা কত ছিল?

মুক্তিযুদ্ধকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিল ৬ জন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

২৫শে মার্চ রাতের অভিযানকে 'অপারেশন সার্চলাইট' বলা হয়- ব্যাখ্যা করো।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা চালিয়ে বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পাকিস্তানি বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে তার নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন সার্চলাইট।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে অভিযানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা এ রাতে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানায় ইপিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, পুরনো ঢাকার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা করে নৃশংস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এজন্য বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৫শে মার্চ 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।

#

মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশি দেশটির অবদান মূল্যায়ন করো।

মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ তথা ভারত অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সুস্পষ্ট সমর্থন জানায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা বাংলাদেশ জুড়ে নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। ভারত মুক্তিযুদ্ধে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বহির্বিশ্বে এ বিষয়গুলো প্রচার করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এসময় ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে সহায়তা করে। এপ্রিলের শেষ দিকে ত্রিপুরা ও মেঘালয়সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের তরুণ-যুবকদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়।

পাকিস্তানি সেনাদের হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রায় ১ কোটি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত সরকার যুদ্ধের সময় জুড়ে তাদের আশ্রয় ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে। এছাড়া কলকাতায় অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। যুদ্ধের শেষ দিকে মুক্তিবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে মিলে যৌথ কমান্ড গঠন করে। এই যৌথবাহিনীর তীব্র আক্রমণের ফলেই কোণঠাসা হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। ফলে অর্জিত হয় বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়।

#

মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম স্বাধীনতার পথকে সুগম করে-যুক্তিসহ বুঝিয়ে লেখো।

'মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম স্বাধীনতার পথকে সুগম করে'-মন্তব্যটি যথার্থ।

১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে মুজিবনগ্র সরকার গঠিত হয়। এ সরকার পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী ইপিআর (পরে বিডিআর ও বর্তমানে বিজিবি) বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সদস্য এবং দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে এ সরকার দেশকে ১১ টি সেক্টর ও কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ করে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তিনটি বিশেষ ফোর্স বা বাহিনী গঠন করা হয়। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের আহ্বানে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থন দেয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করে।

এছাড়া মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে (যেমন- দিল্লি, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, স্টকহোম) কূটনীতিকদের পাঠায়। বিদেশের মিশন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এজন্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্ব ও সাধারণ জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। মুজিবনগর সরকারের এসব রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে জনমত তৈরি হয়। মূলত মুজিবনগর সরকারের সুদক্ষ পরিচালনার মাধ্যমেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।