- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মৌলিক গণতন্ত্র কী? ব্যাখ্যা কর।
মৌলিক গণতন্ত্র হলো পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খান কর্তৃক গৃহীত একটি অভিনব গণতন্ত্র। এ ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত ইউনিয়ন কাউন্সিল সদসা নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়। এটি ছিল মূলত একটি পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি।
ছকের 'খ' দ্বারা ঐতিহাসিক কোন আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে ছকের 'খ' দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দালনকে।
১৯৬৬ সালে ৫-৬ই ফেব্রুয়ারি ৬ দফা পেশ করা হয়। ৬ দফাভিত্তিক আন্দোলন ছিল বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম - বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে। এ ৬ দফা দ্বারা শেখ মুজিবুর রহমান - পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরেন। এ কর্মসূচি একদিকে বাঙালি জাতির চেতনামূলে বিস্ফোরণ ঘটায়, অন্যদিকে স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের 'অপশাসনের ভিত নাড়িয়ে দেয়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও সামগ্রিকভাবে এ ছয়দফা বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে গভীরভাবে উজ্জীবিত করে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ছকের 'খ' দ্বারা ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে 'ক' দ্বারা নির্দেশিত আন্দোলনের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপকের ছকে 'ক' দ্বারা ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বস্তুত ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির রাজনৈতিক জীবনে স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ। এ আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগের সফলতা বাঙালির পরবর্তী সকল আন্দোলন সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ১৯৫৩ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান গণপরিষদ কর্তৃক বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৫৬ সালে প্রণীত সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এভাবে ভাষা আন্দোলনের বিজয়ের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জনের মূলমন্ত্রটি শিখে যায়, তা হলো-সংঘবদ্ধভাবে আন্দোলন করলে সে আন্দোলনে সফলতা আসবেই। আর তাই বায়ান্ন পরবর্তী সকল আন্দোলন সংগ্রামেই ২১-এর চেতনা গভীরভাবে উজ্জীবিত ছিল। যেমন- ৫৪'র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৫৬-এর সংবিধান প্রণয়ন, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন ৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, '৭০-এর সাধারণ নির্বাচন প্রভৃতি সকল আন্দোলনের সম্মুখে থাকা অতন্ত্র চেতনা হিসেবে ভূমিকা - রেখেছিল ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন।
সুতরাং বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে উদ্দীপকে 'ক' দ্বারা নির্দেশিত ভাষা - আন্দোলনের ভূমিকা যে অত্যধিক ছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

