- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
দৃশ্য-১: বিংশ শতকের ষাটের দশকের শেষ দিকে পূর্ব বাংলার। সাধারণ জনগণ তাদের দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নামে। এই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক শহিদ হন।
দৃশ্য-২:
ক্রম | অঞ্চলের নাম | স্থল বাহিনীতে কর্মরত অফিসারের শতকরা হার | নৌবাহিনীতে কর্মরত অফিসারের শতকরা হার | বিমান বাহিনীতে কর্মরত অফিসারের শতকরা হার |
|---|---|---|---|---|
১ | পূ. পাকিস্তান | ১.৩ | ১.১ | .০৫ |
২ | প. পাকিস্তান | ৯৮.৭ | ৯৮.৯ | ৯৯.৯৫ |
উদ্দীপকের দৃশ্য-১-এ নির্দেশিত ঐতিহাসিক আন্দোলনটি ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের দৃশ্য-১ এ নির্দেশিত উক্ত ঐতিহাসিক আন্দোলনটি হলো ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান।
বস্তুত পাকিস্তান রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের উভয় অংশের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সংঘটিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনটি হলো ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথান। সকল গণতান্ত্রিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও মানুষ যার যার অবস্থান থেকে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়। আন্দোলনে যুক্ত হতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ নিহত হন। এসব ঘটনার প্রতিবাদে প্রদেশব্যাপী ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। অবশেষে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান শেখ মুজিবুর রহমানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
সুতরাং এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজয় ঘটে পাকিস্তানি সামরিক শাসনের এবং উদ্দীপকের দৃশ্য-১ এ ঐতিহাসিক এ আন্দোলনটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
যুক্তফ্রন্ট কী?
পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যে জোট গঠিত হয় ইতিহাসে তাই যুক্তফ্রন্ট।
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি হলো 'তমদ্দুন মজলিস'। ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিস' নামে এ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। এ সংগঠনটির উদ্দেশ্য ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা ও এজন্য আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলা। ১৫ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' শিরোনামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। এছাড়া তমদ্দুন মজলিস 'ভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে, যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
'উদ্দীপকের দৃশ্য-২-এ বৈষম্যের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা মোকাবিলায় ছয় দফা কর্মসূচি উত্থাপিত হয়েছিল'- পক্ষে যুক্তি দেখাও।
উদ্দীপকের দৃশ্য-২-এ পাকিস্তান আমলে বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তান সরকারের সামরিক শোষণের নিখুঁত চিত্র ফুটে উঠেছে। চিত্রিত এ বৈষম্যের প্রতিবাদ বা মোকাবিলায়ই ১৯৬৬ সালে ঘোষিত হয়েছিল ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি। বস্তুত পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম গভীর ও সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবিনামায়। এই ৬ দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সামগ্রিক অধিকারের দলিল। এ দলিলের ৬টি দাবির মধ্যে ২টি ছিল প্রশাসনিক, ৩টি ছিল অর্থনৈতিক এবং ১টি ছিল সামরিক। ১৯৪৭-১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এই ১৯ বছরে বাঙালির প্রতি পাকিস্তানের সামগ্রিক শোষণের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর ছিল। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দীর্ঘ ১৯ বছরের সে শোষণের আংশিক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে উদ্দীপকের দৃশ্য-২-এ। সুতরাং বৈষম্য মোকাবিলার জন্যই ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষিত হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

