- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'X' কোন আন্দোলনকে ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে ছক-১-এ ভাষা আন্দোলনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ভাষা আন্দোলন পশ্চিম পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক বৈষম্যের পটভূমিতে সংঘটিত হয়।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা, সংস্কৃতি কোনো কিছুরই মিল ছিল না। ফলে পাকিস্তান নামক এ নতুন রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী প্রথমেই বাঙালিকে শোষণ করার কৌশল হিসেবে বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হানে। ১৯৪৮ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। কিন্তু মুসলিম লীগের সকল সদস্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এ ঘটনায় পূর্ব বাংলার ছাত্রসমাজ ব্যাপক প্রতিবাদ করতে থাকে। ছাত্ররা ২৬ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে ছাত্র ধর্মঘট পালন করে এবং ২ মার্চ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। উপস্থিত ছাত্ররা তীব্র প্রতিবাদে না না ধ্বনি দিয়ে ওঠে। এসময় সারা পূর্ব পাকিস্তানেই ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৪৮ সালের ১৮ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এবং ১৯৫২ সালে খাজা নাজিমুদ্দীনের বক্তব্যে জিন্নাহর কথার প্রতিধ্বনি হলে ভাষা আন্দোলন নতুন মাত্রা ও সর্বাত্মক রূপ লাভ করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ছক-১ এ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি জাগ্রত করা হয়েছে। যার পটভূমি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক বৈষম্য।

