• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ঘটনা-১: ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে 'A' ও 'B' প্রদেশ নিয়ে ‘Z' রাষ্ট্র গঠিত হয়। 'A' প্রদেশের সংখ্যালঘু মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমটি ‘Z’ রাষ্ট্রে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত ছিল। 'B' প্রদেশের মানুষেরা জীবন দিয়ে দাবি আদায় করে।

ঘটনা-২: পঞ্চাশের দশকে একটি রাজনৈতিক মোর্চা পূর্ব বাংলায় একটি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য ২০টির বেশি দফা জনগণের সামনে তুলে ধরে। উক্ত মোর্চাটি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।

এনডিএফ- এর পূর্ণরূপ কী?

এনডিএফ- এর পূর্ণরূপ হলো- ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

আইয়ুব খান কেন মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থা চালু করেন?

সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র নামে একটি ব্যবস্থা চালু করেন। এ ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করা হয়। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়। ১৯৬৫ সালে ৮০ হাজার মেম্বারের ভোটে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এটি ছিল একটি পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি।

#

ঘটনা-২ পাকিস্তান আমলের কোন দফার সাথে সম্পর্কযুক্ত?

ঘটনা-২ পাকিস্তান আমলের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার সাথে সম্পর্কযুক্ত।।

পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর শাসক দল মুসলিম লীগ দীর্ঘদিন নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এছাড়া প্রাদেশিক সরকার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানা পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম সীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর চারটি দিল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জনগণের দ্বার্থ রক্ষায় ২১ দফা ঘোষণা করেন। ২১ দফাকে রানগণ সাদরে গ্রহণ করেন। ফলে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয় লাভ করে।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ দেখা যায়, পঞ্চাশের দশকে একটি রাজনৈতিক মোর্চা পূর্ব বাংলায় একটি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য ২০টির বেশি দফা জনগণের সামনে তুলে ধরে। উক্ত মোর্চাটি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। এসব বৈশিষ্ট্য ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, ঘটনা-২ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে নির্দেশ করে।

#

ঘটনা-১ এ ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি বাঙালির জাতীয়তা বিকাশের সাথে সম্পর্ক রয়েছে কি? বিশ্লেষণ কর।

ঘটনা-১ এ ইঙ্গিকৃত বিষয়টি অর্থাৎ ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয়তা বিকাশের সাথে সম্পর্ক রয়েছে।

১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান সরকার বাঙালিদের ওপর শাসন ও শোষণ করতে থাকে। এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম তারা পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করলে বাঙালিরা প্রতিবাদ জানায় এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রফিক, শফিকসহ অসংখ্য প্রাণের বিনিময় অর্জিত হয় আমাদের মাতৃভাষা। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাঙালিদের স্বাধিকারের চিন্তাচেতনার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ চেতনাই পরবর্তীতে বাঙালির প্রতিটি পণআন্দোলনে প্রেরণা জোগায় এবং জনগণের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথ সুগম করে। জাতীয়তাবাদের প্রেরণায় উদ্দীপ্ত বাঙালি জাতি ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। এ বিজয় ছিল শাসক দল মুসলিম লীগের বৈষম্যমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম সফল প্রতিরোধ। বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েই ১৯৬২'র ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে স্বাধিকারের প্রশ্নে চূড়ান্ত সাফল্য আসে। এরই ধারাবাহিকতায় বাঙালি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে। ফলে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় হয় বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের।

উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ দেখা যায়, ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে 'A' ও '৪' প্রদেশ নিয়ে 'Z' রাষ্ট্র গঠিত হয়। 'A' প্রদেশের সংখ্যালঘু মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমটি 'Z' রাষ্ট্রে স্বীকৃতি ছিল। 'B' প্রদেশের মানুষ জীবন দিয়ে দাবি আদায় করে। এসব বৈশিষ্ট্য ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, বাঙালি জাতীয়তা বিকাশে ভাষা আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।