• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

আওয়ামী মুসলিম লীগ

:

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

পেশায় একজন ব্যবসায়ী হয়েও রিপন সাহেব দেশের নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে বেশি সময় দেন। তিনি মনে করেন, একসময় তার দেশের শাসকবর্গ জনগণের ওপর যে অত্যাচার করেছিল তা শুধু জনগণের অসচেতনার কারণেই। অথচ যখন এ দেশের কতিপয় লোক একটি দল গঠন করে এবং বিভিন্ন কর্মসূচি যেমন- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, জনগণের সার্বভৌমত্ব, পাট, চা শিল্প জাতীয়করণ ইত্যাদি। ঘোষণা করে তখন শাসকবর্গের কর্তৃত্বে কড়া নড়ে।

"তৎকালীন সময়ে দেশের জনগণকে উক্ত দল রাজনৈতিক সচেতন করে তুলেছিল।"- বিশ্লেষণ কর।

তৎকালীন সময়ে দেশের জনগণকে আওয়ামী মুসলিম লীগ রাজনৈতিক সচেতন করে তুলেছিল। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থই সত্য বলে বিবেচিত হয়।

নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক ও গুরুত্ব পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলার জনগণ পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক চরিত্র এবং একই সঙ্গে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভুলগুলো বুঝতে পারে। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশ বাঙালি হওয়ার পরও রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসনিক দায়িত্ব, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকারসহ সর্বক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃত্ব শুরু করে। বাঙালি তথা পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষ সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত হতে থাকে। তখন রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের বিকাশ লক্ষ করা যায়। পাকিস্তান সরকারের অগণতান্ত্রিক মনোভার, পক্ষপাতমূলক সরকারি নীতি ও মুসলিম লীগের ভ্রান্তনীতির প্রতিবাদে ১৯৪৯ সালের জুন মাসে ঢাকায় আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। মুসলিম লীগের ভ্রান্ত ও অসহিষ্ণু নীতির কারণে পূর্ব বাংলার সর্বস্তরের জনগণ আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করার জন্য ১৯৫৫ সালে এ দলের নাম আওয়ামী লীগ রাখা হয়। ফলে ধর্ম পরিচয় নির্বিশেষে সকল বাঙালি জাতীয়তাবাদের ধারায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এসময়ে দলটি পূর্ব বাংলার জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ সকল স্বার্থ রক্ষায় একদিকে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রাখে, অন্যদিকে সংসদ ও প্রাদেশিক সরকারের সর্বত্র সোচ্চার হতে থাকে।

পরিশেষে প্রশ্নোক্ত উত্তিটি যথার্থ ও সঠিক হয়েছে বলে আমি মনে করি।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()