- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ যে শহরে বসবাস করেন সেই শহরে তার ধর্ম ছাড়াও আরো অন্যান্য ধর্মের লোক বাস করত। তিনি তাদের মধ্যে সম্ভাব, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে একটি সংবিধান তৈরি করেন। তার এ সংবিধান পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান।
ইসলামের প্রথম খলিফার নাম কী?
ইসলামের প্রথম খলিফা হলেন হযরত আবু বকর (রা)।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
দক্ষিণ আরবকে 'সুখি আরব ভূমি' বলা হয় কেন?
ধনসম্পদ ও রকমারি পণ্যদ্রব্যের জন্য প্রাচীনকালে একে 'সুখী আরব ভূমি' বা সৌভাগ্য আরব নামে অভিহিত করা হতো।
দক্ষিণ আরবের ইয়েমেন, হাজরামাউত ও ওমানে অনেক উর্বর ও বিস্তৃত উপত্যকা ছিল। এ উর্বর ভূখণ্ডগুলোতে কফি, নীল, খেজুর, শাকসবজি ও বিভিন্ন ফল ও ফসলের উৎপাদন হতো। এছাড়া ধান, গম, বার্লি, ভূট্টা, আতা, ডুমুর, পীচ ও আঙ্গুর এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হতো। এর ফলে আরবের এ অঞ্চল অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল।
'মদিনা সনদের' তিনটি শর্ত লিখ?
মদিনা সনদের তিনটি শর্ত লিখা হলো-
মহানবি (স) মদিনা ও আশেপাশের বসবাসকারী মুসলিম, ইহুদি, খ্রিষ্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে সম্ভাব গড়ে তোলার জন্য যে সনদ প্রণয়ন করে তাই ইসলামের ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। এ সনদের তিনটি শর্ত হলো-
১. সনদে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়সমূহ একটি সাধারণ জাতি গঠন করবে এবং নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।
২. মুহাম্মদ (স) হবে মদিনা প্রজাতন্ত্রের সভাপতি ও প্রধান বিচারক।
৩. মদিনা নগরী আক্রান্ত হলে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সকলে যুদ্ধ করবে এবং প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ ব্যয়ভার বহন করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষের শহরে বসবাসকারী ভিন্নধর্মীয় লোকদের নিয়ে সম্ভাব, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সংবিধান তৈরি করেন। যা মদিনা সনদকে নির্দেশ করে।
মদিনা সনদের ফলাফল আলোচনা কর।
মদিনা সনদের ফলাফল আলোচনা করা হলো-
ইসলামের ইতিহাসে মদিনা সনদের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। এ সনদের মাধ্যমে মহানবি (স)-এর সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে দূরদর্শিতা প্রতিফলিত হয়। এটিই এটিই ছিল ছিল পৃথিব পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত দলিল। তাই আধুনিক ঐতিহাসিকগণ একে "The first written constitution" হিসেবে আখ্যা দিয়ে আরবের ম্যাগনাকার্টা বলে অভিহিত করেছেন। এ সনদে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন স্বীকৃত হয়। যা ধর্মীয় স্বাধীনতার ইঙ্গিত প্রদান করে। এ সনদে প্রমাণিত হয় যে মহানবি (স) শুধু একজন ধর্মীয় নেতাই নন বরং তিনি আইন, বিচার, সামরিক ও প্রশাসনিক বিভাগের প্রধান। যা তার Supreme leadership এর পরিচয় বহন করে। এ সনদের ফলে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সর্বোপরি এ সনদের ফলে ইসলামের ব্যাপক প্রসার ও প্রচার ঘটে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মহানবি (স) মুসলমান ও অন্যান্য জাতির মধ্যে সম্ভাব, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম প্রতিষ্ঠায় একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন। তার এ সংবিধান পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান। যা মদিনার সনদকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, মদিনার সনদ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মুসলমানদের সাথে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। ফলে ইসলাম প্রসারের পথ সুগম হয়।

