• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

সালাম বিজ্ঞান বিভাগে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। পত্রিকায় বাংলাদেশ সংবিধান সংশোধন বিষয়ক একটি খবর দেখে সে তার বড় ভাই জহিরের কাছে জানতে চাইল সংবিধান কী? জহির তাকে বলল, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য মৌলিক কিছু নীতিমালা প্রয়োজন যা লিখিত বা অলিখিত থাকতে পারে। হযরত মুহাম্মদ (স) সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন।

উদ্দীপকে বিষয়টিতে মহানবি (স)-এর জীবনের কোন ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকের বিষয়টিতে মহানবি (স)-এর মদিনা সনদ প্রণয়নের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

হযরত মুহাম্মদ (স) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা থেকে ইয়াসরিবে হিজরত করার পর বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হন। রাসুল (স) অনুভব করেন যে, মক্কার মুহাজির আর স্থানীয় ইয়াসরিববাসীদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যের একটি সীমারেখা টানা প্রয়োজন।

মুহাজিররা কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবেন তার ব্যবস্থা থাকা দরকার। কুরাইশদের হাতে ক্ষতিগ্রস্ত মুহাজিরদের ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে এর সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।

মদিনার অমুসলিম ইহুদিদের সাথে মুসলমানদের সুসম্পর্ক সৃষ্টি কীভাবে হতে পারে, তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। মদিনার রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক রাষ্ট্রীয় রূপরেখা এবং মুসলিম জাতির ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার পথ তৈরি করা প্রয়োজন। এসব বিষয় সন্নিবেশ করে রাসুল (স) ইয়াসরিবের পৌত্তলিক, ইহুদি, আনসার ও মুহাজিরদের জন্য বিশ্বের ইতিহাসের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন করেন। এরই নাম 'মদিনা সনদ'।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

হযরত মুহাম্মদ (স) কত সালে হিজরত করেন?

হযরত মুহাম্মদ (স) ৬২২ খ্রিস্টাব্দে হিজরত করেন।

#

উকাজ মেলার বর্ণনা দাও।

প্রাক-ইসলামি আরবে মক্কার অদূরে উকাজ নামক স্থানে যে বার্ষিক মেলার আয়োজন করা হতো, তা-ই উকাজ মেলা নামে পরিচিত ছিল।

উকাজ মেলায় তৎকালীন আরবীয়দের সাংস্কৃতিক জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। এ মেলায় নানা দ্রব্য-সামগ্রীর কেনা-বেচা ছাড়াও কবিতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। শ্রেষ্ঠ সাতটি কবিতা পুরস্কৃত করা হতো এবং এগুলো সোনালি হরফে লিপিবদ্ধ করে কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো, যা 'সাবায়ে মুয়াল্লাকাত' নামে পরিচিত ছিল। অর্থাৎ উকাজ মেলা প্রাক-ইসলামি আরবের সাংস্কৃতিক চর্চার একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান ছিল।

#

উদ্দীপকের উল্লিখিত প্রথম লিখিত সংবিধানের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

ইসলামি আদর্শের আলোকে প্রণীত ঐতিহাসিক মদিনা সনদের ধারাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে তৎকালীন সমাজে আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

উদ্দীপকে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানের কথা বলা হয়েছে। যেটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এটি রাসুল (স)-এর ঐতিহাসিক মদিনা সনদ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের ঘটনারই প্রতিচ্ছবি।

মহানবি (স) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর লক্ষ করলেন মদিনার বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সর্বদা দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগেই থাকে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অনৈক্য ও হিংসাত্মক মনোভাব বিদ্যমান। মহানবি (স) উপলব্ধি করেন যে মদিনা ও আশপাশে বসবাসকারী ইহুদি, খ্রিষ্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে সম্ভাব ও সম্প্রীতি স্থাপন করা ছাড়া একটি সুসংহত রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়। তাই মদিনায় অবস্থিত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহানবি (স) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। মদিনায় বসবাসরত ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক, আনসার, মুহাজিরসহ সর্বসাধারণের অধিকার রক্ষায় মদিনা সনদের গুরুত্ব অপরিসীম। মদিনা সনদ মদিনার সকল মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করেছে। কেননা মদিনা সনদ মদিনাবাসীর মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে, শতধাবিভক্ত মদিনাবাসী মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পরস্পরকে বিপদে-আপদে পাশে থাকতে অনুপ্রাণিত করে। মদিনার মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানে ও ইসলামি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মদিনা সনদের গুরুত্ব অপরিসীম। মদিনা সনদের মাধ্যমে মদিনায় বসবাসরত সকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, জান-মালের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই বলা যায়, আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষায় মদিনা সনদের গুরুত্ব অপরিসীম।