- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রফিক মিয়া দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে ফেলে। তাই স্বাভাবিকভাবে তার চলাফেরা ও আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে বেকায়দায় পড়লে বিশিষ্ট শিল্পপতি আরিফ চৌধুরী নিজের প্রতিষ্ঠানে তার চাকরির ব্যবস্থা করেন এবং তার প্রতি সদয় আচরণ করার জন্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন। তাছাড়া তিনি রফিক মিয়ার সন্তানের পড়ালেখার খরচও বহন করার ঘোষণা দেন। কিন্তু ম্যানেজার প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির কথা চিন্তা করে তাকে কোনোরূপ ছাড় দেয় না। একটু ভুল হলেই উপহাস ও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে। রফিক মিয়া কোনো প্রতিবাদ না করে নীরবে অশ্রু ঝরায়।
দেশপ্রেম কী?
নিজের জন্মভূমি বা দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই দেশপ্রেম।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
জিকির কীভাবে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে? ব্যাখ্যা করো।
জিকিরের মাধ্যমে আত্মা পরিশুদ্ধ হয়।
আরবি 'জিকির' শব্দের অর্থ স্মরণ করা, মনে রাখা বা বর্ণনা করা। শরিয়তের পরিভাষায়, বান্দার দৈনন্দিন জীবনে সার্বক্ষণিক মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর স্মরণকে জিকির বলে। এটি মানুষের কলৰ বা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার একটি উত্তম উপায়। সাধারণত পাপের কারণে মানুষের আত্মা কলুষিত হয়। জিকিরের মাধ্যমে মানুষের অন্তরের সব কলুষতা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর সাথে বান্দার একটি অদৃশ্য যোগসূত্র তৈরি হয়। আল্লাহর অনুগ্রহে পরিতৃপ্ত হয়ে অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।
প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের আচরণে কিসের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের আচরণে প্রতিবন্ধীর প্রতি বিদ্রূপমূলক কাজের প্রতিফলন ঘটেছে।
যে ব্যক্তি জন্মগত বা অন্য কোন কারণে দৈহিকভাবে বিকলাজা অথবা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে অক্ষম তাকে প্রতিবন্ধী বলে। ইসলামে সুস্থ মানুষের মত প্রতিবন্ধীদেরও সব ধরনের অধিকার রয়েছে। তাদের মানবিক মর্যাদা লাভের অধিকার রয়েছে। আল্লাহ বলেন- নিশ্চয়ই আমি আদমের সন্তান-সন্ততিকে মর্যাদা দান করেছি (সুরা বনি ইসরাইল: ৭০)।
প্রতিবন্ধীরাও এই মর্যাদাবান মানুষের অন্তর্ভুক্ত। তাদের ঠাট্টা-বিদ্রূপ, হেয় প্রতিপন্ন বা খাটো করা যাবে না। তাদের ক্ষেত্রে এমন কোনো শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না, যাতে তারা কষ্ট পায়। কর্মক্ষেত্রে তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। অথচ ম্যানেজারের আচরণে এর ব্যত্যয় ঘটে।
উদ্দীপকের রফিক মিয়া দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। এতে তার স্বাভাবিক চলাফেরা ও আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে সে সমস্যায় পড়ে। তার এ করুণ অবস্থা দেখে শিল্পপতি আরিফ চৌধুরী তার প্রতি সহানুভূতি দেখান। নিজের প্রতিষ্ঠানে তাকে চাকরি দেন এবং তার সাথে ভালো ব্যবহার করতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন।
কিন্তু প্রতিষ্ঠানের গ্যানেজার রফিক মিয়ার সাথে ভালো আচরণ করে না। একটু ভুল হলেই তাকে উপহাস ও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে। তার এরূপ আচরণ রফিক মিয়ার জন্য মর্যাদাহানিকর। ম্যানেজারের এরূপ আচরণে প্রতিবন্ধীদের প্রতি তার অবজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
রফিক মিয়ার প্রতি আরিফ চৌধুরীর আচরণের মূল্যায়ন করো।
রফিক মিয়ার প্রতি আরিফ চৌধুরীর সহানুভূতিশীল আচরণ ইসলাম ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যথার্থ।
ইসলাম মানবতা ও শান্তির ধর্ম। সব মানুষ এক আল্লাহর সৃষ্টি। আর মানুষ হিসেবে সবার অধিকার ও মর্যাদা সমান। তাই একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের যেসব সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা প্রাপ্য, একজন প্রতিবন্ধীর ক্ষেত্রেও সেটি প্রযোজ্য। আমাদের সমাজে বিভিন্ন প্রকার প্রতিবন্ধী রয়েছে। কারো হাত বা পা নেই, আবার কারো চোখ নেই।
প্রতিবন্ধী বলে তাদেরকে ঠাট্টা-বিচুপ বা কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। তাদের সাথে ভালো আচরণ করা এবং তাদের কাজে সহযোগিতা করা আমাদের ধর্মীয় ও নৈতিক কর্তব্য। মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন আর মানুষের প্রতি অবজ্ঞা বা নিষ্ঠুর আচরণ করলে তিনি অসন্তুষ্ট হন। রাসুল (স) বলেন, "সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিজন; সুতরাং আল্লাহর কাছে সে ব্যক্তিই প্রিয়, যে তার পরিজনের প্রতি বেশি অনুগ্রহশীল" (মিশকাত)। তিনি আরো
বলেন, "তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া কর, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি (আল্লাহ) তোমাদের দয়া করবেন" (তিরমিযি)। ইসলামের এ নির্দেশনার বাস্তবায়ন আরিফ চৌধুরীর আচরণে ফুটে ওঠেছে।
উদ্দীপকের রফিক মিয়া দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে তার স্বাভাবিক চলাফেরা ও আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে বেকায়দায় পড়লে শিল্পপতি আরিফ চৌধুরী তাকে নিজের প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেন এবং তার প্রতি সদয় আচরণ করতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন। এমনকি তিনি রফিক মিয়ার সন্তানের পড়ালেখার খরচ বহন করারও ঘোষণা দেন। রফিক মিয়া ও তার পরিবারের প্রতি আরিফ চৌধুরীর এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড ধর্মীয় ও নৈতিকতার দিক থেকে প্রশংসনীয়।
পরিশেষে বলা যায়, একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য আরিফ চৌধুরীর মতো সমাজের ধনী ব্যক্তিদের মানুষের সেবা ও সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে।

