- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রাইয়ান ইলেকট্রিক মিডিয়ায় "ইসলামে সুফিবাদ ও তাসাউফ” শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান দেখল। অনুষ্ঠানটি দেখে সে উপলব্ধি করতে সক্ষম হলো যে মানুষের পরিশুদ্ধির উপরই জীবনের সফলতা নির্ভর করে। আর এজন্যই ইসলাম জীবন দর্শনে মানুষের আত্মশুদ্ধির উপর জোর তাগিদ দেয়।
রাইয়ানের উপলব্ধি উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
রাইয়ানের উপলব্ধি তথা মানুষের পরিশুদ্ধি বা তাসাউফের উপরই জীবনের সফলতা নির্ভর করে, যা যথার্থ ও যৌক্তিক।
তাসাউফ হলো ইসলামের অভ্যন্তরীণ দিক। এটি মূলত আত্মশুদ্ধি অর্জনের পথ বা সোপান। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আধ্যাত্বিক ধ্যান ও জ্ঞানের মাধ্যমে জানার প্রচেষ্টাকে তাসাউফ বলে। আর তাসাউফ অর্জনের মাধ্যমেই জীবনের সফলতা লাভ করা যায়।
উদ্দীপকে এই বিষয়টিই ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, রাইয়ান ইলেকট্রিক মিডিয়ায় 'ইসলামে সুফিবাদ ও তাসাউফ' শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান দেখল। যা দেখে সে উপলব্ধি করতে সক্ষম হলো যে, তাসাউফ বা মানুষের পরিশুদ্ধির উপরই জীবনের সফলতা নির্ভর করে। আর তাই ইসলাম জীবন দর্শনে মানুষের আত্মশুদ্ধির উপর জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মূলত ইসলামের প্রাথমিক যুগেই তাসাউফের উৎপত্তি হয়েছে। নবি-রাসুলগণ দিনের বেলায় দীন প্রচার করতেন এবং গভীর রাতে আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থেকে তাসাউফ সাধনা করতেন এবং এর মাধ্যমেই তারা আত্মশুদ্ধির চূড়ায় আরোহণ করতেন। তাসাউফের মাধ্যমেই কেবল মানুষ নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে পারে। আর এর ওপরেই মানুষের সার্বজনীন সফলতা নির্ভর করে।
তাসাউফের সাধনা ব্যক্তির সামগ্রিক পরিশুদ্ধতার নির্দেশক বলে একে স্থায়ী কল্যাণ ও সফলতা লাভের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যে কল্যাণ লাভ করেছে, সে নিজেকে পবিত্র করেছে। আর ধ্বংস হয়েছে সে, যে নিজের আত্মাকে অপবিত্র করেছে"। (সুরা আল-শামস: ৯-১০) সুতরাং তাসাউফ সম্পর্কে রাইয়ানের উপলব্ধিটি যথার্থ।

