• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন
ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মানিক সাহেব প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। ঈদ আসলে কেবলমাত্র শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেন কিন্তু সম্পদের হিসাব অনুযায়ী জাকাত, প্রদান করেন না। একইভাবে তার বন্ধু রতন নিজেকে হাজি হিসেবে দাবি করেন অথচ হক আদায়ে উদাসীন। এলাকার ইমাম সাহেব তাদের এমন মানসিকতা পরিবর্তনের পরামর্শ দেন।

হজের উদ্দেশ্য কী?

হজের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ, ঐক্য, সংহতি সৃষ্টি এবং সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক তৈরি করা।

হজের নানাবিধ উদ্দেশ্য রয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করা, ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টি এবং সুদৃঢ় ভাতৃত্বের সম্পর্ক তৈরি করা। হজের মাধ্যমে মুমিন বান্দাগণ আল্লাহর সান্নিধ্য লাভকরে। আর হজ বিশ্ব মুসলিমের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করাসহ সাম্যবাদী চেতনা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

জাকাতের খাত কয়টি?

জাকাতের খাত ৮টি।

#

মানিক সাহেবের কর্মকাণ্ড ইসলামের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

মানিক সাহেবের কর্মকান্ড ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক নয়।

ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে জাকাত একটি। ইসলামের এ স্তম্ভগুলোর যেকোনো একটিকেও অস্বীকার করা কোনো মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। এই স্তম্ভগুলোর তৃতীয়টি অর্থাৎ জাকাত অস্বীকারের দৃষ্টান্ত মানিক সাহেবের কাজে লক্ষণীয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মানিক সাহেব ঈদ আসলে কেবলমাত্র শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেন কিন্তু সম্পদের হিসাব অনুযায়ী জাকাত প্রদান করেন না। জাকাত ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ জানা সত্ত্বেও তিনি জাকাত দিতে অস্বীকার করেন। অথচ জাকাত হলো ইসলামের একটি ফরজ ইবাদত প্রত্যেক স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলিম ধনী ব্যক্তির ওপর জাকাত দেওয়া ফরজ। জাকাত অস্বীকারকারী মূলত কাফির।

এছাড়া জাকাত আদায় করা হরো মুমিনের বৈশিষ্ট্য। জাকাত দিয়ে মুমিন নিজের ইমানি দৃঢ়তার প্রমাণ করে। তাই জাকাত না দেওয়া হলো শিরকের নিদর্শন। আল্লাহ বলেছেন, 'মুশরিকদের জন্য ধ্বংস যারা জাকাত আদায় করে না এবং তারাই আখিরাত অস্বীকারকারী' (সুরা হা-মীম আস সেজদাহ ৬-৭) জনাব মানিক সাহেব জাকাত অস্বীকার করে মুশরিক ও কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাই তার কর্মকাণ্ড সঠিক নয়।

#

রতন সাহেবের হজ সম্পর্কিত মানসিকতার পরিনাম বিশ্লেষণ কর।

রতন সাহেবের হজ সম্পর্কিত মানসিকতার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।

হজ একটি ফরজ ইবাদত। সুস্থ, প্রাপ্ত বয়স্ক, স্বাধীন এবং প্রয়োজনীয় অর্থ সঙ্গতি আছে, এমন মুসলিমের ওপর আল্লাহ তায়ালা সারাজীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ করেছেন। হজ পালনের উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করা।

অন্যথায় হজ পালনের উদ্দেশ্য যদি এমন হয় যে, হজ আদায় করলে মানুষ হাজি বলে সম্মোধন করবে তাহলে তার ঐ হজ পালনের যৌক্তিকতা আর থাকে না। উদ্দীপকে রতন সাহেবের কর্মকাণ্ডে এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মানিক সাহেবের বন্ধু রতন নিজেকে হাজি হিসেবে দাবি করে; কিন্তু সে হজ আদায়ের ক্ষেত্রে উদাসীন। হজ পালনের উদ্দেশ্য যেমন আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করা তেমনি শরিয়তে বর্ণিত বিভিন্ন হক যথাযথ আদায় করাও আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের অন্যতম পন্থা। একজন হাজির উদ্দেশ্যই যদি হয় আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করা তাহলে তার দ্বারা আল্লাহর সকল হুকুম যথাযথ পালন সম্ভব হবে। সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে হাক্কুল্লাহ ও হাক্কুল ইবাদতকে যথাযথ পালন করবে। অর্থাৎ সে হক পালনের ক্ষেত্রে উদাসীন হবে না। আর হজ পালনের উদ্দেশ্য যদি এমন হয় যে, মানুষ হাজি বলে সম্মোধন করবে তাহলে তার দ্বারা আল্লাহর হুকুমগুলো যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ সে হক আদায়েও উদাসীন হবে। ফলে এরূপ ব্যক্তির হজ আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। আবার পরকালে তাকে তার ওপর অর্পিত হক সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত করা হবে। বস্তুত তার ইবাদতে আল্লাহর নেকট্য লাভের বিষয়টি অনুপস্থিত থাকায় কিয়ামতের দিনে সে চরমভাবে লাঞ্ছিত হবে এবং শাস্তির সম্মুখীন হবে।

সুতরাং শুধু হজ নয়; বরং সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করা এবং নিজের ওপর অর্পিত হকসমূহ যথাযথ আদায় করা।