- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- ফুলের বিবাহ (গদ্য)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মৌরি একদিন বাবার কাছে বায়না ধরে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে যাবে। বাবা একদিন ওকে নিয়ে বেড়াতে গেলে সে ভীষণ খুশি হয়। নানা জাতের ফুল-ফলের গাছের সমারোহ দেখে সে অভিভূত হয়ে যায়। দীর্ঘদিন সে যেসব ফুল-ফলের নাম শুনেছে সেগুলো আজ নিজ চোখে দেখে খুবই আনন্দিত হয়। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেয় বাড়ির আঙিনায় ছোট্ট একটা বাগান করবে।
“মৌরির মাঝে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াই যেন ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের মূল চেতনা।”—যুক্তিসহ বুঝিয়ে লিখ।
মৌরির মাঝে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াই প্রকৃতপক্ষে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের মূল চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মৌরি যখন বোটানিক্যাল গার্ডেনে বিভিন্ন ফুল-ফলের গাছ দেখে, তখন তার মনে আনন্দ ও মুগ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য তাকে এতটাই অনুপ্রাণিত করে যে, সে নিজের বাড়িতে একটি ছোট্ট বাগান করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ভালোলাগা এবং সৃজনশীল পরিকল্পনা প্রকৃতির প্রতি তার ভালোবাসার গভীরতা প্রকাশ করে।
‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের মূল চেতনা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে জীবন্ত ও কল্পনার ছোঁয়ায় আরও মধুর করে তোলা। গল্পে দেখা যায়, ফুল, গাছ, ভ্রমর, বাতাস প্রভৃতি প্রকৃতির উপাদানগুলোকে জীবন্ত চরিত্রে রূপদান করা হয়েছে। গল্পটি প্রকৃতির রূপ-গুণকে কেন্দ্র করে আবর্তিত, যেখানে ফুলের রূপ, সৌন্দর্য এবং ঘ্রাণ নিয়ে একটি কল্পিত বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এটি প্রকৃতির প্রতি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা এবং কল্পনার জগৎকে তুলে ধরে।
মৌরির অভিজ্ঞতা এই চেতনাকেই বাস্তব রূপ দেয়। প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে এসে সে অনুভব করে প্রকৃতির বিশালত্ব ও মাধুর্য। এই আনন্দ তাকে নতুন কিছু সৃষ্টির অনুপ্রেরণা দেয়, যা প্রকৃতিকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে ভালোবাসার প্রতীক।
তাই বলা যায়, মৌরির প্রতিক্রিয়া প্রকৃতি এবং ফুলের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা এবং সৃষ্টিশীল মনোভাবের একটি বাস্তব চিত্র, যা ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের কল্পনার চেতনাকেই জীবন্ত করে তোলে।

