- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- সুভা (গদ্য)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জিম চোখে দেখতে পায় না। পরিবারের অনেকে তাকে 'কানা' মনে করে তার প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করে। জিম নিজেকে বড় একা মনে করে। সংসারে সে যেন একটা জীবন্ত অভিশাপ। নিজের মাও তাকে তিরস্কার, গঞ্জনা করতে ছাড়ে না। কিন্তু বাবা মাহমুদ সাহেব জিমকে খুব ভালোবাসেন। তাকে সারাক্ষণ আগলে রাখার চেষ্টা করেন। তার অনুভূতিগুলো বোঝার চেষ্টা করেন।
"উদ্দীপকের মাহমুদ সাহেব 'সুভা' গল্পের বাণীকন্ঠেরই প্রতিরূপ”-উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ। প্রত্যেক বাবাই তার সন্তানকে ভালোবাসে। সন্তান যতই কুৎসিত, খারাপ, প্রতিবন্ধী হোক না কেন বাবা তাকে অনাদর, অবহেলা করে না। সন্তানের জন্য বাবার থাকে প্রাণভরা আশীর্বাদ ও ভালোবাসা। বিশেষ করে যারা একটু দুষ্টু প্রকৃতির ও শারীরিক দিক দিয়ে প্রতিবন্ধী তাদের প্রতি বাবার খেয়াল থাকে একটু বেশি।
যা উদ্দীপকের 'সুভা' গল্পের জিম ও সুভার বাবার মধ্যে লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের জিম একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কিশোর। পরিবারের সবাই তাকে অবহেলা-অনাদর করে। এমনকি জিমর গর্ভধারিণী মাও তাকে তিরস্কার গঞ্জনা করেন। কিন্তু জিম'র বাবা জিমকে খুব ভালোবাসেন। তাকে সারাক্ষণ আগলে রাখেন। তার অনুভূতিগুলো বোঝার চেষ্টা করেন। 'সুভা' গল্পের সুভাও সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোরী।
বাবা ছাড়া পরিবারের সবাই তাকে বোঝা মনে করেন। সুভার মা সুভাবে নিজের গর্ভের কলঙ্ক হিসেবে জ্ঞান করলেও বাবা তাকে অন্যদের থেকে একটু বেশিই ভালোবাসা দেয়। 'সুভা' গল্পের সুভার বাবা সুভাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সুভাকে নিয়ে নানা কটুকথা বললেও বাবা সুভাকে নিয়ে কোনো ধরনের তিরস্কার বা ঠাট্টা করেনি বরং সুভা যাতে সমাজের আর দশজন মানুষের মতো বাঁচতে পারে সেদিকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। উদ্দীপকের জিম'র বাবার ক্ষেত্রেও একই ধরনের মানসিকতা লক্ষ করা যায়।
জিমকে নিয়ে যেখানে সংসারের সবাই অবহেলা করেছে সেখানে মাহমুদ সাহেব সন্তানকে বেশি ভালোবাসা দিয়েছেন। সন্তানের যাতে কোনো ধরনের ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল দিয়েছেন। তাই সঙ্গত কারণেই বলা যায় যে, উদ্দীপকের মাহমুদ সাহেব 'সুভা' গল্পের বাণীকন্ঠেরই প্রতিরূপ।

