• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব রকিব একজন ভালো কৃষক হিসেবে গ্রামে পরিচিতি লাভ করেছেন। কিন্তু এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার ফসল নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় একজন বিত্তবান ব্যক্তি তাকে আর্থিকভাবে অনেক সহায়তা করেন, ফলে রকিব এই ব্যক্তিকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করে। অপরদিকে সোলেমান মেম্বার বাহ্যিকভাবে ইসলাম ধর্মের কিছু বিধিবিধান পালন করলেও, মনে মনে তিনি ইসলাম ধর্মকে অবজ্ঞার চোখে দেখেন। জনৈক আলেম তাকে একদিন বলেন, "ইসলাম হলো আল্লাহ তায়ালার প্রবর্তিত ধর্ম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।"

কুফর কী?

ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটির প্রতি অবিশ্বাস করাই
কুফর।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

শিরকের গুনাহ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন না কেন?

আল্লাহর ক্ষমতা, সভা ও গুণাবলির সাথে অংশীদার করা হয় বলে আল্লাহ তায়ালা শিরকের গুনাহ ক্ষমা করবেন না।

পৃথিবীতে যত রকমের জুলুম আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় জুলুম হলো শিরক করা। শিরক হলো মহান আল্লাহর একত্ববাদের সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে অংশীদার বা সমকক্ষ সাব্যস্ত করা। এটি জঘন্য গুনাহের কাজ। তাই মহান আল্লাহ শিরকের গুনাহ কখনোই ক্ষমা করবেন না।

#

রকিবের বিশ্বাসে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

রকিবের বিশ্বাসে শিরক প্রকাশ পেয়েছে।

শিরক অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা। ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা এবং তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলে। আল্লাহ তায়ালার সাথে শিরক চার ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো আল্লাহ তায়ালার গুণাবলিতে শিরক করা, যা রকিবের বিশ্বাসে ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকের রকিব প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হলে তার এলাকার বিত্তবান একজন ব্যক্তির থেকে আর্থিক সহায়তা পায়। এতে রকিব সেই ব্যক্তিকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করে, যা আল্লাহর গুণাবলির সাথে শিরক করার সমান। আল্লাহ তায়ালার গুণাবলিতে শিরক বলতে আল্লাহ তায়ালার 'পাশাপাশি অন্য কাউকে সৃষ্টিকর্তা বা রিজিকদাতা মনে করাকে বোঝায়। আর রকিব এ বিশ্বাসটিই লালন করছে। পরকালে তার এ কর্মের জন্য তাকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

#

সোলেমান মেম্বারের কর্মের কুফল ও পরিণতি বিশ্লেষণ করো।

সোলেমান মেম্বারের কর্মে নিফাক প্রকাশ পেয়েছে, যার পরিণতি খুবই ভয়াবহ।

নিফাক অর্থ কপটতা, দ্বিমুখীভাব ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন রেখে মুখে ইসলামকে স্বীকার করাকে নিফাক বলে। যারা এরূপ কাজ করে তাদেরকে মুনাফিক বলা হয়। মুনাফিকরা অন্তরের দিক থেকে কাফির ও অবাধ্য। কিন্তু বাহ্যিকভাবে তারা ইসলামকে স্বীকার করে এবং মুসলিমদের মতো ইবাদত করে। সোলেমান মেম্বারের আচরণে এ চরিরটিই ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকের, সোলেমান মেম্বার বাহ্যিকভাবে ইসলামের কিছু বিধান পালন করলেও মনে মনে ইসলামকে অবজ্ঞার চোখে দেখেন। তার এ স্বভাবে মুনাফিকের চরিত্র প্রকাশ পায়। আর এ ধরনের কাজের জন্য তিনি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। কারণ মুনাফিকদের মানুষ সন্দেহ ও ঘৃণার চোখে দেখে। ফলে তারা সমাজের মানুষের কাছে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়ে জীবন কাটায়। পরকালীন জীবনে তাদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে।' (সূরা আন-নিসা, আয়াত ২৪৫)

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সোলেমান মেম্বার অন্তরে ইসলামের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে মুনাফিকি করেছেন। এ জন্য তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবেন।