- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আফ্রিকা ভ্রমণে নিজাম বেশ কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর সাক্ষাতে। জানেন যে, তারা এক সময় ছিল বর্বর, সৃষ্টিকর্তার কোনো বিধান মানত না। পরে কিছু লোক এসে তাদেরকে ঐশ্বরিক বিধানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ফলে তারা বর্বর থেকে হয়ে ওঠে সভ্য। তিনি সালাহ নামে। একজনের সাক্ষাতকার নেন। সালাহ বলেন, আজকের লোকেরা আবার সৃষ্টিকর্তার বিধান ভুলে যেতে বসেছে, যার ফলে চারদিকে এত অন্যায়। আমি মনে করি, এদের সংশোধনের জন্য তাদের মতো লোক আসাটা খুবই জরুরি।
শিরকের বিপরীত কোনটি?
শিরকের বিপরীত হলো তাওহিদ।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'আর তাদের সামনে বারযাখ থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।'- আয়াতটি ব্যাখ্যা করো।
'আর তাদের সামনে বারযাখ থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত'- এ আয়াতটির মাধ্যমে কবরের জীবনকে নির্দেশ করা হয়েছে।
আখিরাত হলো পরকাল। মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলে। আখিরাত বা পরকালের বেশ কয়েকটি স্তর বা পর্যায় রয়েছে। কবরের জীবন এর মধ্যে একটি। মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়কে কবরের জীবন বলা হয়। এর অপর নাম বারযাখ। আলোচ্য আয়াতটিতে এ বিষয়টির কথাই বলা হয়েছে।
নিজামের সাথে আফ্রিকার লোকদের সাক্ষাতে কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
নিজামের সাথে আফ্রিকার লোকদের সাক্ষাতের মাধ্যমে রিসালাতের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
রিসালাত শব্দের অর্থ বার্তা, চিঠি পৌছানো, পয়গাম, সংবাদ বা কোনো ভালো কাজের দায়িত্ব বহন করা। মহান আল্লাহ মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে রিসালাতের বাণী পাঠিয়েছেন। নিজাম ও আফ্রিকার লোকদের মাধ্যমে এ বিষয়টিরই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
নিজাম আফ্রিকা গিয়ে জানতে পারে সেখানকার কয়েকটি জাতিগোষ্ঠী সৃষ্টিকর্তার কোনো বিধান মানত না। পরে কিছু লোক এসে তাদেরকে ঐশ্বরিক বিধানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। ফলে তারা বর্বর থেকে হয়ে ওঠে সভ্য। রিসালাতের ক্ষেত্রেই এ বিষয়টি প্রযোজ্য। কেননা মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলে। মানুষের জ্ঞান সীমাবদ্ধ। এ স্বল্প জ্ঞানের মাধ্যমে তারা আল্লাহ তায়ালার পূর্ণ পরিচয় লাভ করতে পারে না। ফলে তারা নানা ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। মানুষকে হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে পথপ্রদর্শক পাঠিয়েছেন। তারা মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী তুলে ধরেছেন। সঠিক পথের ঠিকানা দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই পথপ্রদর্শক রয়েছে'। (সূরা আর-রাদ, আয়াত ৭) পথপ্রদর্শক বা' নবি-রাসুল পাঠানোর এ প্রক্রিয়াই হলো রিসালাত। সুতরাং বোঝা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত নিজাম ও আফ্রিকার লোকদের মাধ্যমে রিসালাতের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
তুমি কি সালাহর মনোভাবের সাথে একমত? কুরআন-হাদিসের আলোকে যুক্তি দাও।
খতমে নবুয়তের প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশিত হওয়ায় সালাহর মনোভাবের সাথে আমি একমত নই।
হযরত মুহাম্মদ (স.) সর্বশেষ নবি। তাঁর পরে আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না। কারণ তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ নবুয়তের পূর্ণতা ঘোষণা করেছেন। সালাহর মনোভাবে খতমে নবুয়ত বিষয়ক এ ধারণার প্রতি অবিশ্বাস লক্ষণীয়।
সালাহ মনে করে, বর্তমানে যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত তাদের সংশোধনের জন্য নবি-রাসুল আসা জরুরি। অথচ আমরা জানি, নবি করিম (স.) সারা বিশ্বের, সব যুগের, সব মানুষের নবি। কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্বে যত মানুষ আসবে তাদের সবার নবি তিনি। সব মানুষের হেদায়েতের জন্য তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও তাঁর ওপর নাজিল করা কিতাবই যথেষ্ট। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'হে নবি। আপনি বলুন হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের সকলের জন্যই আল্লাহর রাসুল হিসেবে প্রেরিত।' (সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৫৮) হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে নবি-রাসুল আগমনের ধারা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই নবি (স.)-এর পরে কোনো নবি-রাসুল আগমনের কোনো সুযোগও নেই। এ সম্পর্কে রাসুল (স.) বলেন, 'আমিই শেষ নবি। আমার পরে কোনো নবি নেই।' (সহিহ মুসলিম)
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে শেষ নবি হিসেবে মেনে নেওয়া অবশ্য কর্তব্য। কিন্তু সালাহর মধ্যে এ বিষয়টি অনুপস্থিত। সে আরও নবি আসার প্রয়োজন মনে করে। এরূপ অযৌক্তিক ধারণার কারণে তার মত আমি সমর্থন করি না।

