- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আনিস এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছে। খুশিতে তার বাবা পাশের একটি মাজারে গিয়ে পিরের নামে একটি গরু জবাই করে। সবাইকে খাওয়ান। অন্যদিকে আনিসের চাচা, জনাব 'Z' নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করেন, কিন্তু তিনি ইসলামের বিভিন্ন দিকের প্রচন্ড বিরোধিতা করেন। 'Z' সাহেবের কথা জেনে মসজিদের শ্রদ্ধেয় ইমাম বলেন, এই ধরনের লোকেরা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
কপটতা শব্দের আরবি প্রতিশব্দ কী?
কপটতা শব্দের আরবি প্রতিশব্দ নিফাক।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
আখিরাতের প্রতি ইমান রাখা জরুরি কেন?
ইমানের মৌলিক বিষয় হওয়ায় আখিরাতে বিশ্বাস অপরিহার্য।
মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। আখিরাতে মানুষকে তার দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাই আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখে এবং পুণ্যকাজে উৎসাহ জোগায়। আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ প্রকৃত ইমানদার হতে পারে না। এসব কারণে একজন মুসলিমের জন্য আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।
আনিসের বাবার কর্মকাণ্ডে কোন জিনিসটি ফুটে উঠেছে? তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
আনিসের বাবার কর্মকাণ্ডে শিরক ফুটে উঠেছে।
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। মানুষ নানাভাবে শিরকে লিপ্ত হতে পারে। যেমন- ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র মনে করা, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পুশ জবেহ করা ইত্যাদি। এরূপ একটি বিষয় প্রকাশ পেয়েছে আনিসের বাবার কাজে।
উদ্দীপকের আনিস এসএসসিতে ভালো ফলাফল করায় তার বাবা তার নামে মাজারের পিরের নামে গরু জবেহ করেন। তার এ কাজটি শিরকের পর্যায়ভুক্ত। আর শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম। মানুষ শিরকের পর্যায়ভুক্ত যেসব কাজ করে তা সম্পূর্ণ অর্থহীন। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন, 'কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।' (সূরা আশ-শুরা, আয়াত ১১) অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যদি সেথায় (আসমান ও জমিনে) আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ থাকতো, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।' (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ২২) কিন্তু আনিসের বাবা আল্লাহর সাথে শিরক করে পিরের নামে পশু জবাই করেছে, যা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আর ইসলামি শরিয়তে এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তুমি কি শ্রদ্ধেয় ইমামের মন্তব্য সমর্থন করো? কেন? মতামত দাও।
ইমাম সাহেব মুনাফিকদেরকে সমাজের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী হিসেবে উল্লেখ করেছে বিধায় তার মতামতকে আমি সমর্থন করি।
নিফাক শব্দের অর্থ কপটতা, দ্বিমুখীভাব ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন রেখে মুখে ইসলামকে স্বীকার করার নামই নিফাক। যারা এরূপ কাজ করে তাদেরকে বলা হয় মুনাফিক। জনাব 'Z' এরূপ স্বভাবই ধারণ করেছে।
উদ্দীপকের জনাব 'Z' নিজেকে মুসলিম দাবি করলেও ইসলামের বিভিন্ন দিকের প্রচন্ড বিরোধীতা করে। তার এ অবস্থা দেখে ইমাম সাহেব বলেন, এই ধরনের লোকেরা সমাজের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। প্রকৃতপক্ষে নিফাকের কারণে মুনাফিকরা মিথ্যাচারে অভ্যস্ত হয়ে যায়। মিথ্যার পাশাপাশি তারা বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। 'পার্থিব লোভ-লালসা ও স্বার্থ রক্ষায় তারা মানুষের অকল্যাণ করতেও পিছপা হয় না। তারা পরনিন্দা ও পরচর্চা করে। মুসলমানদের সাথে মিশে তারা ইসলামের শত্রুদের সাহায্য করে। ফলে সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যাতে তাদেরই মুখ্য ভূমিকা থাকে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে মুনাফিকরাই বেশি ভূমিকা রাখে। তাই এ সম্পর্কিত ইমাম সাহেবের বক্তব্যটি সঠিক ও যৌক্তিক।

