- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের সরকারব্যবস্থা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ছক-'ক' | ছক-'খ’ |
|---|---|
১. জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। | ১. কার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন। |
২. গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর সমাধানস্থল। | ২. প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। |
৩. সমাজ ও রাষ্ট্রের চাহিদানুযায়ী নতুন ও প্রচলিত বিষয় সংশোধন, প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। | ৩. রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যাখ্যা চাইলে পরামর্শ দিয়ে থাকে। |
৪. নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। |
ছক 'ক'-এ উল্লেখিত বিভাগের গঠন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।
ছক 'ক'-এ উল্লেখিত বিভাগ হলো আইনবিভাগ, যার একটি নিয়মবন্দ গঠন প্রক্রিয়া রয়েছে।
উদ্দীপকের ছক 'ক'-এ উল্লেখিত বিভাগটি জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রদি এবং গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর সমাধানস্থল। এছাড়া বিভাগটি সমাজ ও রাষ্ট্রের চাহিদা অনুযায়ী নতুন ও প্রচলিত বিষয় সংশোধন এবং প্রণয়নকার প্রতিষ্ঠান। এ থেকে বোঝা যায়, ছক 'ক'-এ উল্লেখিত বিভাগটি হলো আইনসভা বা আইনবিভাগ।
আইনসভা সরকারের তিনটি বিভাগের অন্যতম। বাংলাদেশের আইনসভর নাম 'জাতীয় সংসদ'। এটি এক কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদের মৌ সদস্যসংখ্যা ৩৫০। এর মধ্যে ৩০০ জন সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন এবং অবশিষ্ট ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। বাংলাদেশকে মোট ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় ভাগ করা হয়েছে। এসর নির্বাচনি এলাকা থেকে নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ভোটে একজন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যর আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা সাধারণ আসনে নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। তবে নারীরা ইচ্ছা করলে ৩০০ আসনের যেকোনোটিতে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমেও নির্বাচিত হতে পারেন। সংসদে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার থাকেন। তাঁরা সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী সংসদের নেজ। আসন সংখ্যার দিক থেকে নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দলের প্রধন সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় কবে?
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।
উপজেলার প্রধান প্রশাসক হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পাদন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাজের মধ্যে রয়েছে- উপজেলার প্রশাসনিক কাজ তদারকি করা। উপজেলার সকল উন্নয়নকাজ তদারকি করা। সরকারি অর্থের ব্যয় তত্ত্বাবধান করা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা উন্নয়ন কমিটির প্রধান। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন। তিনি উপজেলা কোষাগারের রক্ষক। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময়ে সরকার প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব সম্পাদন করেন।
ছক 'খ'-এর প্রতিষ্ঠানের গঠন কাঠামো ও ক্ষমতা বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকের ছক 'খ'-এর প্রতিষ্ঠান তথা বিচারবিভাগ সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী গঠিত হয় এবং প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী।
উদ্দীপকের ছক 'খ'-এ উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি কার্য পরিচালনায় ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এ প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যাখ্যা চাইলে বিভাগটি পরামর্শ দিয়ে থাকে এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। এসব বৈশিষ্ট্য বিচারবিভাগকেই নির্দেশ করে।
বাংলাদেশের বিচারবিভাগ সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে গঠিত। বিচারবিভাগের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রিম কোর্ট। এটি আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে গঠিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রধান বিচারপতি রয়েছেন, তাকে বাংলাদেশের প্রধন বিচারপতি বলা হয়। রাষ্ট্রপতি তাকে নিযুক্ত করেন। প্রত্যেক বিভাগের জন্য যতজন বিচারক প্রয়োজন ততলন বিচারককে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত। প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের দুই বিভাগের বিচারপতিদের নিয়োগ দেন। সুপ্রিম কোর্টের অধীনে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় বিচারবিভাগের অধস্তন আদালত রয়েছে। এছাড়া সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ এক বা একাধিক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
বিচারবিভাগের ক্ষমতার ক্ষেত্রে দেখা যায়, আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রি বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ করে শুনানির ব্যবস্থা করতে পারে। রাষ্ট্রপতি আইনের কোনো ব্যাখ্যা চাইলে আপিল বিভাগ এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে কোনো ব্যক্তিকে আদালতের সামনে হাজির হতে ও দলিলপত্র পেশ করার আদেশ জারি করতে পারে। আপিল বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন হাইকোর্ট বিভাগের জন্য অবশ্যই পালনীয়। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা, ন্যায়বিচার সংরক্ষণ ও পরামর্শ দান করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

