- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আহনাফ মসজিদের ইমামকে জিজ্ঞেস করল, এ পৃথিবীতে এত ফিতনা-ফাসাদ কেন? ইমাম সাহেব বললেন, মানুষ ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলছে না বলেই পৃথিবীতে এত ফিতনা-ফাসাদ। মানুষ যদি আল্লাহর আইনকানুন মেনে চলতো, তাহলে এ বিশ্ব চরাচরে সুখ শান্তি বিরাজ করতো।
মক্তব বলতে কী বুঝ?
মক্তব হলো মুসলিম বালক-বালিকাদের ধর্মীয় প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র। মক্তব শব্দের অর্থ লেখার স্থান, শিক্ষাকেন্দ্র, বিদ্যালয়, কার্যালয়, টেবিল ইত্যাদি। মক্তব সাধারণত মসজিদের সাথে গড়ে ওঠে।
মক্তবে বিশুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষাদান করা হয়। এছাড়া ওজু, গোসল, তায়াম্মুম, সালাত, সাওম ইত্যাদি ইবাদত পালনের নিয়ম-কানুন এবং দৈনন্দিন জীবনে চাল-চলন, আদব-কায়দা, ভদ্রতা-নম্রতা, শ্রদ্ধাবোধ, স্নেহ-মমতা ইত্যাদি ইসলামি পন্থায় শেখানো হয় ।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
ইসলামি শিক্ষা কী?
যে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে তাই ইসলামি শিক্ষা ।
কীভাবে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?
ইসলামি সমাজ বিনির্মাণের মাধ্যমে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
ইসলামি সমাজ হলো ইসলামি আদর্শ, রীতিনীতি ও বিধিবিধানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা মাবসমাজ ও সমাজের বিকাশ। পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ ইসলামের মূলনীতি অনুযায়ী সম্পন্ন হয় বলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় । তাছাড়া ইসলামি সমাজব্যবস্থা ইসলামের আদর্শ ও নীতিমালার আলোকে প্রতিষ্ঠিত এক আদর্শ সমাজব্যবস্থা। যার উদ্দেশ্যই হলো মানুষের পার্থিব জীবনকে সুষ্ঠু ও শান্তিময় করা। কেননা ইসলামি সমাজব্যবস্থা হলো তাওহিদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।
জীবন ও মৃত্যুদাতা, পালনকর্তা এবং জীবিকা, আশ্রয়দাতা হিসেবে এক আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস হলো তাওহিদ। ইসলামি সমাজের পুরো অবকাঠামো ও বিধি-ব্যবস্থাপনা এই বিশ্বাসের ধারক বলেই সমাজে শান্তির সুশীতল বাতাস বহে। আবার ইসলামি সমাজব্যবস্থার অন্যতম দিক হলো এ ব্যবস্থা আখিরাতভিত্তিক। এতে পৃথিবীর জীবনের তুলনায় আখিরাতের জীবনকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।
ফলে আখিরাতের জবাবদিহির ব্যাপারে সবাই শঙ্কিত থাকে এবং সমাজ থেকে নানা রকম অনাচার-অত্যাচার, পাপাচারসহ সব ধরনের অশ্লীল কর্মকাণ্ড দূরীভূত হয়। যার ফলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাছাড়া ইসলামি বিধি-বিধানে সকল ধরনের ফিতনা-ফাসাদ ও অশ্লীলতাকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। তাই ইসলামি সমাজ বিনির্মাণের ধারাবাহিকতায় পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব ।
“সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা অপরিসীম” উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা অপরিসীম।
ইসলাম ধর্মের প্রধান ভিশন, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা 'ইসলাম' শব্দের অর্থ শান্তি। তাই এর লক্ষ ও উদ্দেশ্য ইসলাম' শব্দটির মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ইসলাম ধর্মের আগমনের পূর্বে আরবসহ সারা পৃথিবী অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। পৃথিবী জুড়ে হানাহানি, রক্তারক্তি, অন্যায়-জুলুম, হত্যা-ব্যভিচার ইত্যাদি লেগেই থাকত। তৎকালীন যুগে আরবে বর্বরতার চরম পর্যায় লক্ষ করা যায়।
আরব সমাজে নারীদের কোনো সম্মান, মর্যাদা ছিল না। নারীদেরকে খেলনা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ঠিক সেই সময় রাসুল (স.) এর মাধ্যমে ইসলামের আগমনে আরবসহ সারা বিশ্বে শান্তির সুশীতল বাতাস বইতে লাগল। আরবরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শান্তিপূর্ণ জাতিতে পরিণত হলো। আর এটা শুধু ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করার ফলেই সম্ভব হয়েছে।
শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ইসলামে সব ধরনের ঘোষণা বিদ্যমান রয়েছে। মহানবি (স.) বলেন, 'দীনের ব্যাপারে তুমি কলহ ও ঝগড়া বিবাদ থেকে নিজেকে বিরত রাখ" (সুনান দারিমি) তিনি আরও বলেন, 'মুমিনতো সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দেয়' (নাসাঈ)। আবার আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যে ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করলো বা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করলো সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করলো ” (সুরা মায়িদা-৩২) ।
অন্যত্র বলেন, 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করে তার পরিণাম হচ্ছে জাহান্নাম'। (সুরা আন নিসা-৯৩) সুতরাং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

