- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অপরিচিতা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
প্রায় এক বছর হলো বাজিতপুর নিবাসী কেরামত আলীর ছোট মেয়ে বিজলীর সাথে মনোহরপুর গ্রামের হোসেন মিয়ার একমাত্র ছেলে হাশিমের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই হাশিমের পরিবার বিজলীর উপর অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করেছে। বিজলীর অপরাধ-বিয়ের সময় তার বাবা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যৌতুকের সমস্ত টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। তাই বিজলীকে নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে এ নির্যাতন।
যদি অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিয়ে হতো, তার পরিণতিও কি উদ্দীপকের বিজলীর মতো হতো?- তোমার মতামত দাও।
যদি অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিয়ে হতো, তবে তার পরিণতি উদ্দীপকের বিজলীর মতো হতো না বলে আমি মনে করি।
যৌতুক প্রথা অভিশাপ স্বরূপ। যা দেশ ও জাতির উন্নয়নের পথে অন্তরায়। সমাজের এ ঘৃণ্য প্রথাকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে। কেননা, এর ছোঁয়ায় নিভে যেতে পারে কারও জীবন প্রদীপ, ভেঙে যেতে পারে কারও সুখের সংসার। একমাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরই পারে সমাজ থেকে এই বিষবাষ্প দূর করতে। 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর মাঝে সেই প্রতিবাদেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের বিজলী যৌতুক নামক নির্মম প্রথার শিকার। যা তার জীবনে নিয়ে এসেছে এক কালো অধ্যায়। সামান্য কিছু টাকার জন্য শ্বশুর বাড়ির লোকদের নির্মম অত্যাচারের খড়গ নেমে এসেছে তার উপর। যার কোনো প্রতিবাদ করতে পারে নি সে। তবে আমি মনে করি অনুপমের সাথে যদি কল্যাণীর বিয়ে হতো, তবে তার পরিণতি এমন হতো না। গল্পের শেষ পরিণতিতে এমন ধারণা আরও বদ্ধমূল হয়। অনুপম মামার আদেশ অমান্য করে কানপুরে আসে কল্যাণীর সাথে দেখা করতে। সে কল্যাণী ও কল্যাণীর বাবার কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চায়। যা তার কোমলতার পরিচায়ক। কল্যাণীকে পাবার আশায় সে মামাকে ছেড়েছে। তাছাড়া কল্যাণী উদ্দীপকের বিজলীর মতো অসহায় নয়। সে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারী। সে নিজের খেয়াল রাখতে যেমন জানে, তেমনি জানে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে।
পরিশেষে তাই বলা যায়, অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিয়ে হলে তার পরিণতি বিজলীর মতো হতো না।

