অজু ভঙ্গের কারণসমূহ এবং সঠিকভাবে অজু করার একদম সহিহ নিয়ম
— উড্ডয়ন
ছবি | সংগৃহিত
ইসলামে অজু বা পবিত্রতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। নামাজ, তাওয়াফ, কোরআন স্পর্শ করাসহ অনেক ইবাদতের জন্য অজু থাকা আবশ্যক। একজন মুসলিমের প্রতিদিনের জীবনে অজু এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। তবে অনেকেই সঠিকভাবে জানেন না, কোন কোন কারণে অজু ভেঙে যায় এবং কীভাবে সুন্নতসম্মতভাবে অজু করতে হয়। এই আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে অজু ভঙ্গের কারণসমূহ, অজুর ফরজ ও সুন্নত এবং ধাপে ধাপে সহিহ পদ্ধতিতে অজু করার নিয়ম।
অজু কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
অজু হলো নির্দিষ্ট নিয়মে শরীরের কিছু অঙ্গ পানি দিয়ে ধৌত করার মাধ্যমে ছোট নাপাকি থেকে পবিত্র হওয়ার প্রক্রিয়া। কোরআনের সূরা মায়িদার পঞ্চম আয়াতে আল্লাহ তায়ালা অজুর বিধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য অজু থাকা অপরিহার্য শর্ত। অজু ছাড়া নামাজ আদায় করলে তা কবুল হয় না। এছাড়া অজু অবস্থায় থাকা একজন মুমিনের জন্য আত্মিক প্রশান্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম। তাই প্রতিটি মুসলিমের জন্য অজু সংক্রান্ত বিধিবিধান সঠিকভাবে জানা এবং তা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
অনেকেই মনে করেন অজু একটি সাধারণ কাজ, তাই এর নিয়মকানুন নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না। কিন্তু বাস্তবে অজু সংক্রান্ত অনেক ছোট ছোট বিষয় আছে, যা না জানলে নামাজে ত্রুটি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই বিষয়ে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।
অজু ভঙ্গের কারণসমূহ
অজু ভঙ্গের কারণগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব কারণ ঘটলে পুনরায় অজু করে নামাজ বা অন্যান্য ইবাদত করতে হয়। ফিকহবিদদের মতে, নিম্নলিখিত কারণগুলোতে অজু ভেঙে যায়।
প্রথমত, পেশাব বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে যেকোনো কিছু বের হলে অজু ভেঙে যায়। এর মধ্যে পেশাব, পায়খানা, বায়ু নির্গমন অর্থাৎ বাতকর্ম, মযী বা মনী নির্গত হওয়া অন্তর্ভুক্ত। শরীরের এই দুই রাস্তা দিয়ে যা কিছুই বের হোক না কেন, তা অজু ভঙ্গের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এমনকি সামান্য পরিমাণ বায়ু নির্গত হলেও অজু নষ্ট হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, শরীরের যেকোনো স্থান থেকে রক্ত, পুঁজ বা এ জাতীয় তরল পদার্থ প্রবাহিত হয়ে বের হলে অজু ভেঙে যায়। তবে শর্ত হলো, তা প্রবাহিত হয়ে বের হতে হবে অথবা ক্ষতস্থান থেকে গড়িয়ে পড়তে হবে। কেবল ক্ষতস্থানে জমাট বেঁধে থাকলে বা বের না হলে অজু ভাঙে না। হানাফি মাযহাব অনুযায়ী এই বিধান প্রযোজ্য, যদিও অন্যান্য মাযহাবে এ বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন মত রয়েছে।
তৃতীয়ত, মুখ ভরে বমি হলে অজু ভেঙে যায়। সামান্য বমি হলে অজু ভাঙে না, তবে মুখ ভরে বা প্রবলভাবে বমি হলে তা অজু নষ্ট করে।
চতুর্থত, শুয়ে বা হেলান দিয়ে ঘুমালে অজু ভেঙে যায়। কারণ এমন অবস্থায় নাপাকি নির্গত হলেও টের পাওয়া যায় না। তবে বসে থাকা অবস্থায় সামান্য তন্দ্রা এলে, যদি নিতম্ব মাটির সাথে লেগে থাকে এবং শরীর হেলে না পড়ে, তাহলে অজু ভাঙে না বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন।
পঞ্চমত, জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অজু ভেঙে যায়। মৃগীরোগে আক্রান্ত হওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, পাগলামি বা নেশাগ্রস্ত হয়ে জ্ঞান হারানো এসব ক্ষেত্রে অজু নষ্ট হয়ে যায়। কারণ এই অবস্থায় মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
ষষ্ঠত, লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে অজু ভাঙে কিনা এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। হানাফি মাযহাব অনুযায়ী শুধু লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে অজু ভাঙে না, তবে শাফেয়ি মাযহাব অনুযায়ী নিজের বা অন্যের লজ্জাস্থান খালি হাতে স্পর্শ করলে অজু ভেঙে যায়। তাই কোন মাযহাব অনুসরণ করেন তার ওপর ভিত্তি করে এই বিধান প্রযোজ্য হবে।
সপ্তমত, উচ্চস্বরে অট্টহাসি দেওয়া নামাজের মধ্যে অজু ভঙ্গের কারণ হিসেবে হানাফি মাযহাবে গণ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ নামাজরত অবস্থায় কেউ যদি এমনভাবে হাসে যে আশপাশের মানুষ শুনতে পায়, তাহলে তার অজু এবং নামাজ উভয়ই ভেঙে যাবে। তবে নামাজের বাইরে অট্টহাসিতে অজু ভাঙে না।
অষ্টমত, নারীদের ঋতুস্রাব বা প্রসবোত্তর রক্তস্রাব শুরু হলে অজু স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায় এবং এই সময় নামাজ, রোজা ইত্যাদি ইবাদত স্থগিত থাকে। এই স্রাব বন্ধ হওয়ার পর গোসল করে পুনরায় পবিত্র হতে হয়।
এসব কারণ ছাড়া সাধারণ কথাবার্তা, হাঁটাচলা, খাওয়াদাওয়া বা সাধারণ স্পর্শে অজু ভাঙে না। অনেকে অহেতুক সন্দেহে ভোগেন যে সামান্য কিছু হলেই বুঝি অজু নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু ইসলামি বিধান অনুযায়ী শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কারণগুলোতেই অজু ভঙ্গ হয়। অহেতুক সন্দেহকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।
অজুর ফরজ বিষয়সমূহ
অজু শুদ্ধ হওয়ার জন্য কিছু বিষয় ফরজ বা অবশ্য পালনীয়। এই ফরজগুলো বাদ পড়লে অজু শুদ্ধ হয় না। কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী চারটি বিষয় অজুর ফরজ হিসেবে বিবেচিত।
প্রথম ফরজ হলো সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ধোয়া। কপালের চুলের গোড়া থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং এক কান থেকে অপর কান পর্যন্ত পুরো অংশ ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুতে হবে। যাদের দাড়ি আছে, তাদের দাড়ির বাইরের অংশ ধোয়া ফরজ, তবে ঘন দাড়ির ভেতরের অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো ফরজ নয়।
দ্বিতীয় ফরজ হলো উভয় হাত কনুইসহ ধোয়া। শুধু কব্জি পর্যন্ত নয়, বরং কনুইসহ সম্পূর্ণ বাহু ধুতে হবে। হাতের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষত আংটি বা কোনো অলংকার থাকলে তা নাড়িয়ে পানি পৌঁছানো জরুরি।
তৃতীয় ফরজ হলো মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা। হাত ভিজিয়ে মাথার যেকোনো অংশে অন্তত এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করলে এই ফরজ আদায় হয়ে যায়। তবে সুন্নত হলো সম্পূর্ণ মাথা মাসেহ করা।
চতুর্থ ফরজ হলো উভয় পা টাখনুসহ ধোয়া। পায়ের আঙুলের ফাঁকে পানি পৌঁছানো এবং টাখনু পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ ধোয়া আবশ্যক। অনেকে তাড়াহুড়ায় পায়ের গোড়ালি বা টাখনু শুকনো রেখে দেন, যা অজু অসম্পূর্ণ রাখে এবং এতে অজু শুদ্ধ হয় না।
এই চারটি ফরজের যেকোনো একটি বাদ পড়লে অজু শুদ্ধ হবে না এবং সেই অজুতে আদায়কৃত নামাজও শুদ্ধ হবে না। তাই অজু করার সময় প্রতিটি অঙ্গ পুরোপুরি ভেজানো নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অজুর সুন্নত বিষয়সমূহ
ফরজের পাশাপাশি অজুতে বেশ কিছু সুন্নত রয়েছে, যা পালন করলে সওয়াব বৃদ্ধি পায় এবং অজু আরও পরিপূর্ণ হয়। যদিও এসব বাদ পড়লে অজু ভাঙে না, তবে এগুলো পালন করা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুসরণ।
অজু শুরুর আগে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা সুন্নত। এরপর উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধোয়া সুন্নত, বিশেষত ঘুম থেকে ওঠার পর হাত না ধুয়ে পাত্রে ডোবানো অনুচিত। মিসওয়াক করা বা দাঁত পরিষ্কার করা সুন্নত। কুলি করা তিনবার এবং নাকে পানি দিয়ে ঝাড়া তিনবার সুন্নত। প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধোয়া সুন্নত। ডান দিক থেকে শুরু করা সুন্নত, অর্থাৎ প্রথমে ডান হাত, তারপর বাম হাত, প্রথমে ডান পা, তারপর বাম পা এভাবে ধোয়া। কানের ভেতর-বাহির মাসেহ করা এবং ঘাড় মাসেহ করা সুন্নত। আঙুলে আঙুলে খিলাল করা অর্থাৎ হাত ও পায়ের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করা সুন্নত। ধারাবাহিকভাবে অর্থাৎ কোনো বিরতি ছাড়া একটার পর একটা অঙ্গ ধোয়া সুন্নত। পানি অপচয় না করা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করাও সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।
সঠিকভাবে অজু করার ধাপে ধাপে নিয়ম
এখন আমরা দেখব কীভাবে ধাপে ধাপে সুন্নতসম্মতভাবে সহিহ অজু করতে হয়।
প্রথম ধাপে অজুর নিয়ত করতে হবে। মনে মনে এই সংকল্প করতে হবে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্যে অজু করছি। নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে অনেকে মুখে বলেও থাকেন।
দ্বিতীয় ধাপে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে অজু শুরু করতে হবে।
তৃতীয় ধাপে উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার ভালোভাবে ধুতে হবে, আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।
চতুর্থ ধাপে মিসওয়াক করা বা আঙুল দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা, এরপর ডান হাতে পানি নিয়ে তিনবার কুলি করা।
পঞ্চম ধাপে ডান হাতে পানি নিয়ে নাকে টেনে নেওয়া এবং বাম হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করা, এভাবে তিনবার করা।
ষষ্ঠ ধাপে সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল কপালের চুলের গোড়া থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং এক কান থেকে অপর কান পর্যন্ত তিনবার ধোয়া। দাড়ি থাকলে আঙুল দিয়ে খিলাল করা।
সপ্তম ধাপে প্রথমে ডান হাত কনুইসহ তিনবার ধোয়া, তারপর বাম হাত কনুইসহ তিনবার ধোয়া। হাতের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করা।
অষ্টম ধাপে হাত ভিজিয়ে সম্পূর্ণ মাথা একবার মাসেহ করা। দুই হাতের ভেজা আঙুল কপালের সামনের দিক থেকে শুরু করে মাথার পেছন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া, তারপর আবার সামনে ফিরিয়ে আনা।
নবম ধাপে ভেজা আঙুল দিয়ে উভয় কানের ভেতরের অংশ তর্জনী দিয়ে এবং বাইরের অংশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে মাসেহ করা।
দশম ধাপে ভেজা হাতের পেছনের অংশ দিয়ে ঘাড় মাসেহ করা।
একাদশ ধাপে প্রথমে ডান পা টাখনুসহ তিনবার ধোয়া, পায়ের আঙুলের ফাঁকে খিলাল করা, তারপর বাম পা একইভাবে টাখনুসহ তিনবার ধোয়া।
দ্বাদশ ধাপে অজু শেষ করে কালিমা শাহাদাত পাঠ করা সুন্নত। এই দোয়া পড়ার মাধ্যমে অজুর সওয়াব আরও বৃদ্ধি পায় এবং হাদিসে এসেছে যে এই দোয়া পাঠকারীর জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হয়।
এই ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে এবং তাড়াহুড়া না করে পালন করলে একজন মুসলিম সহিহ ও পরিপূর্ণ অজু করতে পারবেন। প্রতিটি অঙ্গ ভালোভাবে ভেজানো এবং কোনো অংশ শুকনো না রাখা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শরীরের কোনো অংশ চুলের সমপরিমাণও শুকনো থাকলে অজু শুদ্ধ হয় না বলে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।
অজু সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
অজু নিয়ে দৈনন্দিন জীবনে অনেক প্রশ্ন দেখা দেয়। এখানে কিছু সাধারণ মাসআলা তুলে ধরা হলো।
যদি কারো শরীরে কোনো ক্ষত থাকে এবং তাতে পানি লাগানো ক্ষতিকর হয়, তাহলে সেই স্থানে পানি না দিয়ে ভেজা হাত দিয়ে মাসেহ করলেই যথেষ্ট। আর যদি মাসেহ করাও সম্ভব না হয়, তাহলে সেই অংশ বাদ দিয়েই অজু শুদ্ধ হয়ে যাবে।
নেইলপলিশ বা এমন কোনো প্রলেপ যা পানি চামড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধা দেয়, তা লাগানো অবস্থায় অজু শুদ্ধ হয় না। তাই অজুর আগে তা তুলে ফেলতে হবে। তবে সাধারণ মেহেদির রং অজুর জন্য বাধা নয়, কারণ তা চামড়ার ওপর একটি পাতলা রঙের প্রলেপ মাত্র, পানি চলাচলে বাধা দেয় না।
দাঁতে বাঁধানো ক্যাপ বা ফিলিং থাকলে তা কুলি করার সময় সমস্যা তৈরি করে না, কারণ তা শরীরের ভেতরের অংশ হিসেবে গণ্য এবং কুলি করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মুখগহ্বর পরিষ্কার করা ফরজ নয়।
মোজা পরিহিত অবস্থায় নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে খুফ বা মোজার ওপর মাসেহ করার অনুমতি রয়েছে, যা পা ধোয়ার বিকল্প হিসেবে গণ্য হয়। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং শর্তাবলি রয়েছে, যা পূরণ হলেই কেবল এই সুবিধা গ্রহণ করা যায়।
সন্দেহপ্রবণতা একটি সাধারণ সমস্যা, বিশেষত ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে ইসলামি নির্দেশনা হলো, নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়া কেবল সন্দেহের কারণে অজু ভেঙে গেছে মনে করা উচিত নয়। কোনো শব্দ শোনা বা গন্ধ পাওয়া ছাড়া শুধু সন্দেহের বশে অজু ভেঙেছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
নারীদের জন্য বিশেষ কিছু বিষয়
নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব এবং প্রসবোত্তর রক্তস্রাবের সময় অজুর পরিবর্তে সম্পূর্ণ গোসল আবশ্যক হয়ে যায় স্রাব বন্ধ হওয়ার পর। এই সময়ের মধ্যে নামাজ পড়া বা রোজা রাখা তাদের জন্য নিষিদ্ধ। এছাড়া সাধারণ সময়ে নারীদের অজুর নিয়ম পুরুষদের মতোই, তবে অলংকার যেমন চুড়ি বা আংটি থাকলে তা নাড়িয়ে ভেতরে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। নারীরা মাথায় কাপড় বা হিজাব পরিহিত অবস্থায় অজু করার সময় মাথা মাসেহ করার জন্য প্রয়োজনে চুলের সামনের অংশ উন্মুক্ত রাখতে হবে যাতে সরাসরি চুলে বা মাথার চামড়ায় হাত পৌঁছাতে পারে।
অজুর ফজিলত
অজু শুধু নামাজের প্রস্তুতি নয়, এর নিজস্ব বিশাল ফজিলত রয়েছে। হাদিসে এসেছে, ভালোভাবে অজু করলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের গুনাহ পানির সাথে ঝরে যায়। অজু অবস্থায় থাকা ব্যক্তির মর্যাদা আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় এবং কিয়ামতের দিন উম্মতে মুহাম্মদিকে অজুর অঙ্গগুলোর উজ্জ্বলতার মাধ্যমে চেনা যাবে বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তাই নিয়মিত ও সুন্দরভাবে অজু করা একজন মুমিনের জন্য আত্মিক পবিত্রতা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
উপসংহার
অজু ইসলামের একটি মৌলিক ইবাদত, যা প্রতিটি মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অজু ভঙ্গের কারণসমূহ যেমন পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কিছু বের হওয়া, রক্তক্ষরণ, বমি, ঘুম, জ্ঞান হারানো ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি, যাতে অহেতুক সন্দেহে না ভুগে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। একইসাথে অজুর ফরজ ও সুন্নত বিষয়গুলো মেনে ধাপে ধাপে সঠিক পদ্ধতিতে অজু করলে তা শুধু শারীরিকভাবে শুদ্ধ হয় না, বরং আধ্যাত্মিকভাবেও একজন মুসলিমকে পবিত্র ও প্রশান্ত করে তোলে। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত অজুর এই বিধিবিধান ভালোভাবে জেনে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা, যাতে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করা যায়।
