- হোম
- বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন
বাংলা ১ম পত্র
- ঢাকা বোর্ড
- এসএসসি
- বাংলা ১ম পত্র
- ২০২৫
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বাউল গানের কিংবদন্তি শিল্পী শাহ আবদুল করিম। তাঁর গানে ভাটি অঞ্চলের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসার পরিচয় পাওয়া যায়। এ জন্য তাঁর গান বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। শিল্পমানে অনন্য হওয়া সত্ত্বেও শহুরে সমাজে এ ধরনের গানের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমছে।
উদ্দীপকের শাহ আবদুল করিমের গান বহির্বিশ্বে প্রচার 'পল্লিসাহিত্য ' প্রবন্ধের কোন দিকটিকে প্রকাশ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের শাহ আবদুল করিমের গান বহির্বিশ্বে প্রচার 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের পল্লিসাহিত্যের আন্তরিকতা ও সার্বজনীনতার দিকটিকে প্রকাশ করেছে।
'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে উল্লেখ আছে, পল্লিসমাজের জীবনবোধ, অনুভূতি ও সংস্কৃতি পল্লিসাহিত্যে প্রতিফলিত হয়। এই সাহিত্য নিছক স্থানিক না হয়ে মানবমনের গভীরতম আবেগ ও চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। পল্লিগান পল্লিসাহিত্য সম্পদের মধ্যে অমূল্য রত্নবিশেষ। জারি, সারি, ভাটিয়ালি, মারফতি গানের এক অফুরন্ত ভান্ডার পল্লির ঘাটে-মাঠে ছড়ানো আছে। সেসব গানে আছে প্রেম, আনন্দ, সৌন্দর্য ও তত্ত্বজ্ঞান।
উদ্দীপকের শাহ আবদুল করিমের গানে ভাটি অঞ্চলের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ এবং জীবনের বাস্তবতা উঠে আসে। এই গানের সারল্য ও মানবিক অনুভূতি দেশকালের গণ্ডি পেরিয়ে সবার হৃদয়ে পৌঁছায়, যা প্রমাণ করে- পল্লিসাহিত্য কেবল গ্রামীণ মানুষের জন্য নয়, এটি বিশ্বজনীন। যদিও শহূরে সমাজে এর জনপ্রিয়তা কমছে, তবুও বহির্বিশ্বে তাঁর গান ছড়িয়ে পড়ায় প্রমাণ করে, মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া সাহিত্য বা সংগীতের ভাষা এক- তা শহর বা গ্রামভিত্তিক নয়। পল্লিসাহিত্য বিশ্বমঞ্চেও স্থান করে নিতে পারে। সুতরাং 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে পল্লিগানের যে বাস্তবতা, শাহ আবদুল করিমের গানের সেই একই বাস্তবতা। শাহ আবদুল করিমের গানের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পল্লিসাহিত্যের স্বাভাবিক ভাবভঙ্গি, আবেগ ও জীবনঘনিষ্ঠতা একে সার্বজনীন করে তোলে। এটি প্রমাণ করে- সাহিত্য তখনই টিকে থাকে, যখন তা হৃদয়ের কথা বলে।
উত্তরের মূলকথা: শাহ আবদুল করিমের গানের বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে বর্ণিত সেই দিককে তুলে ধরে, যেখানে বলা হয়েছে- পল্লিসাহিত্য লোকজ জীবনের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য, সৎ অনুভব ও মানবতাবোধকে ধারণ করে, যা বিশ্বজনীন ও চিরকালীন।
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
বাংলা সাহিত্যের কত আনা শহুরে সাহিত্য?
বাংলা সাহিত্যের পনেরো আনা শহুরে সাহিত্য।
'আজ দুঃখে দৈন্যে প্রাণে সুখ নেই'- কেন? ব্যাখ্যা করো।
মায়ের সেই ঘুমপাড়ানি গান, খোকাখুকির সরস ছড়া নেই বলে আজ দুঃখে-দৈন্যে প্রাণে সুখ নেই।
সাহিত্যের উৎস ভূমি হলো পল্লিগ্রাম। একসময় পল্লিবাংলার সর্বত্রই লোকসাহিত্যের চর্চা ছিল। রূপকথা, পল্লিগাথা, ছড়া, প্রবাদ, ঘুমপাড়ানি গান ইত্যাদি সবার মুখে মুখে থাকত। কিন্তু আধুনিক সাহিত্যের প্রভাবে পল্লির মায়ের সেই ঘুমপাড়ানি গান, খোকা-খুকির মন ভুলানো ছড়া আর দেখা যায় না। মূলত পল্লিসাহিত্যের দুঃখ ও দৈন্যের কারণেই প্রাণে মানুষের সুখ নেই।
উত্তরের মূলকথা: আধুনিক সাহিত্যের প্রভাবে লোকসাহিত্যের চর্চা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ দৈন্যদশার কারণে প্রাণে সুখ অনুভব করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
উদ্দীপকের শেষ মন্তব্যে যে আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে তার পরিণাম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য করণীয় কী? 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকের শেষ মন্তব্যে যে আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে, তা হলো- বাউল গান, বিশেষ করে শিল্পী শাহ আবদুল করিমের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের গান শহরে সমাজে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। এই মূল্যবান লোকসংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে পল্লির সাহিত্যসম্পদের মধ্যে পল্লিগানগুলো অমূল্য রত্নবিশেষ বলা হয়েছে। পল্লিগানের এক অফুরন্ত সম্পদ ছড়িয়ে আছে আমাদের গ্রামাঞ্চলে। এ সব গান শিল্পমানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাতে প্রেম, আনন্দ, সৌন্দর্য, তত্ত্বজ্ঞান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। উদ্দীপকের শাহ আবদুল করিমের গানের আবেদন পল্লিগানের মতোই আবেগপ্রবণ।
উদ্দীপকের শাহ আবদুল করিম তাঁর গানের মাধ্যমে ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ, দুঃখ, প্রেম, ভালোবাসার কথা ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর গানে আছে সব অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর নানা অবিচারের বিরোধিতা। তাঁর এসব গান শিল্পগুণেও অসামান্য। মূলত, শাহ আবদুল করিমের গানগুলো পল্লিগানের অন্তর্ভুক্ত ও বেশ জনপ্রিয়।
পল্লিগানের অসামান্য শিল্পগুণ ও তার সমর্থন উদ্দীপক ও 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধ উভয়ক্ষেত্রেই মেলে। উভয়ক্ষেত্রেই দেখা যায় শহরে গান এ সব পল্লিগানের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের আলোকে এই পরিণাম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য করণীয় হলো-পল্লিসাহিত্যের মূল্যায়ন ও সংরক্ষণ করা, নতুন প্রজন্মের মধ্যে পল্লিসংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ জাগানো, পল্লিসাহিত্যচর্চা ও গবেষণার জন্য উদ্যোগ নেওয়া, পল্লিগানের শিল্পীদের যথাযথ সম্মান ও উৎসাহ দেওয়া, আধুনিক মাধ্যমে (যেমন- বই, গান, নাটক, সিনেমা) পল্লিসাহিত্য তুলে ধরা।
উত্তরের মূলকথা: উদ্দীপকের শেষ মন্তব্যে প্রকাশিত আশঙ্কা অর্থাৎ পল্লিসাহিত্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে রক্ষা করতে পল্লিসাহিত্য সংরক্ষণ, চর্চা ও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

