- হোম
- মডেল টেস্ট
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স
সাম্প্রতিক ঘটনা ও তথ্য নিয়ে প্রশ্নোত্তর।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ। প্রথম টেস্ট শুরু হবে ২৮ অক্টোবর মিরপুরে, দ্বিতীয়টি ৫ নভেম্বর সিলেটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ১৮ অক্টোবর ঢাকায় পৌঁছাবে এবং ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। সিরিজটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) অংশ। বাংলাদেশ এখন ডব্লিউটিসি টেবিলের চতুর্থ স্থানে। চলতি চক্রে ছয় টেস্টে তাদের জয় তিনটি, হার দুটি ও ড্র একটি, আর সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরের দুই টেস্টের সিরিজ ড্র হয়েছে। ঘরের মাঠে এই দুই টেস্টে ভালো ফল করলে ফাইনালের লড়াইয়ে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে থাকবে।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। আহমেদাবাদে ফাইনালে তারা গুজরাট টাইটানসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছে। গুজরাট করেছিল ১৫৫/৮, ওয়াশিংটন সুন্দর অপরাজিত ৫০ করেন। জবাবে বিরাট কোহলি ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রান করেন, আর ২৫ বলে ফিফটি করে আইপিএল ফাইনালের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন। ম্যাচসেরাও তিনিই। রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী ৭৭৬ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপ জিতেছেন এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন। পার্পল ক্যাপ পেয়েছেন গুজরাটের কাগিসো রাবাডা, ২৯ উইকেট নিয়ে।
অস্ট্রেলিয়া। লর্ডসে ৫ জুলাইয়ের ফাইনালে তারা স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে। ইংল্যান্ড ১৫০/৪ করে, যাতে অধিনায়ক নাট সিভার-ব্রান্টের অপরাজিত ৫৮ ও ফ্রেয়া কেম্পের অপরাজিত ৪৪ রান ছিল। অস্ট্রেলিয়া ১৭.১ ওভারেই ১৫৩/৩ তুলে জিতে যায়। ম্যাচসেরা হয়েছেন বেথ মুনি। এটি অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেমিফাইনালে তারা ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিল। এই আসরে অধিনায়কত্ব করেছেন সোফি মোলিনিউ, কারণ আলিসা হিলি মে মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন।
ভারত। নিজেদের মাটিতে ফাইনালে তারা নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে শিরোপা ধরে রেখেছে। ফাইনাল হয়েছিল ৮ মার্চ। টুর্নামেন্ট চলেছে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত। ২০২৪ সালের পর টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতে ভারত এখন তিনবার এই কাপ জিতল। এই আসরে ইতালি অভিষেক করেছে, আর ভারত ও পাকিস্তান একই গ্রুপে পড়েছিল। সেমিফাইনাল হয়েছে ৪ মার্চ। ঘরের মাঠে চাপ সামলে বড় ব্যবধানে ফাইনাল জেতাটা ভারতের দলীয় শক্তিরই প্রমাণ।
অনুষ্ঠানটি হবে ২৬ অক্টোবর, সোমবার, লন্ডনে। পুরস্কারের ৭০তম বছর উপলক্ষে প্যারিসের বাইরে এই আয়োজন। ৮ সেপ্টেম্বর পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগে ৩০ জন করে মনোনীত খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে সেরা তরুণ খেলোয়াড়, গোলরক্ষক, কোচ ও ক্লাবসহ আরও কিছু পুরস্কার দেওয়া হবে। গত বছর পুরুষদের ব্যালন ডি'অর জিতেছেন উসমান দেম্বেলে, নারীদের বিভাগে জিতেছেন আইতানা বনমাতি। এবার বিবেচনায় থাকবে ক্লাব মৌসুম আর বিশ্বকাপ দুটোই, তাই বিশ্বকাপ জয়ী স্পেনের খেলোয়াড় আর গোল্ডেন বুটজয়ী এমবাপের নাম নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা হবে। আমি এখানে কেবল অনুমান করছি, বিজয়ী কে হবেন তা ২৬ অক্টোবরের আগে বলা যাবে না।
৩০ মে বুদাপেস্টের পুশকাশ আরেনায় প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা ধরে রেখেছে। আর্সেনালের জন্য এটি ছিল ক্লাবের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল। প্রথমটিতে তারা ২০০৬ সালে বার্সেলোনার কাছে হেরেছিল। ফলে ঘরোয়া লিগ জিতেও ইউরোপের সেরা মঞ্চে তাদের অপেক্ষা আরও বাড়ল। পিএসজির জন্য এটা ছিল ধারাবাহিকতার প্রমাণ, কারণ তারা প্রথম শিরোপা জিতেছিল আগের বছর। হাঙ্গেরিতে এটাই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল ছিল। পরের ফাইনাল হবে ২০২৭ সালের ৫ জুন মাদ্রিদের এস্তাদিও মেত্রোপোলিতানোতে।
আর্সেনাল। মে মাসে তারা ২২ বছর পর প্রথমবার লিগ শিরোপা ঘরে তোলে। তাদের পয়েন্ট ছিল ৮৫। এটি ক্লাবের চতুর্থ প্রিমিয়ার লিগ ও ১৪তম শীর্ষ লিগ শিরোপা। শেষ দিকে ম্যানচেস্টার সিটি বোর্নমাউথের মাঠে ১-১ ড্র করলে লড়াই কার্যত শেষ হয়ে যায়। এরলিং হালান্ড ২৭ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন, আর আর্সেনালের ডেভিড রায়া সবচেয়ে বেশি ক্লিনশিটের জন্য গোল্ডেন গ্লাভস পেয়েছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ব্রুনো ফার্নান্দেস ২১টি অ্যাসিস্ট করে এক মৌসুমের রেকর্ড গড়েছেন। অন্যদিকে ওয়েস্ট হ্যাম ১৯৮২ সালের পর প্রথমবার, মানে ২০১১-১২ মৌসুম থেকে টানা থাকার পর, অবনমনে পড়েছে। আর্সেনালের জন্য মৌসুমটা পুরোপুরি সুখের হয়নি, কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে তারা হেরেছে।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায়। এরপর মিয়ামিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তারা ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারায়। বুকায়ো সাকা হ্যাটট্রিক করেন, শেষ দিকে উসমান দেম্বেলের গোলে ব্যবধান কমে ৫-৪ হলেও জুড বেলিংহামের গোলে জয় নিশ্চিত হয়। ১৯৮২ সালের পর বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এত গোল হয়নি। ১৯৬৬ সালের শিরোপার পর এটিই ইংল্যান্ডের সেরা বিশ্বকাপ ফল। বেলিংহাম টুর্নামেন্টে ৭ গোল করে ব্রোঞ্জ বুট পেয়েছেন। ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু ছয় দশকের মধ্যে এটাই তাদের সবচেয়ে ভালো আসর।
সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল পেয়েছেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। লিওনেল মেসি সিলভার বল এবং কিলিয়ান এমবাপে ব্রোঞ্জ বল পেয়েছেন। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপে ১০ গোল করে সবার ওপরে থেকেছেন, মেসির গোল ৮টি। এমবাপেই প্রথম খেলোয়াড় যিনি দুবার গোল্ডেন বুট জিতলেন (২০২২ ও ২০২৬), আর এক আসরে ১০ গোল ১৯৭০ সালের গার্ড মুলারের পর সর্বোচ্চ। সেরা গোলরক্ষকের গোল্ডেন গ্লাভস পেয়েছেন স্পেনের উনাই সিমন, যিনি পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন। সেরা তরুণ খেলোয়াড় হয়েছেন স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি। ফেয়ার প্লে ট্রফি গেছে নেদারল্যান্ডসের ঘরে। মেসির বয়স এখন ৩৯, ফাইনালের আগে অনেকেই তাকেই গোল্ডেন বলের ফেভারিট ভাবছিলেন।
স্পেন অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১০৬ মিনিটে ফেরান তরেস গোলটি করেন। এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ, প্রথমটি এসেছিল ২০১০ সালে। পুরো টুর্নামেন্টে তারা অপরাজিত ছিল। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ফাইনালে ১১টি সেভ করেছেন, যা বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো গোলরক্ষকের সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। পথে স্পেন ১৬-র রাউন্ডে পর্তুগালকে ১-০ এবং সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করা এই আসর ছিল ৪৮ দলের প্রথম বিশ্বকাপ। পরের বিশ্বকাপ হবে ২০৩০ সালে, মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগালে।
এপ্রিলের ফিসক্যাল মনিটরে IMF জানায়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সরকারি ঋণ জিডিপির ৯৩.৯ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে তা ১০০ শতাংশে উঠতে পারে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেখা যায়নি। বৈশ্বিক আর্থিক বাফার এক দশক আগের জিডিপির ১ শতাংশের বেশি থেকে এখন প্রায় শূন্যে নেমেছে। অর্থাৎ নতুন ধাক্কা এলে সামলানোর সুযোগ কম। অক্টোবরের WEO-তেও বলা হয়েছে, অনেক দেশের বাজেট ঘাটতি কোভিডের আগের তুলনায় অনেক বেশি এবং ঋণের খরচ বাড়ছে। IMF তাই বাফার পুনর্গঠনে "শক্ত ও সুচিন্তিত পদক্ষেপ" নিতে বলেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এর অর্থ হলো, বাইরে থেকে ঋণ পাওয়া কঠিন ও ব্যয়বহুল হবে, আর রাজস্ব বাড়ানোর চাপও বাড়বে।
এই সংস্করণের শিরোনাম “Resilience, Risk, and Transformation”। প্রথম অধ্যায়ের নাম “Beneath the Resilience: Rising Risks, Unresolved Vulnerabilities”, যার মূল কথা হলো ওপরের স্থিতিশীলতার নিচে ঝুঁকি আর অমীমাংসিত দুর্বলতা জমছে। বিশ্লেষণধর্মী দুটি অধ্যায়ের একটি হেজ ফান্ড ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে, অন্যটি আর্থিক সম্পদের টোকেনাইজেশনের সুযোগ ও ঝুঁকি নিয়ে। অক্টোবরের WEO-তে IMF আরও সতর্ক করেছে, এআই বিনিয়োগের রিটার্ন নিয়ে হঠাৎ ধারণা বদলালে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে এবং আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। সব মিলিয়ে বার্তা হলো, বাজার এখন শান্ত দেখালেও এআই-নির্ভর মূল্যায়ন আর নন-ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের ঋণঝুঁকি নজরে রাখা দরকার।
বাংলাদেশ তিন বছরে ৪ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে, যদিও IMF অঙ্কটি প্রকাশ করেনি। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার ঋণের শর্তগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে চায়, আর মূল দরকষাকষি হবে ব্যাংকক সভার পর IMF মিশন ঢাকায় এলে। নতুন কর্মসূচি আগামী জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে বলে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে আগের এক প্রতিবেদনে ৬ থেকে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের কথা এসেছিল, তাই অঙ্ক ও সময় নিয়ে সূত্রভেদে ভিন্নতা আছে। অর্থমন্ত্রীর একটি মন্তব্যে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছিল, কারণ তিনি পুরোনো কর্মসূচি বাতিলের প্রসঙ্গে বলেছিলেন, অথচ অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অঙ্ক নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার সরকারের সময় বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের মধ্যে IMF কর্মসূচিতে ঢুকেছিল। ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেয়। নতুন সরকার পুরোনো ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ তাদের মতে এর কিছু শর্ত সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে মেলে না। ওই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে মোট ৩.৬ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। এরপর সরকার নতুন প্যাকেজের জন্য আবেদন করে, যা ৩ জুনের এক বিবৃতিতে IMF-এর বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার নিশ্চিত করেন। অর্থাৎ ঋণ নেওয়া বন্ধ হয়নি, শর্তের ধরন বদলের দাবি উঠেছে।
IMF যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ২০২৬ ও ২০২৭ দুই বছরেই ২.৩ শতাংশ ধরেছে। চীনের প্রবৃদ্ধি কমে যথাক্রমে ৪.৫ ও ৪.০ শতাংশ হতে পারে, যার প্রধান কারণ দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা। চীনের জন্য তুলনামূলক হিসাবটা হলো, ২০২৫ সালে দেশটি বেড়েছিল ৫.০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রকে ধরে রাখছে মূলত এআই-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ। এই দুই বড় অর্থনীতির গতি বিশ্ববাণিজ্য, পণ্যের দাম আর উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি আয়ে প্রভাব ফেলে। চীনের ধীরগতি বিশেষ করে কাঁচামাল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়।
IMF ভারতের ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.০ শতাংশ করেছে। তাদের মতে ভারত এখনো দ্রুত বাড়তে থাকা বড় অর্থনীতিগুলোর একটি, যদিও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও তেলের উচ্চ দামে বিশ্বের অনেক জায়গায় চাপ আছে। নতুন হিসাব জুলাইয়ের চেয়ে ০.৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। IMF-এর মতে এর পেছনে আছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সেবা খাতের শক্ত গতি। ভারতের মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে বেড়ে ৫.০ শতাংশ হতে পারে, পরের বছর কমে ৪.৪ শতাংশে নামবে। এই হিসাব অর্থবছর ভিত্তিক। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের শক্ত প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
IMF-এর হিসাবে বৈশ্বিক হেডলাইন মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালের ৪.১ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে বেড়ে ৪.৭ শতাংশ হবে, তারপর ২০২৭ সালে নেমে ৪.১ শতাংশে আসবে। এ বছর দাম বাড়ার প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত আর জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন। জানুয়ারির পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের জন্য এর চেয়ে কম, প্রায় ৩.৮ শতাংশ ধরা হয়েছিল। সেই তুলনায় ছবিটা এখন খারাপ হয়েছে। তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন আর খাদ্যের খরচও বাড়ে, আর বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে তার প্রভাব দ্রুত পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাই সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
এবারের বার্ষিক সভা থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলছে, শেষ হবে ১৮ অক্টোবর। সভায় বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সরকারি ঋণ ও ফিনটেক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। IMF-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সোমবার বলেছেন, এআই অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়ার কারণেই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের কাছাকাছি টিকে আছে। সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা এই সভায় IMF-এর সঙ্গে আলাদা বৈঠকও করেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সেখানে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে কথা বলছে। ফলে এই সভা একদিকে বৈশ্বিক নীতির দিকনির্দেশনা দেয়, অন্যদিকে ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর জন্য সরাসরি আলোচনার সুযোগও তৈরি করে।
IMF বলছে, বিশ্ব অর্থনীতি কেবল ধীর বা দ্রুত হচ্ছে না। প্রবৃদ্ধি নতুনভাবে বণ্টিত হচ্ছে, এবং তা নির্ভর করছে যুদ্ধজনিত জ্বালানি ধাক্কা আর এআই-সংক্রান্ত চাহিদার সঙ্গে প্রতিটি দেশের সংযোগের ওপর। এআই বিনিয়োগের বুমে চাঙ্গা অর্থনীতিগুলো মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ঘাটতি অনেকটা পুষিয়ে দিচ্ছে। তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলো তাই বেশি চাপে, আর প্রযুক্তি রপ্তানি বা এআই অবকাঠামোর সঙ্গে জড়িত দেশগুলো তুলনামূলক ভালো আছে। IMF-এর মূল ধারণা হলো হরমুজ প্রণালি ২০২৭ সালের মার্চে আবার খুলবে এবং ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে পরিস্থিতি মোটামুটি যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে। এই অনুমান ভুল হলে পূর্বাভাসও বদলে যেতে পারে।
IMF আশা করছে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি ৩.১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.৪ শতাংশ হারে বাড়বে। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় ২০২৬ সালের হিসাব ০.১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে, আর ২০২৭ সালের হিসাব অপরিবর্তিত আছে। IMF-এর হিসাবে ২০২৫ সালে বিশ্ব অর্থনীতি বেড়েছিল ৩.৫ শতাংশ। তার মানে এ বছর প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমছে। উন্নত অর্থনীতিতে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশ হতে পারে, পরের বছর তা নেমে ১.৮ শতাংশ হবে। উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ৩.৭ শতাংশে নামবে, তারপর ২০২৭ সালে ৪.৪ শতাংশে উঠবে। প্রতিবেদনের শিরোনাম “Resilience Under Strain, Urgent Choices”। অর্থাৎ অর্থনীতি চাপের মধ্যেও টিকে আছে, কিন্তু নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
