আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (প্রশ্নোত্তর)
মাও সে তুং কবে চীনা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ডাক দেন?
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ
ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে কী ঘটেছিল?
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই FZ1073 ফ্লাইটে ১৭৪ জন ছিলেন। ৩০ সেপ্টেম্বর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী তদন্তে দেখা গেছে, কো-পাইলট জরুরি কুড়াল দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এটিকে সন্ত্রাসী কাজের চেষ্টা বলা হয়েছে। বিমানটি ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল। নেতানিয়াহু ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে এবং যাত্রীদের বড় দুর্ঘটনা ঠেকানোর কৃতিত্ব দিয়েছেন। এরপর ফ্লাইদুবাই ইসরায়েলগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। দুবাইয়ে আটকে পড়া ইসরায়েলিদের ফেরাতে ইসরায়েল উদ্ধার ফ্লাইট চালায়। মোটিভ এবং কারও সঙ্গে যোগসাজশ ছিল কি না, তদন্ত তা এখনো খতিয়ে দেখছে।
ট্রাম্প-শি বৈঠক থেকে কী পাওয়া গেল?
শি জিনপিং ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রীয় সফরে ছিলেন। এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি তাঁর প্রথম এমন সফর। বৈঠকের আগেই দুই দেশ বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাস বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করেছিল। আসল সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি। শুল্ক, বিরল খনিজ, কৃষিপণ্য কেনা, তাইওয়ান ও উন্নত চিপের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। শি যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরে আবার শির সঙ্গে দেখা হবে। সম্ভাব্য মঞ্চ হলো নভেম্বরে শেনজেনে এপেক সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে মায়ামিতে জি-২০। মোটকথা, সম্পর্ক সামলে রাখা গেছে, কিন্তু বড় কোনো সমঝোতা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নিয়ে কী করেছে?
১৬ সেপ্টেম্বর ফেড ১২-০ ভোটে সুদের হার ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ শতাংশ করেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটাই প্রথম বৃদ্ধি। ফেড চেয়ার কেভিন ওয়ার্শ মে মাসে দায়িত্ব নিয়েছেন। কর্মকর্তাদের পূর্বাভাসের মধ্যক হিসাবে বছরের শেষে হার ৪.১ শতাংশ হবে, অর্থাৎ আরও একবার বাড়ানো হতে পারে। জ্বালানির দামের কারণে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে, এটিও চাপ তৈরি করছে। একা ফেডই নয়, ইসিবি ও অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সেপ্টেম্বরে সুদ বাড়িয়েছে। দুর্বল জব ডেটার কারণে বাজার এখন পরবর্তী বৃদ্ধি অক্টোবরের বদলে ডিসেম্বরে ধরছে। আজ ১৪ অক্টোবর সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা। ফেডের পরবর্তী বৈঠক ২৭-২৮ অক্টোবর।
নভেম্বরের COP31 জলবায়ু সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
COP31 হবে তুরস্কের আন্তালিয়ায়, ৯ থেকে ২০ নভেম্বর। আয়োজনের কাঠামোটা অস্বাভাবিক। তুরস্ক আয়োজক ও সভাপতি, আর অস্ট্রেলিয়া দায়িত্ব পেয়েছে "আলোচনার সভাপতি" হিসেবে। নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন হবে ১১ ও ১২ নভেম্বর, আয়োজক প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। এরদোয়ান জানিয়েছেন, ১৯০টির বেশি দেশ থেকে এক লাখের বেশি দর্শনার্থী আসার আশা করা হচ্ছে। আলোচ্য বিষয়ের দিক থেকে একে "বাস্তবায়নের COP" বলা হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, জলবায়ু অর্থায়ন যথেষ্ট নয়, তাই এবার সেদিকেই নজর থাকবে। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা বাস্তবে কতটা এগোয়, সেটাও দেখার বিষয়।
অক্টোবর ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে কী বলা হয়েছে?
IMF আশা করছে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি ৩.১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.৪ শতাংশ হারে বাড়বে। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় ২০২৬ সালের হিসাব ০.১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে, আর ২০২৭ সালের হিসাব অপরিবর্তিত আছে। IMF-এর হিসাবে ২০২৫ সালে বিশ্ব অর্থনীতি বেড়েছিল ৩.৫ শতাংশ। তার মানে এ বছর প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমছে। উন্নত অর্থনীতিতে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশ হতে পারে, পরের বছর তা নেমে ১.৮ শতাংশ হবে। উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ৩.৭ শতাংশে নামবে, তারপর ২০২৭ সালে ৪.৪ শতাংশে উঠবে। প্রতিবেদনের শিরোনাম “Resilience Under Strain, Urgent Choices”। অর্থাৎ অর্থনীতি চাপের মধ্যেও টিকে আছে, কিন্তু নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি কোন দুটি বিপরীত শক্তির টানাপোড়েনে আছে?
IMF বলছে, বিশ্ব অর্থনীতি কেবল ধীর বা দ্রুত হচ্ছে না। প্রবৃদ্ধি নতুনভাবে বণ্টিত হচ্ছে, এবং তা নির্ভর করছে যুদ্ধজনিত জ্বালানি ধাক্কা আর এআই-সংক্রান্ত চাহিদার সঙ্গে প্রতিটি দেশের সংযোগের ওপর। এআই বিনিয়োগের বুমে চাঙ্গা অর্থনীতিগুলো মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ঘাটতি অনেকটা পুষিয়ে দিচ্ছে। তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলো তাই বেশি চাপে, আর প্রযুক্তি রপ্তানি বা এআই অবকাঠামোর সঙ্গে জড়িত দেশগুলো তুলনামূলক ভালো আছে। IMF-এর মূল ধারণা হলো হরমুজ প্রণালি ২০২৭ সালের মার্চে আবার খুলবে এবং ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে পরিস্থিতি মোটামুটি যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে। এই অনুমান ভুল হলে পূর্বাভাসও বদলে যেতে পারে।
২০২৬ সালের IMF-বিশ্বব্যাংক বার্ষিক সভা কোথায় হচ্ছে, আর সেখানে কী আলোচনা হচ্ছে?
এবারের বার্ষিক সভা থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলছে, শেষ হবে ১৮ অক্টোবর। সভায় বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সরকারি ঋণ ও ফিনটেক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। IMF-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সোমবার বলেছেন, এআই অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়ার কারণেই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের কাছাকাছি টিকে আছে। সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা এই সভায় IMF-এর সঙ্গে আলাদা বৈঠকও করেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সেখানে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে কথা বলছে। ফলে এই সভা একদিকে বৈশ্বিক নীতির দিকনির্দেশনা দেয়, অন্যদিকে ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর জন্য সরাসরি আলোচনার সুযোগও তৈরি করে।
বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে IMF কী পূর্বাভাস দিয়েছে?
IMF-এর হিসাবে বৈশ্বিক হেডলাইন মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালের ৪.১ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে বেড়ে ৪.৭ শতাংশ হবে, তারপর ২০২৭ সালে নেমে ৪.১ শতাংশে আসবে। এ বছর দাম বাড়ার প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত আর জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন। জানুয়ারির পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের জন্য এর চেয়ে কম, প্রায় ৩.৮ শতাংশ ধরা হয়েছিল। সেই তুলনায় ছবিটা এখন খারাপ হয়েছে। তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন আর খাদ্যের খরচও বাড়ে, আর বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে তার প্রভাব দ্রুত পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাই সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
ভারতের প্রবৃদ্ধি নিয়ে IMF কী বলেছে?
IMF ভারতের ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.০ শতাংশ করেছে। তাদের মতে ভারত এখনো দ্রুত বাড়তে থাকা বড় অর্থনীতিগুলোর একটি, যদিও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও তেলের উচ্চ দামে বিশ্বের অনেক জায়গায় চাপ আছে। নতুন হিসাব জুলাইয়ের চেয়ে ০.৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। IMF-এর মতে এর পেছনে আছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সেবা খাতের শক্ত গতি। ভারতের মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে বেড়ে ৫.০ শতাংশ হতে পারে, পরের বছর কমে ৪.৪ শতাংশে নামবে। এই হিসাব অর্থবছর ভিত্তিক। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের শক্ত প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনীতি নিয়ে IMF-এর পূর্বাভাস কী?
IMF যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ২০২৬ ও ২০২৭ দুই বছরেই ২.৩ শতাংশ ধরেছে। চীনের প্রবৃদ্ধি কমে যথাক্রমে ৪.৫ ও ৪.০ শতাংশ হতে পারে, যার প্রধান কারণ দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা। চীনের জন্য তুলনামূলক হিসাবটা হলো, ২০২৫ সালে দেশটি বেড়েছিল ৫.০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রকে ধরে রাখছে মূলত এআই-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ। এই দুই বড় অর্থনীতির গতি বিশ্ববাণিজ্য, পণ্যের দাম আর উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি আয়ে প্রভাব ফেলে। চীনের ধীরগতি বিশেষ করে কাঁচামাল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়।
