নোবেল পুরস্কার (প্রশ্নোত্তর)
কতজন বাঙালি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ
অর্থনীতিতে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন কে?
স্বেচ্ছায় নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন কে কে?
সর্বপ্রথম কোন নারী নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
সর্বপ্রথম কোন নারী দুইবার নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী প্রথম নারী কে?
সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী প্রথম নারী কে?
অমর্ত্য সেনকে নোবেল প্রাইজ দেয়া হয় কেন?
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এবার নোবেল কারা পেয়েছেন এবং কেন?
কার্ল ডাইসেরোথ, পিটার হেগেমান ও গেওর্গ নাগেল পুরস্কারটি ভাগ করে পেয়েছেন। তাঁদের সম্মান জানানো হয়েছে আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণযোগ্য আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিক্স নিয়ে আবিষ্কারের জন্য, আর প্রত্যেকে পেয়েছেন এক-তৃতীয়াংশ। ঘোষণাটি আসে ৫ অক্টোবর, স্টকহোমের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে। সহজ করে বললে, অপটোজেনেটিক্স এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে জিনগতভাবে আলোর প্রতি সংবেদনশীল করা হয়। তারপর আলো ফেলে সেই কোষগুলো চালু বা বন্ধ করা যায়। এর ভিত্তি হলো শৈবালে পাওয়া আলো-সংবেদী প্রোটিন, যা নিয়ে কাজ করেছেন হেগেমান ও নাগেল। ডাইসেরোথ সেটিকে প্রাণীর মস্তিষ্কে ব্যবহারের উপযোগী হাতিয়ারে পরিণত করেন। সংবাদ সংস্থাগুলো একে বর্ণনা করেছে এমন একটি টুল হিসেবে, যা আলো ব্যবহার করে মস্তিষ্কের কাজ বুঝতে সাহায্য করে। এর ফলে বিজ্ঞানীরা এখন নির্দিষ্ট কোষের সঙ্গে নির্দিষ্ট আচরণের সম্পর্ক সরাসরি পরীক্ষা করতে পারেন।
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল কে পেয়েছেন, আর আইসকিউব কী?
পদার্থবিজ্ঞানে এবার একাই পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সিস হালজেন। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে তাঁর নির্ণায়ক অবদান এবং মহাজাগতিক উৎসের উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার। ঘোষণা হয় ৬ অক্টোবর। হালজেন বেলজিয়ামে জন্মানো আমেরিকান পদার্থবিদ, জন্ম ১৯৪৪ সালে। আইসকিউব হলো দক্ষিণ মেরুর কাছে অ্যান্টার্কটিকায় বসানো একটি বিশাল যন্ত্র। এতে প্রায় এক ঘন কিলোমিটার বরফের ভেতরে আলো-সংবেদী সেন্সর লাগানো আছে। ছয় বছরের নির্মাণকাজের পর ২০১১ সালে এটি পুরোপুরি চালু হয়। নিউট্রিনোকে অনেকে "ভূতুড়ে কণা" বলেন, কারণ এরা পদার্থের ভেতর দিয়ে প্রায় বাধাহীনভাবে চলে যায়। তাই এদের ধরা খুব কঠিন। কিন্তু এরা মহাবিশ্বের দূরের ঘটনা সম্পর্কে এমন তথ্য বয়ে আনে, যা আলো দিয়ে পাওয়া যায় না। হালজেন নিজে বলেছেন, আগে থেকে আন্দাজ করা হলেও খবরটা শুনে তাঁর অদ্ভুত লেগেছে।
রসায়নে কারা জিতলেন, আর তাঁদের কাজটা কী নিয়ে?
হ্যানরি কাগান ও কেনসো সোয়াই পেয়েছেন এই পুরস্কার। সম্মাননার কারণ অসম জৈব সংশ্লেষণে অরৈখিক প্রভাব ও স্বয়ং-অনুঘটন আবিষ্কার। ঘোষণা করেছে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস, ৭ অক্টোবর। বিষয়টা বুঝতে একটা সহজ ছবি ভাবুন। অনেক অণুর দুটি রূপ থাকে, যেমন বাম হাত আর ডান হাত, একে অপরের আয়নার প্রতিচ্ছবি। ওষুধের ক্ষেত্রে একটি রূপ কাজের হতে পারে, অন্যটি ক্ষতিকর। অসম সংশ্লেষণ মানে হলো শুধু কাঙ্ক্ষিত রূপটি তৈরি করার কৌশল। কাগানের অরৈখিক প্রভাবে দেখা যায়, অনুঘটক পুরোপুরি বিশুদ্ধ না হলেও ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হতে পারে। সোয়াইয়ের স্বয়ং-অনুঘটনে বিক্রিয়ার ফল নিজেই অনুঘটকের কাজ করে এবং ছোট একটা ভারসাম্যহীনতাকে বড় করে তোলে। দুটোই ওষুধ ও রাসায়নিক শিল্পে বিশুদ্ধ উপাদান বানানোর পথ সহজ করেছে।

