- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয়, রাজশাহী এর পোস্টম্যান পদের প্রশ্ন সমাধান ২৭.০৩.২০২৬
- পিএসসি ও অন্যান্য ২০২৬
- সাধারণ জ্ঞান
ভারত বর্ষে 'ঘোড়ার ডাক' প্রচলন করেন কে?
ভারতবর্ষের ইতিহাসে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে একজনের নাম বিশেষভাবে উজ্জ্বল হয়ে আছে। মধ্যযুগের এই শাসকের দূরদর্শী চিন্তা ও রণকৌশলের অংশ হিসেবেই ঘোড়ার পিঠে চড়ে ডাক আদান প্রদানের এই বৈপ্লবিক পদ্ধতিটি প্রবর্তিত হয়েছিল। এই উদ্ভাবনী পদক্ষেপের প্রধান রূপকার ছিলেন সুলতান শেরশাহ শুরি। তার রাজত্বকাল সংক্ষিপ্ত হলেও তিনি শাসনব্যবস্থায় যে সমস্ত কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছিলেন তা পরবর্তী কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পথ দেখিয়েছে।
শেরশাহ উপলব্ধি করেছিলেন যে একটি বিশাল সাম্রাজ্যকে সুসংগঠিত রাখতে হলে দ্রুত সংবাদ আদান প্রদানের কোনো বিকল্প নেই। সামরিক এবং প্রশাসনিক খবরের গুরুত্ব বুঝে তিনি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল একটি ডাক ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। এই ব্যবস্থার অধীনে তিনি সাম্রাজ্যের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর সরাইখানা নির্মাণ করেছিলেন। এই প্রতিটি সরাইখানায় সবসময় এক জোড়া সতেজ ও দ্রুতগামী ঘোড়া এবং দক্ষ অশ্বারোহী প্রস্তুত রাখা হতো। যখন কোনো সংবাদবাহী দূত এক সরাইখানা থেকে অন্য সরাইখানায় পৌঁছাতেন তখন সেখানে অপেক্ষমাণ পরবর্তী দূত সেই সংবাদ নিয়ে পুনরায় দ্রুতবেগে যাত্রা শুরু করতেন। এভাবে বিরতিহীনভাবে ঘোড়া পরিবর্তনের মাধ্যমে সংবাদ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যেত যা সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে অবিশ্বাস্য রকমের গতিশীল ছিল।
এই যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সাফল্য পরিলক্ষিত হয়েছিল গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের বিশাল সীমানায়। সিন্ধু নদ থেকে শুরু করে সোনারগাঁ পর্যন্ত বিস্তৃত এই দীর্ঘ পথে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হতো। শেরশাহের এই পদ্ধতি শুধুমাত্র চিঠি আদান প্রদানের মাধ্যম ছিল না বরং এটি ছিল রাজ্যের নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা বিভাগের মেরুদণ্ড। এই ব্যবস্থার কারণেই সীমান্তে কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে বা বিদ্রোহের সম্ভাবনা তৈরি হলে তা অতি দ্রুত সুলতানের কানে পৌঁছে যেত। এই অসামান্য কর্মদক্ষতার কারণে শেরশাহকে আধুনিক ডাক ব্যবস্থার অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়। ইতিহাসের পাতায় আকবর বা বাবর সামরিক বিজয়ের জন্য বিখ্যাত হলেও জনকল্যাণমূলক ও প্রশাসনিক উদ্ভাবনে শেরশাহের অবদান অনস্বীকার্য।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

