- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয়, রাজশাহী এর পোস্টম্যান পদের প্রশ্ন সমাধান ২৭.০৩.২০২৬
- পিএসসি ও অন্যান্য ২০২৬
- বাংলা
'মৎস্যগন্ধা' কোন সমাসের উদাহরণ?
মৎস্যগন্ধা শব্দটি একটি অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক ভাষাতাত্ত্বিক উদাহরণ। ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এটি বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্ভুক্ত। সমাস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমাদের প্রথমেই শব্দটির ব্যাসবাক্য এবং এর অন্তর্নিহিত অর্থের দিকে তাকাতে হয়। মৎস্যগন্ধা শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো মৎস্যের ন্যায় গন্ধ যার। এখানে মৎস্য এবং গন্ধ নামক দুটি পদের কোনোটিরই অর্থ প্রধানভাবে প্রকাশিত হচ্ছে না। বরং এই দুটি পদ মিলে তৃতীয় একটি বিশেষ অর্থ বা সত্তাকে নির্দেশ করছে।
বহুব্রীহি সমাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো যেখানে সমস্যমান পদগুলোর অর্থ প্রধান না হয়ে অন্য কোনো নতুন অর্থ প্রাধান্য পায়। এই শব্দটির ক্ষেত্রেও আমরা দেখি যে মাছ কিংবা গন্ধ কোনোটিই এখানে মুখ্য নয়। এটি মূলত মহাভারতের একটি বিশেষ চরিত্র বা বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যযুক্ত ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যখন কোনো শব্দ তার আক্ষরিক অর্থ ত্যাগ করে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর গুণবাচক নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় তখন তাকে বহুব্রীহি সমাসের আওতায় ফেলা যুক্তিযুক্ত।
অন্যদিকে কর্মধারয় সমাসে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধান থাকে কিন্তু এখানে গন্ধ বিষয়টি প্রধান উদ্দেশ্য নয়। তৎপুরুষ সমাসে বিভক্তির লোপ ঘটে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় যা এই শব্দের ক্ষেত্রে খাটে না। দ্বিগু সমাস হতে হলে পূর্বপদে সংখ্যাবাচক শব্দ থাকা বাধ্যতামূলক যা এখানে অনুপস্থিত। মৎস্যগন্ধা শব্দটিতে মৎস্য শব্দটি একটি উপমান হিসেবে কাজ করছে এবং গন্ধ একটি বিশেষ্য পদ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এই দুইয়ের মিলনে যে নতুন অর্থের সৃষ্টি হয়েছে তা সরাসরি বহুব্রীহি সমাসের সংজ্ঞাকে সমর্থন করে। তাই সঠিক উত্তর হিসেবে বহুব্রীহি সমাসকে গ্রহণ করা ব্যাকরণসম্মত এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার মনে রাখা প্রয়োজন যে পদের অর্থের পরিবর্তনই এখানে সমাস চেনার মূল চাবিকাঠি।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

