- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন এর বেঞ্চ সহকারী পদের প্রশ্ন সমাধান [১৬ মে ২০২৬]
- জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ২০২৬
- বাংলা
'সূর্য দীঘল বাড়ি' আবু ইসহাক রচিত একটি-
'সূর্য দীঘল বাড়ি' আবু ইসহাক রচিত একটি উপন্যাস।
বাংলা সাহিত্যে এই উপন্যাসটি একটি কালজয়ী সৃষ্টি হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসে লেখক অত্যন্ত চমৎকারভাবে তৎকালীন গ্রামীণ সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৪৩ সালের পঞ্চাশের মন্বন্তরের পর গ্রামীণ বাংলায় যে তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছিল, তারই এক জীবন্ত দলিল এই আখ্যান।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে জয়গুন নামের এক সংগ্রামী নারী। অভাবের তাড়নায় এবং স্বামীর নির্যাতনের মুখে ডিভোর্স বা তালাক হওয়ার পর সে তার সন্তানদের নিয়ে টিকে থাকার লড়াই শুরু করে। গ্রামীণ কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং শোষক শ্রেণির অত্যাচারের বিরুদ্ধে জয়গুনের এই একাকী সংগ্রাম তৎকালীন গ্রামীণ নারীর ভেতরের শক্তিকে প্রকাশ করে। সমাজের নানা বাধা ও কুসংস্কারকে উপেক্ষা করে জয়গুন যেভাবে জীবনসংগ্রামে লিপ্ত হয়, তা প্রতিটি পাঠককে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
এই উপন্যাসের নামকরণের পেছনেও একটি লোকবিশ্বাস কাজ করেছে। গ্রাম বাংলায় প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, যে বাড়ির দৈর্ঘ্য পূর্ব-পশ্চিমে প্রসারিত, তাকে সূর্য দীঘল বাড়ি বলা হয় এবং এমন বাড়িকে সাধারণত অপয়া বা অমঙ্গলের প্রতীক মনে করা হয়। লেখক এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও জরাজীর্ণ বাড়িটিকে পুরো শোষিত সমাজের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
আবু ইসহাক তার সহজ, সরল ও সাবলীল ভাষার মাধ্যমে এই উপন্যাসে মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং সমাজ বাস্তবতাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এর সাহিত্যিক মূল্যের কারণে পরবর্তী সময়ে ১৯৭৯ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্রও নির্মাণ করা হয়, যা দেশে এবং বিদেশে প্রচুর প্রশংসা কুড়ায়। সাহিত্য বা সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে চাইলে এই বইটি পড়া অত্যন্ত জরুরি।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

