- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১২.১০.২০১২ [ক্রিসানথিমাম]
- প্রাথমিক শিক্ষক ২০১২
- সাধারণ জ্ঞান
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি পাট উৎপন্ন হয়?
ফরিদপুর জেলা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই জেলায় বছরে প্রায় ৩-৪ লক্ষ মেট্রিক টন পাট উৎপন্ন হয়, যা দেশের মোট পাট উৎপাদনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। পদ্মা ও কুমার নদীর অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানকার পলিমাটি এবং আর্দ্র জলবায়ু পাট চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
ফরিদপুরে পাট চাষ সফল হওয়ার কারণ:
প্রথমত, এই অঞ্চলের মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো। দ্বিতীয়ত, বর্ষাকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয় যা পাটের বৃদ্ধির জন্য আদর্শ। তৃতীয়ত, এখানকার কৃষকদের পাট চাষে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা রয়েছে। ফরিদপুরের ভাঙ্গা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী এবং সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পাট চাষ হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল:
ময়মনসিংহ: এই জেলাটি ধান উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও পাট উৎপাদনে ফরিদপুরের চেয়ে পিছিয়ে। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এলাকায় ভালো পাট হয়। ময়মনসিংহে বছরে প্রায় ২-২.৫ লক্ষ মেট্রিক টন পাট উৎপন্ন হয়।
রংপুর: উত্তরবঙ্গের এই জেলায় ধান, ভুট্টা এবং তামাক চাষই প্রধান। পাট উৎপাদন তুলনামূলক কম কারণ এখানকার মাটি এবং জলবায়ু পাটের জন্য ততটা উপযুক্ত নয়।
টাঙ্গাইল: যমুনা নদীর তীরবর্তী এই জেলায় ভালো মানের পাট হয় এবং এটি পাট উৎপাদনে দেশের শীর্ষ ৫ জেলার একটি। তবে উৎপাদনের পরিমাণ ফরিদপুরের তুলনায় কম, প্রায় ১.৫-২ লক্ষ মেট্রিক টন।
মনে রাখার কৌশল: "ফরিদপুর-পাট, পদ্মার দান" - পদ্মা নদীর পলিমাটি ফরিদপুরকে পাট উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় করেছে।
অতিরিক্ত তথ্য:
বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাট উৎপাদনকারী দেশ (ভারতের পরে)। পাটকে একসময় "সোনালি আঁশ" বলা হতো কারণ এটি বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে পাটের চাহিদা আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে বিশ্ববাজারে।
ফরিদপুর ছাড়াও কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর এবং রাজশাহী জেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পাট উৎপন্ন হয়। তবে সামগ্রিক উৎপাদন এবং গুণমানের দিক থেকে ফরিদপুর এখনও শীর্ষে রয়েছে।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

