- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রাজিনদের স্কুলে বেশ আনন্দঘন পরিবেশ। সবাই 'বই পড়া' ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে উৎফুল্ল। তবে নির্বাচনের বিধিমালা নিয়ে সবাই সতর্ক। নিষিদ্ধ থাকা স্বত্ত্বেও একজন প্রার্থীর পোস্টার স্কুলের দেয়ালে টাঙানো হলে নির্বাচন কমিশন তাদেরকে সতর্ক করে এবং পোস্টার তুলে নিতে নির্দেশ দেন। অবশেষে নির্দিষ্ট দিনে শিক্ষার্থীরা ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে নিজেদের ক্লাবের সদস্যদের বাছাই করে।
উদ্দীপকে কোন ধরনের নির্বাচনের চিত্র ফুটে ওঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের বর্ণনায় ফুটে ওঠেছে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের চিত্র।
কেননা, নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের একটি মৌলিক বিষয়। নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চিন্তা করা যায় না। আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভোটদানের মাধ্যমেই জনগণ তাদের এ. গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে। এ প্রক্রিয়ায় জনগণ তাদের দৃষ্টিতে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা সরকার গঠিত ও পরিচালিত হয় এবং নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে একটি কমিশন গঠন করা হয়, যা নির্বাচন কমিশন নামে পরিচিত। কমিশনের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনি বিধিমালা যথাযথ অনুরণের মাধ্যমেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং উদ্দীপকে এমনই একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের চিত্র ফুটে ওঠেছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
রাজনৈতিক দল কাকে বলে?
রাজনৈতিক দল বলতে এমন একটি নাগরিক সমষ্টিকে বোঝায়, যারা দলীয় আদর্শ প্রচারের মাধ্যমে জনমত গঠনের মধ্যে দিয়ে বৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে।
প্রাচীন গ্রিসে যে ধরনের সরকারব্যবস্থা প্রচলিত ছিল সেটি ব্যাখ্যা কর।
প্রাচীন গ্রিসে সর্বপ্রথম গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। সেখানকার নাগরিক সমাজ গণতন্ত্র বলতে এমন একটি রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থাকে বুঝাতো যাতে, গোটা নাগরিক সমাজের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছিল। সেখানকার গণতন্ত্রকে তাই বলা হতো প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রগুলোকে বলা হতো নগররাষ্ট্র। প্রাচীন গ্রিসে প্রথম চালু হওয়া সেই গণতান্ত্রিক আদর্শই আধুনিকালে গণতান্ত্রিক সভ্যতায় রূপ নিয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনের বিধিবিধানের মতো বাংলাদেশে নির্বাচন পরিচালনার জন্য কোনো নির্বাচনি আচরণবিধি রয়েছে। কি? মতামত দাও।
হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনের বিধিবিধানের মতো বাংলাদেশের নির্বাচন পরিচালনার জন্যও একটি নির্বাচনি আচরণ বিধি রয়েছে।
সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় বাংলাদেশের নির্বাচনি আরণবিধি নিম্নরূপ:
১. নির্বাচন সংক্রান্ত আইনকানুন ও বিধিবিধান অবশ্যই সকলকে মেনে চলতে হবে।
২. নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী কর্তৃক কোনো প্রতিষ্ঠানের চাঁদা বা অনুদান প্রদান নিষিদ্ধ।
৩. নির্বাচনি প্রচারণা:
i. রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী সমান অধিকার ভোগ করবে।
ii. কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত সড়ক বা মহাসড়কে মিছিল বা. জনসভা করা যাবে না।
iii. সরকারি ডাকবাংলো, সার্কিট হাউজ, রেস্টহাউজ ও সরকারি কার্যালয়কে প্রার্থীর প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
৪. অস্ত্র, অর্থ কিংবা পেশি দ্বারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করা যাবে না।
৫. কেবল নির্বাচনি কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রার্থী নির্বাচনি এজেন্ট এবং ভোটারগণ ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন।
৬. আচরণ বিধিমালার যেকোনো বিধানের লঙ্ঘন নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম হিসেবে গণ্য।

