• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ঘটনা-১: জনাব আবির এমন একটি দেশে থাকেন যেখানে তিনি ব্যবসায়-করতে চাইলে জানতে পারলেন যে, এখানে ব্যক্তিগত বা যৌথভাবে ব্যবসায় করার সুযোগ নেই। এখানে সবকিছু একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

ঘটনা-২: জনাব রাকিবের দেশে তাঁরা যেকোনো ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন। ব্যক্তি তার ইচ্ছামতো সম্পদ ভোগ ও হস্তান্তর করতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বললেই চলে।

জনাব আবিরের দেশের মজুরি প্রদান ব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের মজুরি প্রদান ব্যবস্থা কি সাদৃশ্যপূর্ণ? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

না, উদ্দীপকের জনাব আবিরের দেশের মজুরি প্রদান ব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের মজুরি প্রদান ব্যবস্থার পুরাপুরি সাদৃশ্য নেই। কেননা, উদ্দীপকের আবিরের দেশটি একটি সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দেশ। অন্যদিকে, বাংলাদেশ একটি মিশ্র অর্থব্যবস্থার দেশ। মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলতে এখানে ধনতন্ত্রের পাশাপাশি সমাজতন্ত্রেরও যুগল অবস্থান থাকে।
দুই অর্থব্যবস্থার পার্থক্য:

সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা
মিশ্র অর্থব্যবস্থা
১. সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন।
১. মিশ্র অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানার পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানা ও ব্যক্তি উদ্যোগেরও স্বীকৃতি রয়েছে।
২. সর্বাধিক মুনাফা অর্জনই এ উৎপাদন ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য।
২. মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় খাতে জনকল্যাণ সাধন ও উৎপাদন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য।
৩. মজুরি বণ্টনের ক্ষেত্রে শ্রমিক শোষণ বিদ্যমান থাকে।
৩. রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অংশের মজুরি বণ্টনে শ্রমিক শোষণ নেই, তবে ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত অংশে মজুরি বণ্টনে বৈষম্য রয়েছে।

সুতরাং আলোচনার আলোকে বলতে পারি, উদ্দীপকের জনাব আবিরের দেশের মজুরি প্রদান ব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের মজুরি প্রদান ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

সমষ্টিগত সম্পদ কাকে বলে?

সমষ্টিগত 'সম্পদ বলতে যেসব সম্পাদকে বোঝায় জনগণ, সম্মিলিতভাবে যেসব সম্পদের মালিক। যেমন- রাস্তাঘাট, সেতু, হাসপাতাল প্রভৃতি।

#

বণ্টনব্যবস্থা সমাজে কী ধরনের প্রভাব ফেলে? ব্যাখ্যা কর।

উৎপাদিত সম্পদ উৎপাদনের প্রধান চারটি নিয়ামকের মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বণ্টন বলে। যেমন: ভূমি ব্যবহারের জন্য ভূমির মালিককে দেওয়া হয় খাজনা, শ্রমিককে দেওয়া হয় মজুরি, মূলধনের মালিককে দেওয়া হয় সুদ এবং সংগঠককে দেওয়া হয় মুনাফা। এসব পারিতোষিক সুষ্ঠু ও যথাযথভাবে বণ্টিত হলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসে ও অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধিত হয়। আর বণ্টনব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ও অসম হলে অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দেয়, জীবনযাত্রার মানে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটতে পারে না। সমাজে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। অন্যদকে, একটি সুষ্ঠু বণ্টনব্যবস্থা উক্ত সমাজ ও অর্থনীতিকে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।

#

জনাব রাকিবের দেশে কোন ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকের জনাব রাকিবের দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান যার দরুন উৎপাদন ও ভোগের ক্ষেত্রে সে ব্যক্তিস্বাধীনতা ভোগ করে। বস্তুত, ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা একটি অন্যতম। প্রধান গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ যথা- ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন ব্যক্তিমালিকানাধীন।

ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য:

১. উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা স্বাধীন থাকে।

২. দ্রব্যের উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ সবই বাজারে দ্রব্যের চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া ও বিক্রিয়া দ্বারা পরিচালিত হয়।

৩. উৎপাদনের মতো ভোগের ক্ষেত্রেও ব্যক্তি স্বাধীন থাকে।

৪. সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যেই উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।

৫. শ্রমিক শোষণ বিদ্যমান।

৬. উৎপাদন ও ভোগের নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ থাকে না।

সুতরাং উদ্দীপকের জনাব রাকিবের দেশে আলোচিত এ ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই বিদ্যমান।