• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

দেশ
অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য
X
নাগরিকগণ নিজেদের পছন্দমতো দ্রব্য উৎপাদন ও ভোগ করতে পারে। যাকাত বাধ্যতামূলক।
Y
রাষ্ট্রীয় মালিকানার পাশাপাশি ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত। জনগণের ব্যবহার্য দ্রব্যের ক্ষেত্রে একচেটিয়া ব্যবসায় নিয়ন্ত্রিত।

উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটো দেশেই কি একই রকম শ্রমিক শোষণ বিদ্যমান? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উদ্দীপকে উল্লিখিত X দেশটি ইসলামি অর্থব্যবস্থার দেশ। আর 'Y' দেশটি মিশ্রঅর্থব্যবস্থার দেশ। এ দুটি দেশে একই রকম শ্রমিক শোষণ বিদ্যমান নয়। এক্ষেত্রে ইসলামি অর্থব্যবস্থায় শ্রমিক শোষণ নেই কিন্তু মিশ্র অর্থব্যবস্থায় শ্রমিক শোষণ বেশি বিদ্যমান।

মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশ ব্যক্তির দ্বারা সম্পূর্ণভাবে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। এ খাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মতোই শ্রমিককে প্রাপ্য মজুরির চেয়ে কম মজুরি দেওয়া হয়। উদ্বৃত্ত মজুরি ব্যক্তির মুনাফার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অর্থাৎ দেখা যায় মিশ্র অর্থব্যবস্থায় শ্রমিক শোষণের শিকার হয়। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যেকোনো ব্যক্তি একক বা গোষ্ঠীবদ্ধভাবে শরিয়তসম্মতভাবে দ্রব্যসামগ্রী উৎপানের জন্য বিনয়োগ করতে পারে। এক্ষেত্রে সে উৎপাদন কার্যক্রম শরিয়তসম্মতভাবে পরিচালনা করে। সেখানে শ্রমিকের মজুরি বা সুযেগ সুবিধা প্রদান করা হয় শরিয়তসম্মতভাবে। এক্ষেত্রে স্যাজক কল্যাণমুখী শোষণহীন উত্থদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। তাই ইসলাম অর্থনীতিতে শ্রমিক শোষণ নেই।

সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত X ও Y দেশে তথা ইসলামি ও মিশ্র অর্থনীতির দেশ দুটিতে একইরকম শ্রমিক শোষণ নেই।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

সংগঠন কাকে বলে?

উৎপাদন তিনটি উপকরণ, যথা- ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে সমন্বিত করে উৎপাদন কার্য পরিচালনা ও সম্পাদন করাকে বলে সংগঠন।

#

অর্থনীতিতে 'বাতাস' সম্পদ নয় কেন?

অর্থনীতিতে বাতাস সম্পদ নয়। কারণ, সম্পদ হতে হলে কোনো বস্তুর অপরিহার্য একটি গুণ থাকতে হবে তা হলো অপ্রাচুর্যতা। এক্ষেত্রে কোনো দ্রব্য বা সেবার চাহিদার তুলনায় যোগান বা সরবরাহের পরিমাণ কম হলে দ্রব্যটির অপ্রাচুর্য দেখা দেয়। সেই হিসেবে প্রকৃতিতে বিদ্যমান অফুরন্ত বাতাস সম্পদ নয়। কারণ, - প্রয়োজনের তুলনায় বাতাসের সরবরাহ বেশি এবং এর জন্য মানুষকে দাম দিতে হয় না।

#

উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' দেশটিতে কোন ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিরাজমান? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকের 'X' দেশটিতে ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিরাজমান।

যে অর্থব্যবস্থা ইসলামের নিয়মনীতি মেনে পরিচালিত হয় তাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলে। ইসলামি অর্থব্যবস্থা কোরআন ও হাদিসের আলোকে পরিচালিত হয় এবং এর চরম ও চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো সর্বাধিক মানবকল্যাণ সাধন করা। এতে মানবজীবনের সাথে সম্পর্কিত সামগ্রিক অর্থব্যবস্থার এক সুসংহত দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত বিভিন্ন বস্তু সামগ্রী ও পরিবেশ-প্রকৃতি ব্যবহার করে ইসলামি শরিয়তের আলোকে অধিকতর সম্পদ সৃষ্টি ও ভোগ করবে এটাই ইসলামের বিধান এবং ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূলকথা। এ অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্রের ন্যায় সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত হলেও যাকাতভিত্তিক হওয়ায় এতে শ্রেণিবৈষম্য ও শ্রমিক শোষণের স্থান নেই। এছাড়া এ ব্যবস্থার বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে হালালকে প্রাধান্য ও হারামকে পরিত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উদ্দীপকে 'X' দেশটির নাগরিকগণ নিজেদের পছন্দমতো দ্রব্য উৎপাদন ও ভোগ করতে পারে। এছাড়া এখানে যাকাত বাধ্যতামূলক, যা ইসলামি অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে X দেশটিতে ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিরাজমান।