• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ছকটি দেখ এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

পৌরনীতি ও সুশাসন
নাগরিকতা
অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ
স্থানীয়, জাতীয়, আন্তর্জাতিক

পৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ কী এবং তা এসেছে কোন ভাষার কোন শব্দ থেকে?

পৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Civics এবং তা এসেছে ল্যাটিন ভাষার Civis ও Civitas শব্দ থেকে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয় কেন?

নাগরিক ও নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত সব বিষয় আলোচনা করে বলে পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়। নাগরিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকার কার্যকলাপ নিয়ে পৌরনীতি অনুশীলন চালায়। নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের সাথে যুক্ত ঘটনাবলি ও কার্যকলাপ এ শাস্ত্রে আলোচিত হয়। নাগরিক জীবনের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, নৈতিক তথা সার্বিক দিকের আলোচনা পৌরনীতির বিষয়বস্তু।

#

উপরের উদ্দীপকটি পৌরনীতি ও সুশাসনের যে চিত্র তুলে ধরেছে তার স্বরূপ ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকটি পৌরনীতি ও সুশাসনের যে চিত্র তুলে ধরেছে তা হলো পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধির অন্তর্ভুক্ত নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত সম্পর্কিত আলোচনা এবং নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিক সম্পর্কিত আলোচনা।

পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। বিভিন্ন সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি শষরিকদের সুশাসন সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে সুষ্ঠু সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর সেই রাষ্ট্রের মানবিক দিকটি ফুটে ওঠে। পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনার মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের রাজনৈতিক অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকদের বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে পরিচিত করে। এভাবে জাতীয় চেতনা জাগ্রত করার মাধ্যমে নাগরিকদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে পৌরনীতিও সুশাসন পাঠ জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্র ও সরকারের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করে। এটা রাষ্ট্রের উৎপত্তি, বিকাশ, রাষ্ট্রীয় সংগঠনের গঠন কাঠামো ও রাষ্ট্রের কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান দান করে। এ বিষয় পাঠ করে সরকার, এর শ্রেণিবিভাগ, সরকারের বিভিন্ন রূপ, বৈশিষ্ট্য, দোষ-গুণ, সংবিধান, এর প্রকারভেদ, বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। সুনাগরিক হওয়ার জন্য এসব বিষয়ে জ্ঞান-অর্জন করা সুশাসন বিমূর্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করে। পৌরনীতি ও সুশাসনের মুখ্য উদ্দেশ্যে হলো রাষ্ট্রের নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে আলোচনা করা। পৌরনীতি ও সুশাসন সাংবিধানিক বিকাশ ও অগ্রগতির ধারা নিয়েও আলোচনা করে থাকে।

#

পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ নাগরিক জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করে? যুক্তি দিয়ে বোঝাও।

সুনাগরিকতার শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ নাগরিক জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে।

পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়ন এবং অনুশীলনের গুরুত্ব অপরিসীম। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিককে সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষাদান করে। সুনাগরিকতা অর্জনের তিনটি অপহিার্য গুণ হচ্ছে আত্মসংযম, বুদ্ধি ও বিবেকবোধ, পৌরনীতি ও সুশাসনের পাঠ নাগরিককে এ তিনটি গুণ লাভ করতে সহায়তা করে দেশ ও জাতি সম্পর্কে সচেতনতা অর্জনে সক্ষম করে তোলে। পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ করে নাগরিকরা দায়িত্বশীল, কর্তব্যনিষ্ঠ, স্বচ্ছ ও উদার মানসিকতা সম্পন্ন হয়। তাদের মধ্যকার গোঁড়ামি, সাম্পদায়িকতা, অন্ধবিশ্বাস, সংকীর্ণতা প্রভৃতি দূর হয়। প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে মানুষ যেসব কাজ করে তার সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। পৌরনীতি ও সশাসন নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। এটি প্রধানত রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে মানুষের কার্যাবলি পর্যালোচনা করে। আর মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যাবলি বিশ্লেষণ করাই পৌরনীতি ও সুশাসনের মূল পরিধি বা বিষয়বস্তু। তবে পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধি বা বিষয়বস্তু কেবল সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, আরও বহুবিধ বিষয় এ শাস্ত্রে আলোচিত হয়।

নাগরিকতা এবং সমাজজীবন পৌরনীতি ও সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন মৌলিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও আলোচনা করে।

পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের বর্তমান অবস্থা, অধিকার এবং কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি নাগরিকের অতীত ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা করে। আবার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নাগরিকতার ব্যাখ্যাও প্রদান করে। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহও পৌরনীতি' ও সুশাসনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পাশাপাশি পৌরনীতি ও অত্যাবশ্যক। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকদের সুযোগ নেতৃত্ব গঠনেও উদ্বুদ্ধ করে।

পরিশেষে বলা যায়, সুনাগকিতার শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে পৌরনীতিও সুশাসন নাগরিকদের সফল ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন গড়ে তুলতে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে।