- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
একাদশ শ্রেণির পাঠ্য বিষয়গুলোর মধ্যে প্রতীকের ভাল লাগে রাষ্ট্র, সরকার, নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা। ক্লাসের শিক্ষক যখন সুন্দর করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করে তখন সে ভাবে ভবিষ্যতে সে পৌরনীতি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে রাজনীতি বিশ্লেষক হবে।
স্বজনপ্রীতি বলতে কী বোঝায়?
স্বজনপ্রীতির সাধারণ অর্থ হলো আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠজনের প্রতি ভালোবাসা। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ বিষয়টি এক ধরনের দুর্নীতি হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে প্রচলিত নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করে এবং যোগ্য লোককে বঞ্চিত করে নিজের আত্মীয়-স্বজন বা ঘনিষ্ঠদের সুযোগ-সুবিধা দিলে তাকে স্বজনপ্রীতি (Nepotism) বলা হয়। যেমন- সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, ইত্যাদি ক্ষেত্রে সাধারণত উচ্চপদের কর্তারা অনেক সময় স্বজনপ্রীতির আশ্রয় গ্রহণ করেন। ফলে প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অদক্ষ ও অযোগ্য লোক নিযুক্তি পায়। অন্যদিকে যোগ্য, দক্ষ ও মেধাবী ব্যক্তিদের সেবা থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'সিভিটাস' শব্দের অর্থ কী?
'সিভিটাস' শব্দের অর্থ নগররাষ্ট্র (City State)।
উদ্দীপকে প্রতীকের ভাল লাগার বিষয়গুলো ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের প্রতীকের ভাল লাগার বিষয়গুলো হলো রাষ্ট্র, সরকার ও নেতৃত্ব।
রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে। প্রতিটি রাষ্ট্রেরই নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও জনসংখ্যা রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আরও রয়েছে সরকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ ক্ষমতা অর্থাৎ সার্বভৌমত্ব। এ চারটি উপাদানের সমন্বয়েই রাষ্ট্র গঠিত হয়। রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে অধ্যাপক গার্নার বলেন, 'সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংগঠিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত, স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।' সরকার রাষ্ট্র গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সরকার ছাড়া রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলি সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সরকার গঠিত হয় তিনটি বিভাগ নিয়ে। যথা- আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ। রাষ্ট্র ও সরকারের পাশাপাশি প্রতীকের ভালো লাগার অন্য আরেকটি বিষয় হলো নেতৃত্ব।
রাজনীতি বিশ্লেষক হওয়ার জন্য পৌরনীতি পাঠ করা প্রয়োজন কেন? বইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
রাজনীতি বিশ্লেষক হওয়ার জন্য পৌরনীতি পাঠ করা প্রয়োজন।
একজন রাজনীতি বিশ্লেষককে রাষ্ট্র ও সরকারের নানাদিক সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হয়। আর পৌরনীতি রাষ্ট্র ও সরকারের এসব দিক যেমন-রাষ্ট্রের উৎপত্তি, বিকাশ, রাষ্ট্রীয় সংঠনের গঠন কাঠামো, রাষ্ট্রের কার্যাবলি, সরকার, এর শ্রেণিবিভাগ, সরকারের বিভিন্ন রূপ, বৈশিষ্ট্য, প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে।
পৌরনীতি পাঠে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন বিভাগের গঠনপ্রণালি, ক্ষমতা ও কার্যাবলি, রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ভূমিকা, নির্বাচনব্যবস্থা, নির্বাচকমণ্ডলী, জনমত প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে বিশদজ্ঞান লাভ করা যায়, যা একজন রাজনীতি বিশ্লেষকের জন্য খুবই প্রয়োজন।
রাজনৈতিক উন্নয়নের (Political Development) ধারণা থেকেই উন্নত অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ঘটে। আর এই রাজনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে, পৌরনীতি। উন্নয়নের ধারা ও. পদ্ধতি-কৌশল সম্পর্কে পৌরনীতি সবিস্তারে আলোচনা করে। আর রাজনীতি বিশ্লেষক হিসেবে উন্নয়নের ধারা ও পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভঅপরিহার্য। একজন রাজনীতি বিশ্লেষকের কল্যাণমূলক রাষ্ট্র, সুশাসন, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত সম্পর্কে জানতে হয়। পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। সুশাসন কী এবং কীভাবে সুশাসন নিশ্চিত করা যায়- এ সম্পর্কে পৌরনীতি অধিকার গুরুত্বারোপ করে থাকে। এছাড়া অতীতে বিভিন্ন রাষ্ট্রে নাগরিক জীবনের ধরনা কেমন ছিল, বর্তমানে কীরূপ পরিগ্রহ করেছে এবং অতীত সও বর্তমানের আলোকে নাগরিকের ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কেও পৌরনীতি সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়।
উল্লিখিত কারণে রাজনীতি বিশ্লেষক হওয়ার জন্য পৌরনীতি পাঠ করা প্রয়োজন।

