- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জহিরের চাচা সুইজারল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘ বহু বছর পর দেশে ফিরে এসে এখানাকার নিয়ম-কানুন মানতে তার খুব অসুবিধা মনে হয়। তাই পদে পদে তার সমস্যা হচ্ছে।
সুশাসন কী?
সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শাসনকাজ পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
স্বচ্ছতা বলতে কী বুঝ?
স্বচ্ছতা হলো এমন একটি বিমূর্ত ধারণা যা দ্বারা মানুষ উপলব্ধি করতে পারে যে, কোনো কর্মকাণ্ড কতটুকু নীতিসঙ্গত বা বৈধ। এককথায় স্বচ্ছতা হলো সুস্পষ্টতা। এটি সুশাসনের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। সরকারি কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর সুশাসন নির্ভর করে। তাই স্বচ্ছতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে যখন সরকার তাদের কর্মকাণ্ড, নীতিমালা ও সিদ্ধান্ত জনগণকে অবহিত করতে পারবে।
পৌরনীতি ও ইতিহাসের সম্পর্ক কী? ব্যাখ্যা করো।
পৌরনীতি ও সুশাসন এবং ইতিহাস উভয়ই সামাজিক বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
উভয়ের সম্পর্কও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। নিম্নে পৌরনীতি ও ইতিহাসের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হলো- পৌরনীতির জ্ঞান ছাড়া ইতিহাস যেমন অর্থহীন তেমনি ইতিহাসের তথ্য ছাড়া পৌরনীতির আলোচনাও অর্থহীন। এ কারণেই জন সিলী (Seely) বলেছেন, পৌরনীতি ব্যতীত ইতহাস মূল্যহীন, আর ইতিহাস ব্যতীত পৌরনীতি ভিত্তিহীন।
ইতিহাস অতীতের ঘটনাবলি, আন্দোলন, বিপ্লব সম্পর্কে আলোচনা করে এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিবর্তন ও তত্ত্বসমূহ আলোচনা করে। আর যখন বিভিন্ন ঘটনাবলি ও ধারণাসমূহ পৌরনীতিতে আলোচনা করা হয়, তখন তাদের ঐতিহাসিক বিকাশ ধারাও বিবেচনা করতে হয়। এ কারণে বলা হয় ইতিহাস পৌরনীতির গবেষণাগার। নাগরিকের অতীতের ঘটনাবলি যেমন বর্তমানে ইতিহাস, তেমনি বর্তমানের ঘটনাবলিও ভবিষ্যতে ইতিহাসে পরিণত হবে। ফরাসি বিপ্লব, রুশ বিপ্লব, আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রাম প্রভৃতি কোন আর্থ-সামাজিক পরিবেশে সংঘটিত হয়েছে, ইতিহাস তা জানতে সাহায্য করে।
পৌরনীতি ও সুশাসন এবং ইতিহাস একে অপরের পরিপূরক হিসাবে কাজ করে। ঐতিহাসিক তথ্য ও সাক্ষ্য প্রমাণ ব্যতীত পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনা সম্পূর্ণ হয় না। তেমনি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচিত না হলে ইতিহাসের আলোচনা নিরর্থক হয়ে পড়ে।
পৌরনীতি ও সুশাসন এবং ইতিহাস একে অপরকে পূর্ণতা দান করে। ইতিহাস প্রদত্ত তথ্য, ঘটনাবলির দ্বারা যেমন পৌরনীতি ও সুশাসন পূর্ণতা লাভ করে। ঠিক তেমনি পৌরনীতির জ্ঞান দ্বারা ইতিহাসও সমৃদ্ধি লাভ করে।
'বর্তমানে পৌরনীতি স্থানীয়, জাতীয় বিষয় পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিস্তৃতি লাভ করেছে।' উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।
'বর্তমানে পৌরনীতি স্থানীয়, জাতীয় বিষয় পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিস্তৃতি লাভ করেছে।' উক্তিটি যথার্থ।
পৌরনীতি ও সুশাসন মূলত নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত সবকিছু পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয়। নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান হিসেবে পৌরনীতি শুধুমাত্র নাগরিকের স্থানীয় ও জাতীয় বিষয় নিয়েই আলোচনা করে না, বরং এটি নাগরিকের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিকেও পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
নাগরিক জীবন আজ স্থানীয় ও জাতীয় গণ্ডির সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করেছে। অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধি | অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশই বর্তমানে প্রতিবেশী ও দূরের সব রাষ্ট্রের সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করে বিশ্ব-শান্তি ও বন্ধুত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করার জন্যই গড়ে তুলেছে জাতিসংঘসহ অন্যান্য বহু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। পৌরনীতি ও সুশাসন জাতিসংঘসহ অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের উদ্ভব, বিকাশ, উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা করে। ফলে এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে মানুষের আচরণ ও কার্যাবলি কীরূপ হওয়া উচিত তা জানতে পৌরনীতি ও সুশাসন সাহায্য করে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় তা নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে থাকে। অতীতে দু'দুটি বিশ্বযুদ্ধ কীভাবে বিশ্বশান্তি বিনষ্ট করেছে, বিশ্বের শান্তিকামী নেতাগণ কীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ, জাতিসংঘ প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তুলেছে এবং এসব সংগঠন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কী ভূমিকা পালন করছে, পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ করে তা জানা যায়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, বর্তমানে পৌরনীতির আলোচনা শুধুমাত্র স্থানীয় ও জাতীয় বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয়; বর্তমানে এটি স্থানীয় ও জাতীয় বিষয় পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিস্তৃতি লাভ করেছে।

