- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মারুফ সাহেব চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সত্য। কিন্তু নাগরিক ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কে তার যথেষ্ট জ্ঞান না থাকার কারণে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হন।
আদর্শ চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য মারুফ সাহেবের কী করা উচিত? এবং কেন? যথার্থতা বিচার করো।
উদ্দীপকের মারুফ সাহেবের মধ্যে পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। তাই আদর্শ চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য মারুফ সাহেবের পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ করা উচিত।
পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকতা বিষয়ক সামাজিক বিজ্ঞান। নাগরিকতার সাথে জড়িত সকল বিষয় পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে থাকে। পৌরনীতি ও সুশাসনের এ সকল পাঠ নাগরিকদেরকে সুনাগরিকতার গুণাবলি সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যবোধ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায় পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ থেকে। একজন নাগরিক স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের সাথে সংশ্লিষ্ট এ সকল প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি, গঠন, কার্যাবলি, বিকাশ নিয়ে আলোচনা করে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে নাগরিকদের সম্পর্ক কেমন হবে তাও পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।
উদ্দীপকের মারুফ সাহেব একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান হলেও তিনি নাগরিক ও নাগরিকের অধিকার সম্পর্কে জানেন না। ফলে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে তিনি যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হন। মারুফ সাহেবের এই সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কারণ হলো পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ে তার কোনো ধারণা বা জ্ঞান নেই। তাই মারুফ সাহেবের এই সমস্যা থেকে উত্তরণ ও আদর্শ চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি পাঠ করা উচিত। কেননা পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার-কর্তব্য এবং বিভিন্ন স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
পৌরনীতি কী?
পৌরনীতি হলো সামাজিক বিজ্ঞানের একটি শাখা, যা নাগরিকতার সাথে সম্পৃক্ত সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
'পৌরনীতি একটি অন্যতম সামাজিক বিজ্ঞান' উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
সমাজবদ্ধ মানুষের নাগরিক জীবনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রথা, আইন; আচার-অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠেছে। সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সমাজ ও নাগরিকতার সাথে জড়িত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। পৌরনীতি একটি নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান হিসেবে নাগরিকতার সাথে জড়িত স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। তাই পৌরনীতিকে একটি অন্যতম সামাজিক বিজ্ঞান বলা হয়।
উদ্দীপকের মারুফের বাস্তব জীবনে উক্ত বিষয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের মারুফের মধ্যে পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞানের অভাব পরিলক্ষিত হয়। তাই মারুফের বাস্তব জীবনে পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের জ্ঞান অপরিহার্য।
পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। এটি নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকে। নাগরিকতার অর্থ ও প্রকৃতি, নাগরিকতা অর্জন ও বিলোপ, সুনাগরিকতা, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যবোধ প্রভৃতি পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয়। একজন নাগরিক স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের এ সকল স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি, গঠন, কার্যাবলি ও বিকাশ নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়াও পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করে থাকে। পৌরনীতি ও সুশাসনের এসকল আলোচনা নাগরিকদের সুনাগকিতার গুনাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যবোধের শিক্ষা দিয়ে সুস্থ, সুন্দর জীবন গঠনের শিক্ষা দান করে। নাগরিক দৃষ্টিভঙ্গি উদার করে, সংকীর্ণতা দূর করে।
পৌরনীতি ও সুশাসনের পাঠ নাগরিক চেতনা বৃদ্ধি করে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রগঠনে সহায়তা করে। নাগরিকদের সামনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ের দিগন্ত উন্মোচন করে। ফলে নাগরিকদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায়। দেশপ্রেমের শিক্ষাও পৌরনীতি ও সুশাসনের পাঠ থেকে লাভ করা যায়। সর্বোপরি পৌরনাতি ও সুশাসনের শিক্ষা রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের মারুফ রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে উক্ত বিষয়গুলোর সাথে সম্পৃক্ত। তাই তার বাস্তব জীবনে সুনাগরিকতার শিক্ষা, নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রূপ, নাগরিক চেতনা বৃদ্ধি ও দেশপ্রেম সৃষ্টিতে পৌরনীতি ও সুশাসনের শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

