• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ছকের বিষয়গুলো '?' চিহ্নিত স্থানে কোন শাস্ত্রকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

ছকের বিষয়গুলো '?' চিহ্নিত স্থানে ইতিহাসকে নির্দেশ করে।

ইতিহাস মানবজীবনের অতীত ঘটনাবলির সকল দিক নিয়েই আলোচনা করে। মানুষ, প্রকৃতি, পরিবেশ, সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিকাশ, পরিবর্তন ও পতনের বিজ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধান হচ্ছে ইতিহাসের বিষয়বস্তু। ইংরেজি 'History' শব্দটি এসেছে গ্রিক ও ল্যাটিন শব্দ 'Historia' থেকে। যার অর্থ হচ্ছে সত্যানুসন্ধান।
পৌরনীতি ও সুশাসন যেহেতু নাগরিকতার বিজ্ঞান, তাই ইতিহাসের মাধ্যমে নাগরিকতার অতীত ধারণা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা যায়। বর্তমানে নাগরিকতা এবং নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে হলে অতীতের নাগরিকতার রূপ কী ছিল এবং নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যই বা কী ছিল সে সম্বন্দ্বে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। তাছাড়া অতীতে পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য প্রতিষ্ঠানাদি কীরূপ ছিল তা ইতিহাস পাঠে জানা যায়। দৃষ্টান্তস্বরূপ প্রাচীন গ্রিসে কী কারণে নগররাষ্ট্র (City State) সৃষ্টি হয়েছিল এবং আধুনিককালে কেন জাতি রাষ্ট্রের (Nation State) উদ্ভব ঘটেছে তার সঠিক ব্যাখ্যার জন্য সে দেশের ইতিহাস সম্বন্ধে সুষ্ঠু জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়।

উদ্দীপকে অতীতের আন্দোলন, বিপ্লব ও মানবজীবনের অতীত ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে। যা দ্বারা মূলত ইতিহাস বিষয়টিকেই নির্দেশ করা হয়েছে। অতএব বলা যায়, ইতিহাস হলো মানবজাতির অতীতের স্মারকলিপি, সামগ্রিক জীবন-দর্পণ।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

'Civitas' শব্দের অর্থ কী?

'Civitas' শব্দের অর্থ 'নপররাষ্ট্র' (City State)।

#

পৌরনীতির সংজ্ঞা দাও।

সামাজিক বিজ্ঞানের যে শাখা নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করে, তা-ই পৌরনীতি। পৌরনীতি নাগরিকদের আচরণ ও কার্যাবলি সংক্রান্ত বিজ্ঞান। অর্থাৎ নাগরিক জীবনের সাথে সম্পর্কিত স্থানীয়, জাতীয় বা রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানের যে শাখা আলোচনা করে তাকে পৌরনীতি বলে।

#

আমাদের সকলের নাগরিক জীবন সম্পর্কে জানতে ছকে উল্লিখিত বিষয়টি পাঠের বিকল্প নেই। বিশ্লেষণ করো।

আমাদের সকলের নাগরিক জীবন সম্পর্কে জানতে ছকে উল্লিখিত বিষয়টি অর্থাৎ, ইতিহাস পাঠের বকল্প নেই। বক্তব্যটি যথার্থ।

পৌরনীতি ও সুশাসনের সাহায্য ছাড়া ইতিহাসের পথচলা যেমন কঠিন তেমনই ইতিহাসের সাহায্য ছাড়াও পৌরনীতি ও সুশাসনের পথচলা কঠিন। ইতিহাস মানবজাতির অতীতের স্মারকলিপি, সামগ্রিক জীবন-দর্পণ। অন্যদিকে, পৌরনীতি ও সুশাসনের যে অংশ সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকারের সাথে সম্পর্কিত সেসব ক্ষেত্রে ইতিহাসের সাথে তার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। এছাড়া এ দুটি শাস্ত্রই পরস্পর পরস্পরকে পূর্ণতা প্রদান করেছে। ইতিহাসের তথ্য দ্বারা পৌরনীতি যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে ঠিক তেমনি পৌরনীতির জ্ঞান দ্বারা ইতিহাসও সঞ্জীবিত হয়েছে। একইসাথে পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয়সমূহ যেমন পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র প্রভৃতি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো অতীতে কীরূপ ছিল, কীভাবে তা বিবর্তিত হয়ে বর্তমান রূপ পরিগ্রহ করেছে ইতিহাস পাঠ করলে তা জানা যায়। এমনকি ঐতিহাসিক তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ ব্যতীত পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনা অসম্পূর্ণ, আবার রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচিত না হলে ইতিহাসের আলোচনাও নিরর্থক হয়ে পড়ে।

ইতিহাস যেমন পৌরনীতি ও সুশাসনকে তার অন্তর্নিহিত সত্যের সন্ধান দেয়, তেমনি পৌরনীতি ও সুশাসন ইতিহাসের আলোচনাকে পরিপূর্ণতা দাম করে। পৌরনীতি ও সুশাসন ছাড়া ইতিহাস পাঠ সার্থক হতে পারে না। পৌরনীতি ও সুশাসনের তথ্যগুলো পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক ঘটনাবলির ওপর আলোকপাত করে এবং ইতিহাসের স্বরূপ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।

আলোচনা শেষে বলা যায়, আমাদের সবার নাগরিকজীবন সম্পর্কে জানতে ছকে উল্লিখিত বিষয়টি অর্থাৎ, ইতিহাস পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি।