- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
একাদশ শ্রেণির পঠিতব্য বিষয়গুলোর মধ্যে রাফির নাগরিক ও নগররাষ্ট্র বিষয়ের আলোচনা খুব ভালো লাগে। ক্লাসে স্যার যখন সুন্দরভাবে নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সাম্য, স্বাধীনতা সম্পর্কে আলোচনা করেন তখন সে নিজের অবস্থান নির্ধারণ করার চেষ্টা করে।
পৌরনীতি সম্পর্কে ই.এম হোয়াইট এর সংজ্ঞাটি লেখ।
পৌরনীতির সংজ্ঞায় ই. এম. হোয়াইট বলেন, পৌরনীতি হলো মানব জ্ঞানের সেই শাখা যা নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয় জাতীয় ও মানবতার সাথে জড়িত প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করে
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয় কেন?
নাগরিক ও নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত সকল বিষয় আলোচনা করে বলে পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়।
নাগরিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকার ক্রিয়াকলাপ নিয়ে পৌরনীতি অনুশীলন চালায়। নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের সাথে জড়িত ঘটনাবলি ও কার্যকলাপ এ শাস্ত্রে আলোচিত হয়। নাগরিক জীবনের ধর্মীয়, নৈতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক তথা সার্বিক দিকের আলোচনা পৌরনীতির বিষয়বস্তু।
উদ্দীপকে স্যারের ক্লাস রাফিকে আকৃষ্ট করে কেন? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে স্যারের আলোচিত বিষয়বস্তুগুলো পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে সেই ক্লাস রাফিকে আকৃষ্ট করে।
পৌরনীতি হচ্ছে সামাজিক বিজ্ঞানের একটি শাখা। পৌরনীতি নাগরিক জীবনের সাথে সম্পর্কিত স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে থাকে। পৌরনীতি মানুষের কার্যাবলি, অভ্যাস ও আচরণ বিশ্লেষণ এবং রাষ্ট্র ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি পর্যালোচনার আলোকে আদর্শ নাগরিক জীবনের শিক্ষা দান করে।
রাফি নাগরিক হিসেবে তার অধিকার, কর্তব্য, স্বাধীনতা ও সাম্য সম্পর্কে স্যারের পৌরনীতি ও সুশাসন ক্লাস থেকে জানতে পারে। স্যার ক্লাসে সুন্দরভাবে একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং স্বাধীনতা ও সাম্য সম্পর্কে আলোচনা করেন। এসব কারণে স্যারের ক্লাস রাফিকে আকৃষ্ট করে।
"শুধু রাফি নয়, সকল নাগরিকের এরূপ বিষয় অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।" তুমি কি একমত? বিশ্লেষণ কর।
শুধু রাফি নয়, সকল নাগরিকের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি অধ্যয়ন করা প্রয়োজন বিষয়টির সাথে আমি একমত।
পৌরনীতি হচ্ছে সেই শাস্ত্র যা নাগরিক অধিকার ও কর্তব্যের পাশাপাশি নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠান ও আচরণ সম্পর্কে আলোচনা করে। সুনাগরিক হিসেবে সুসংহত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন লাভ করতে হলে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা সর্বাগ্রে।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি নাগরিক, নগররাষ্ট্র, নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সাম্য, স্বাধীনতা প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে। এটি মূলত পৌরনীতি ও সুশাসন। এটি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যায়। অতীতে নাগরিক জীবনের সূত্রপাত, তখন নাগরিকতার স্বরূপ, বর্তমান আধুনিক যুগে নাগরিকতার ধরন, নাগরিকতা অর্জন ও বিলুপ্তির পদ্ধতি এবং ভবিষ্যতে নাগরিকের আচরণ ও কার্যাবলি কেমন হবে ইত্যাদি বিষয় পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।
সুনাগরিক হওয়ার জন্য পৌরনীতি নাগরিককে অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান দান করে এবং কর্তব্য পালনের মাধ্যমে অধিকার ভোগে সচেতন করে তোলে। এ সচেতনতার ফলে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল হয়। নিজেদেরকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা থাকা প্রয়োজন পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা তা অর্জন করতে সক্ষম হয়।
সুতরাং একথা বলা যায়, উত্তম নাগরিক জীবন গঠন করে সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তি বজায় রাখার জন্য পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ করা আবশ্যক। সুস্থ-সুন্দর রাষ্ট্র ও সমাজ গড়তে এবং সুনাগরিকতার শিক্ষা অর্জনে রাফিসহ সব নাগরিকের জন্য পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম।

