• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

দেশের সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কোনো বিকল্প নেই। দেশের সাধারণ জনগণ যখন তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন হয় ও সুনাগরিক হিসাবে গড়ে উঠে তখনই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জিত হয়। পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে পারে।

পৌরনীতি কী?

পৌরনীতি হলো সামাজিক বিজ্ঞানের একটি শাখা, যা নাগরিকতার সাথে সম্পর্কিত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

সুশাসন বলতে কী বুঝ?

সুশাসন বলতে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা সম্পন্ন শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়।

শাসন শব্দটির সাথে 'সু'প্রত্যয় যোগ হয়ে সুশাসন শব্দটির উদ্ভব ঘটেছে। এটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা। সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকর শাসন। বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল। যথা- ১. দায়িত্বশীলতা, ২. স্বচ্ছতা, ৩. আইনি কাঠামো ও ৪. অংশগ্রহণ। ম্যাককরনি (Maccorney) সুশাসনের সংজ্ঞায় বলেন, সুশাসন হচ্ছে রাষ্টের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের ও শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ক।

#

সুনাগরিক হিসাবে গড়ে উঠতে পৌরনীতির জ্ঞান প্রয়োজন কেন?

পৌরনীতি নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। একজন নাগরিকের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পৌরনীতি অধ্যয়ন ও অনুশীলনের গুরুত্ব অপরিসীম।

রাষ্ট্রের সব নাগরিকই সুনাগরিক নয়। বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম এই তিনটি গুণসম্পন্ন ব্যক্তিকে সুনাগরিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বিবেক বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি নিজ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বহুমুখী সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ক্ষেত্রে সঠিক ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিবেকবোধসম্পন্ন ব্যক্তি ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ, ভালো-মন্দ অনুধাবন করতে পারে এবং অন্যায় ও অসৎ কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে বিরত রাখে। এছাড়া রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে থাকে। আত্মসংযমী ব্যক্তি নিজেকে সকল প্রকার লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করে।
পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকতার অর্থ ও প্রকৃতি, নাগরিকতা অর্জন ও বিলোপ, সুনাগরিকতা, সুনাগরিকের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের উপায়, নাগরিকের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। এছাড়া পৌরনীতি পাঠ করে নাগরিকগণ নিজেদেরকে সৎ, ন্যায়পরায়ণ, বুদ্ধিমান, আত্মসংযমী, দায়িত্বশীল, বিবেকবান এবং সত্যনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। একমাত্র পৌরনীতির জ্ঞান মানুষকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। সুতরাং বলা যায়, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পৌরনীতির জ্ঞান অত্যাবশ্যক।

#

"সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই"- বিশ্লেষণ কর।

সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়তে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই-এ বিষয়টির সাথে আমি একমত।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বলতে বোঝায় রাষ্ট্রে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে এক ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করবে। রাষ্ট্রে কোনো রাজনৈতিক হানাহানি, হরতাল, ধর্মঘট, অবরোধ, অসহযোগ থাকবে না।

রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। কেননা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করলে' দেশীয় বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেমন পুঁজি বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়, তেমনি বিদেশি উন্নয়ন এজেন্সি ও দাতা সংস্থাগুলো তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী হয়। ফলে দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে যায়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। পক্ষান্তরে, যুদ্ধ, জাতিগত দাঙ্গা, ধর্মীয় উগ্রবাদ যদি কোনো দেশে বিদ্যমান থাকে তবে সেখানে জীবন, স্বাধীনতা, সম্পদ হুমকির সম্মুখীন হয়। পাশাপাশি ছিনতাই, রাহাজানি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রভৃতি রাষ্ট্রীয় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে দেশে উৎপাদন ব্যাহত করে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সুষম বিকাশ ঘটে না, নেতৃত্বের বিকাশ ব্যাহত হয়, গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়ে।

উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যয়, "সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই" বক্তব্যটি যথার্থ।