- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- সাহিত্যে খেলা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মানুষের একটি চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে নিজের অনুভূতি ও উপলব্ধি অন্যের কাছে প্রকাণ করা। জয়নুল আবেদীনের মতো ছবি এঁকে কিংবা রবীন্দ্রনাথের মতো কবিতা, গান লিখে নিজ হৃদয়ানুভূতি ও রূপচেতনা সে অন্য মনে ছড়িয়ে দিতে চায়। এভাবে সে জগতের সকল মানুষের সলো সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। চায় লক্ষ হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতে। এ কাজ তখনই সফল হয়, যখন রঙে, ঢঙে, আকারে-প্রকারে, ভাষায়-সুরে, ছন্দে, ইঙ্গিতে নিখুঁত রূপ বা অনুভূতি অন্য মনে প্রতিফলিত ও সঞ্চারিত করা যায়। এ কাজ যে পারে, শিল্পরাজ্যের সেই রাজা। ধর্মের জাতপাত, বর্ণভেদ সেখানে একাকার।
‘মানুষের দেহমনের সকল ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ’- কেন? ব্যাখ্যা করো।
মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কেননা-তা উদ্দেশ্যহীন বা নিষ্কাম কর্ম। প্রাবন্ধিকের মতে, সাধারণত মানুষ যখন খেলা করে তখন সে আনন্দ ছাড়া অন্য কোনোকিছুর আকাঙ্ক্ষা রাখে না। নিষ্কাম আনন্দই তার একমাত্র প্রত্যাশা। মানুষ খেলা করে শুধু সেসময়ের কাঙ্ক্ষিত আনন্দের জন্য, অন্য কোনোকিছু পাওয়ার ইচ্ছা তার থাকে না। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক মনে করেন, এ কথাটির পিছনে ব্যক্তির কামনা-বাসনা বা অভিসন্ধির মতো কোনো হীন প্রবৃত্তি কাজ করে না। ক্রীড়াকে তাই তিনি শ্রেষ্ঠ কর্ম হিসেবে বিবেচনা করেন।
উত্তরের সারবস্তু: মানুষের দেহমনের সকল ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কেননা তা উদ্দেশ্যহীন বা নিষ্কাম কর্ম।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
রোদ্যার একটি শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্যের নাম লেখো।
রোদ্যার একটি শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্যের নাম হলো ‘নরকের দুয়ার’।
প্রবন্ধে বর্ণিত ব্রাহ্মণশূদ্রের মানবাধিকার উপরের অনুচ্ছেদের কোন বক্তব্যে প্রতীয়মান হয়? আলোচনা করো।
প্রবন্ধে বর্ণিত ব্রাহ্মণশূদ্রের মানবাধিকার উপরের অনুচ্ছেদের শিল্পরাজ্যে ধর্মের জাতপাত ও বর্ণভেদে একাকার হয়ে যাওয়ার বক্তব্যে প্রতীয়মান হয়। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মতে, শিল্পরাজ্যে খেলা করার অধিকার সকলের সমান। কারণ এ পৃথিবীতে একমাত্র খেলার ময়দানে ব্রাহ্মণশূদ্রের কোনো প্রভেদ নেই। রাখাল ছেলের সাথে দরিদ্রের ছেলেরও খেলায় যোগ দেওয়ার অধিকার আছে। আর একবার সাহস করে এ জগতে প্রবেশ করলে সাহিত্যজগতের রাজা-রাজড়ার দলে মিশে যাওয়া যায়। অনুচ্ছেদেও বলা হয়েছে, শিল্পী ছবি এঁকে, কবি কবিতা লিখে ও গান লিখে নিজের হৃদয়ানুভূতি ও রূপচেতনা দিয়ে জগতের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে চান। তাঁদের এ কাজ তখনই সম্ভব হয় যখন তিনি রঙে-ঢঙে, আকারে-প্রকারে, ভাষায় সুরে, ছন্দে অন্যের মনে প্রতিফলিত ও সঞ্চারিত করতে পারেন। যিনি এ কাজ করতে পারেন শিল্পরাজ্যে তিনিই রাজা। যেখানে ধর্মের জাতপাত ও বর্ণভেদের কোনো জায়গা থাকে না। সেখানে শিল্পই প্রধান হয়ে ওঠে। তাই বলা যায় যে, প্রবন্ধে বর্ণিত ব্রাহ্মণশূদ্রের মানবাধিকার উপরের অনুচ্ছেদের শিল্পরাজ্যে ধর্মের জাতপাত ও বর্ণভেদ একাকার হয়ে যাওয়ার বক্তব্যে প্রতীয়মান হয়।
উত্তরের সারবস্তু: আলোচ্য প্রবন্ধে বর্ণিত ব্রাহ্মণশূদ্রের মানবাধিকার উপরের অনুচ্ছেদের শেষ বক্তব্যে একাকার হয়েছে।
উপরের অনুচ্ছেদের ‘লক্ষ হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা’ বাক্যাংশ অবলম্বনে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত ‘বিশ্বমানবের সকো সম্বন্দ্ব পাতানোরই নামান্তর’ প্রসঙ্গে তোমার মতামত উপস্থাপন করো।
সাহিত্যের মাধ্যমে লেখকের পাঠক হৃদয়ে স্থান পাওয়ার প্রত্যাশার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রসঙ্গটি যথার্থ। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেন, লেখকেরাও দশজন পাঠকের কাছে হাততালি পাওয়ার প্রত্যাশা রাখেন। বাহবা পেলে তাঁরা আনন্দিতও হন। কারণ তাঁরা শুধু পারিবারিক মানুষ নন, তাঁরা সামাজিক মানুষও। লেখায়, চিন্তায়, চেতনায় বিশ্বমানবের মনের সঙ্গে নিত্যনতুন সম্পর্ক স্থাপন করাই কবি বা লেখক-মনের কাজ। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, চিত্রশিল্পী বা কবি ছবি এঁকে, গান বা কবিতা লিখে নিজের হৃদয়ানুভূতি ও রূপচেতনা দর্শক বা পাঠক মনে ছড়িয়ে দিতে চান। নিজের কাজ দিয়ে জগতের সকল মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে চান। কাজ দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতে চান। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধ ও উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই বর্ণিত হয়েছে শিল্প-সাহিত্যের মধ্য দিয়ে মানব হৃদয়ের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের তৎপরতা। উভয় জায়গায় আমরা দেখতে পাই যে, কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার বা চিত্রশিল্পী সবাই তাঁদের কাজ দিয়ে মানুষের মন আকর্ষণ করতে চান। মানব হৃদয়ে স্থান পেতে চান। তাই আমরা বলতে পারি যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
উত্তরের সারবস্তু: ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধ ও উদ্দীপক উভয় জায়গায় শিল্পী যে তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে মানব হৃদয়ে স্থান পেতে চান সেই কথাই ব্যক্ত হয়েছে।

