• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • সাহিত্যে খেলা [গদ্য]
সাহিত্যে খেলা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

স্কুল মাঠে একদল শিশু আপন মনে খেলায় ব্যস্ত। মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পাড়ার সকলের বেলুমামা। তিনি শিশুদের ডেকে বললেন, ‘তোমরা এমন দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে হাত-পা ভাঙবে, ব্যথা পাবে। তার চেয়ে এসো সবাই বসে পড়ালেখা করি- জান বাড়বে, বিদ্যাবুদ্ধি বাড়বে।’ একটি শিশু বলল, ‘মজাটা কমবে।’ সাথে সাথে সব শিশুরা হেসে উঠল। একে একে সবাই ছুটে পালাল খেলার মাঠে- মনের আনন্দে শুরু করল খেলা।

‘যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা।’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

আনন্দবিহীন উপরি পাওনার লোভে যে খেলা হয় তাকে জুয়াখেলার সাথে তুলনা করা যায়। সাহিত্য হবে নিছক আনন্দের জন্য আর আনন্দময় সাহিত্যই হলো প্রকৃত সাহিত্য। প্রমথ চৌধুরী তাঁর এমন বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, সাহিত্য কেবলমাত্র সাহিত্যিকের হৃদয় নিঃসৃত আনন্দের ঝরনাধারা দিয়েই প্রবাহিত হবে। কেননা, উদ্দেশ্য-প্রধান সাহিত্য রচনা করলে বা অন্যের মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য রচনা করলে তা হবে অত্যন্ত নিম্নমানের সাহিত্য, যা অনেকটা জুয়াখেলার মতোই। কেননা, এতে উপরি পাওনার আশা থাকে। আর প্রকৃত সাহিত্যে থাকে উদ্দেশ্যবিহীন স্বতঃপ্রণোদিত খেলার মতোই নির্মল আনন্দ।

উত্তরের সারবস্তু: প্রকৃত সাহিত্যচর্চায় কোনো উপরি পাওনার আশা থাকে না বরং থাকে খেলাধুলার মতো নির্মল আনন্দ। আর উদ্দেশ্য-প্রধান সাহিত্য অনেকটা জুয়াখেলার মতো। উক্তিটিতে এ বক্তব্যই প্রকাশ পেয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

এ পৃথিবীতে ব্রাহ্মণশূদ্রের প্রভেদ নেই কোথায়?

ব্রাহ্মণশূদ্রের প্রভেদ নেই খেলার মাঠে।

#

উদ্দীপকের বেলুমামা ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের কোন চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়? কেন?

উদ্দীপকের বেলুমামা কেবল শিক্ষাদানকেই মুখ্য মনে করায় তিনি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের শিক্ষক চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে, কাব্য পড়ার ও বোঝার জিনিস কিন্তু শিক্ষকের কাজ হলো বই পড়ানো ও বোঝানো। ফলে কবি-সাহিত্যিকদের সাথে পাঠকের মনের মিলন ঘটে না। শিক্ষকরা সাহিত্যের রূপ দেখান না শুধু তার গুণ শোনান। শিক্ষকদের সাহায্যে শিক্ষার্থীরা কাব্য সম্বন্দ্বে নিগূঢ় তত্ত্ব সম্পর্কে জানতে পারে ঠিকই কিন্তু রস আস্বাদন করতে পারে না। কারণ শিক্ষকরা শুধু জ্ঞান অর্জনকেই মুখ্য বলে মনে করেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, একদল শিশু আপন মনের আনন্দে মাঠে খেলায় ব্যস্ত। বেলুমামা সে মাঠের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শিশুদের আঘাত পাওয়ার ভয় দেখিয়ে খেলতে নিষেধ করেন। তিনি শিশুদের জ্ঞান বাড়াতে বিদ্যাবুদ্ধি বাড়াতে পড়ালেখা করতে বলেন। ফলে আনন্দের বিপরীতে জ্ঞানলাভকে মুখ্য হিসেবে দেখার জন্য উদ্দীপকের বেলুমামা আলোচ্য প্রবন্ধের স্কুলমাস্টার চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের বেলুমামা ও আলোচ্য প্রবন্ধে বর্ণিত শিক্ষকদের উদ্দেশ্য একই। তারা উভয়েই শিক্ষাদানকেই মুখ্য হিসেবে বিবেচনা করেন।

#

“সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন।”- এ বিষয়ে যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন আর তা হলো আনন্দলাভ। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী বলেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো সকলকে আনন্দদান করা। শিক্ষাদান করা নয়। মানুষ স্বেচ্ছায় ও আনন্দে সাহিত্যের রসাস্বাদন করবে। তিনি সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন খেলাধুলার। তাঁর মতে, খেলাধুলায় যেমন নিছক আনন্দই প্রধান, সাহিত্যেও তাই। উদ্দীপকে দেখা যায়, একদল শিশু আপন মনে স্কুল মাঠে খেলায় ব্যস্ত। বেলুমামা তাদের খেলা ছেড়ে পড়ালেখা করতে বলেন। কিন্তু শিশুরা একসাথে সবাই ছুটে পালায়। কারণ তারা জানে খেলায় আনন্দ বেশি। তারা তাই সবাই মনের আনন্দে মাঠে খেলা শুরু করে। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন, খেলাধুলায় যেমন আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই, সাহিত্যের উদ্দেশ্যও তেমনি একমাত্র আনন্দদান করা। মানুষের মনে সাড়া জাগানো। বিষয়টি উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্যের মতো। কারণ তারা জানে খেলা বাদ দিয়ে শুধু পড়াশোনা করলে মজা কমবে। খেলাধুলার মধ্যেই রয়েছে আনন্দ। এ কারণে বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধ উভয় জায়গায় আনন্দ্রলাভই মুখ্য বিষয় তা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। তা সে খেলার মাধ্যমেই হোক বা সাহিত্য পাঠ করে।