• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • সাহিত্যে খেলা [গদ্য]
সাহিত্যে খেলা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

লোক যদি সাহিত্য হইতে শিক্ষা পাইতে চেষ্টা করে তবে পাইতেও পারে, কিন্তু সাহিত্য লোককে শিক্ষা দিবার জন্য কোনো চিত্তাই করে না। কোনো দেশেই সাহিত্য ইস্কুল-মাস্টারির ভার লয় নাই। রামায়ণ মহাভারত দেশের লোকে পড়ে তাহার কারণ এ নয় যে, তাহা কৃষানের ভাষায় লেখা বা তাহাতে দুঃখী-কাঙালের ঘরকন্নার কথা বর্ণিত। তাহাতে বড়ো বড়ো রাজা, বড়ো বড়ো রাক্ষস, বড়ো বড়ো বীর এবং বড়ো বড়ো লেজের কথাই আছে। আগাগোড়া সমস্তই অসাধারণ। সাধারণ লোক আপনার গরজে এই সাহিত্যকে পড়িতে শিখিয়াছে।

“উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলবক্তব্য প্রস্ফুটিত হয়েছে।” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলবক্তব্য শিক্ষাদান নয়, আনন্দ দেওয়াই সাহিত্যের উদ্দেশ্য, বিষয়টি প্রস্ফুটিত হওয়ায় বক্তব্যটি যথাযথ। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো সকলকে আনন্দদান করা, কাউকে মনোরঞ্জন করা বা শিক্ষা দেওয়া নয়। কেননা, কবির মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীত। শিক্ষা লোকে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়, অপরদিকে কাব্যরস লোকে স্বেচ্ছায় ও সানন্দে লাভ করে। তাই প্রাবন্ধিক স্পষ্ট করেই বলেছেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষাদান করা নয়। উদ্দীপকেও বলা হয়েছে, মানুষ সাহিত্য থেকে শিক্ষালাভ করতে পারে কিন্তু লোককে শিক্ষা দেওয়ার জন্য সাহিত্য রচিত হয় না। কারণ সাহিত্য কখনোই স্কুল মাস্টারির ভার নেয়নি। সাধারণ-মানুষ নিজের ইচ্ছায় নিজের গরজে সাহিত্য পড়ে। রামায়ণ-মহাভারতের মতো সাহিত্য বই মানুষ জ্ঞানলাভের জন্য পড়ে না। উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধ উভয় জায়গায় একটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে যে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষা নয়। প্রাবন্ধিকের মতে, শিক্ষার উদ্দেশ্য জ্ঞানের বিষয় জানানো, পক্ষান্তরে সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনে সাড়া জাগানো। উদ্দীপকেও বলা হয়েছে, মানুষ নিজের ইচ্ছায় সাহিত্যরস আস্বাদন করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের মূলবক্তব্য প্রস্ফুটিত হয়েছে।

উত্তরের সারবস্তু: মানুষ সাহিত্য থেকে শিক্ষা অর্জন করতে পারে কিন্তু শিক্ষাদান সাহিত্যের উদ্দেশ্য নয়; সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

‘যোগবশিষ্ঠ রামায়ণ’ রচয়িতা কে?

‘যোগবশিষ্ঠ রামায়ণ’-এর রচয়িতা বশিষ্ঠ মুনি।

#

উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের ভাবগত মিল কতখানি? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপক এবং ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষাদান সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য না হওয়ার বিষয়টি লক্ষ করা যায়। প্রমথ চৌধুরীর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্দ্বে স্পষ্ট করেছেন, সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য কখনোই শিক্ষা প্রদান হতে পারে না। কারণ, শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য একেবারেই পৃথক। শিক্ষার উদ্দেশ্য মানুষকে জ্ঞানের কথা জানানো আর সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো মানুষের মনকে জাগানো। উদ্দীপকে সাহিত্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সাহিত্যের মাধ্যমে লোকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু মানুষকে শিক্ষা প্রদান করা সাহিত্যের উদ্দেশ্য নয়। সাহিত্য কাউকে উদ্দেশ্য করে রচিত হয় না, কিন্তু বড়ো বড়ো সাহিত্যকর্ম মানুষ নিজের আগ্রহেই পাঠ করতে শিখে নেয়। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধেও এই ভাবনা ফুটে উঠেছে। তিনি এ প্রবন্ধে দেখিয়েছেন, সাহিত্য ও শিক্ষা পুরোপুরি পৃথক এবং মহৎ সাহিত্যকর্ম উদ্দেশ্যহীন- পাঠক স্বেচ্ছায় এর রস আস্বাদন করার চেষ্টা করে। সুতরাং, উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের ভাবগত মিল অনেকখানি, এ কথা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠেই বলা যায়।

উত্তরের সারবস্তু: শিক্ষা প্রদান সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য নয়- উদ্দীপকের এই ভাবগত দর্শনই ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলভাব। সুতরাং, উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের ভাবগত মিল অনেকখানি- এ কথা দ্বার্থহীন কণ্ঠেই বলা যায়।